140>|| মুর্শিদাবাদ,সারগাছি রামকৃষ্ণ মিশন ||
মুর্শিদাবাদ এক সময় বাংলা-বিহার-ওড়িশার রাজধানী ছিল। এখানে সিরাজউদ্দৌলার পাশাপাশি রানি ভবানীও ছিলেন। বলা হয়, তিনিই প্রথম বাঙালি রানি, যাঁর আমলে বারাণসী পর্যন্ত পাকা রাস্তা, সরাইখানা, শিব মন্দির, দুর্গা মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একাধিক জলের ট্যাঙ্ক তৈরি হয়।
মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জে এখানে ঢোকার মুখে প্রথমে রয়েছে পির দরগা, তার পর চার্চ, জৈনদের উপাসনাকেন্দ্র এবং বারোদুয়ারিতে দুর্গা মন্দির, গঙ্গার ধারে রেল লাইনের কাছে বাশুলী তলা।
এ সবই পুরনো স্থাপত্য বহু ইতিহাসের সাক্ষী। এই আজিমগঞ্জে শায়িত রয়েছেন সিরাজউদ্দৌলা ও তাঁর বংশধরেরা। মুর্শিদকুলি খাঁ-র নাম থেকেই মুর্শিদাবাদ। তাঁর সময় বহরমপুর ছিল সদর শহর। আর একটু পেরিয়ে সাতগাছিতে ( বা সারগাছিতে) তৈরি হয়েছিল প্রথম রামকৃষ্ণ মিশন।
জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জে জৈন সম্প্রদায়েরই ১৩টি সুদৃশ্য, বিশাল মন্দির রয়েছে। তার মধ্যে গুলজার বাগে আম, নারকেল,সুপারি গাছের বাগান আর পুকুর নিয়ে 32 বিঘা জমি জুড়ে শ্বেত পাথরের
'দাদারস্তান' বা পার্শ্বনাথের মন্দির।
কাঁসার কাজে মুর্শিদাবাদ অতুলনীয়।
এ ছাড়া গরদ, পিয়োর সিল্ক যা 'মুর্শিদাবাদি সিল্ক' নামে পরিচিত, আজও পৃথিবীখ্যাত।
সেই সময় মুর্শিদাবাদ ছিল শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, সাহিত্যের পীঠস্থান। শরৎ পণ্ডিত বা দাদাঠাকুরের বাড়িও এই জেলাতেই।
পুরাতত্ত্ব বিষয়ে লেখক রামদাস সেনও এই জেলার নাম উজ্জ্বল করেছেন।
সম্পূর্ণ অনুবাদ সাহিত্যের একমাত্র পত্রিকা অনুবাদ পত্রিকা-র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বৈশম্পায়ন ঘোষালও এখানকারের ভূমিপুত্র।
ষোড়শ শতকের শেষ থেকেই এখানে মুসলিম আধিপত্য।
আকবরের সময় মকসুখ খাঁ এখানে এসেছিলেন পর্তুগিজদের বাংলা-বিহার-ওড়িশা থেকে তাড়ানোর জন্য। তার পর এলেন মুর্শিদকুলি খাঁ। ফলে ক্রমশ জনসংখ্যা বাড়ল। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে স্বাধীনতার সময় তিন দিনের জন্য মুর্শিদাবাদ পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু তার পরেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় ছিল। এর পর নকশাল আন্দোলনের ঢেউ এই জেলাকে ভীষণ ভাবেই প্রভাবিত করেছিল। সেই সব অশান্ত দিন অতিক্রান্ত করে মুর্শিদাবাদের মানুষ সব সময়ই মাথা উঁচু করে সম্প্রীতি বজায় রেখে চলছেন।
সেবাতীর্থ আশ্রমে ধান্যগঙ্গা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র বিশেষ উল্লেখ যোগ্য প্রতিষ্ঠান।
=====================
■■■■■■■■■■■■■■■■■
■■■■■■■■■■■■■■■■■■
মুর্শিদাবাদের সারগাছি রামকৃষ্ণ মিশন পৌঁছবার বিস্তারিত নির্দেশিকা:---
মুর্শিদাবাদের সারগাছি রামকৃষ্ণ মিশন (পিন-৭৪২৪০৮) পৌঁছাতে বহরমপুর বা বেলডাঙা থেকে সড়কপথে সহজেই যাওয়া যায় ।
কলকাতা বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে বেলডাঙা স্টেশনে নেমে অটো বা টোটোয় সরগাছি আশ্রম আসা সবচেয়ে সুবিধাজনক।
ট্রেনে (সবচেয়ে সুবিধাজনক): শিয়ালদহ বা কলকাতা স্টেশন থেকে লালগোলা গামী ট্রেনে উঠে বেলডাঙা (Beldanga) স্টেশনে নামতে হবে । স্টেশন থেকে টোটো বা অটোতে সারগাছি রামকৃষ্ণ মিশন (সরগাছি আশ্রম) আসা যায়।
সড়কপথে: কলকাতা থেকে বাসে বা গাড়িতে বহরমপুর হয়ে NH34 ধরে বেলডাঙা পার হয়ে সরগাছিতে পৌঁছানো যায়।
নিকটবর্তী শহর: বেলডাঙা শহর থেকে এটি খুব কাছে, এটি মূলত বেলডাঙা থানার অন্তর্গত ।
যোগাযোগ: সরগাছি রামকৃষ্ণ মিশন হাই স্কুল (H.S) পিনকোড ৭৪২৪০৮ ।
শান্ত পরিবেশের এই আশ্রমটি স্বামীজির অন্যতম প্রধান কর্মক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।
=====================