Sunday, July 30, 2023

109>|| ভ্ৰমন ভবঘুরে ||(1--3)

    1>|| ভ্ৰমন ভবঘুরে ||

আমি ভবঘুরে এক পথিক,

আমি ভ্রমণ পিপাসু পথিক,

চিরদিনের পথিক, চিরকালের পথিক।

আমি জানতে চাই  প্রকৃতিকে ,ভালোবাসি 

চলার পথকে। একমাত্র ভ্রমনেই পাওয়াজায় অসীম আনন্দ ও জীবনের ছন্দ, খুঁজে পাওয়া যায় ও চেনা যায় নিজেকে আদর করে ভালোবেসে প্রকৃতির সাথে মিশে খুঁজে পাওয়া যায় জীবনের গভীর ভালোবাসাকে, যে ভালোবাসা কোনদিন হারাবেনা, চিরদিন থাকবে হৃদয়ের অন্তরাত্মার সাথে হৃদয়ের 

গভীরে।

আমি চলতে ভালোবাসি তাই এগিয়ে চলি,

দেশ থেকে দেশান্তরে, আর এভাবেই 

পৌঁছতে চাই জীবন থেকে অনন্ত জীবনের পথে। যেখানে আছে শুদু প্রকৃতির অপরূপ ছন্দ, শান্ত নিবিড় মহাজাগতিক গভীর মনের একান্ত ছন্দ আর সুনিবিড় আনন্দ। 


ভ্রমণে যেমন প্রকৃতিকে চেনা যায় তেমনি নিজেকেও জানা যায়, আর খুঁজে পাওয়াজায় বেঁচে থাকার ছন্দ ও আনন্দ,

আর সেই কারণেই আমি ভ্রমন করি,

ভ্রমন করতে ভালোবাসি।

=========================

2°>ভ্রমণ এক নেশা------

আর নেশা অর্থেই আসক্তি ও আকর্ষণ,

আমরা নেশা বলতে বুঝি মদ,দারু, চুল্লু, হাড়িয়া, ধেনো, মহুয়া, তাড়ি ,কিম্বা সিগারেট, গাঁজার নেশা।

এ ছাড়াও কিছু সৎ, অসৎ নেশা আছে

যেমন ভোগের নেশা, পড়ার নেশা, চোখের নেশা, পথ চলার নেশা, মাছ ধরার নেশা।

শিকারের নেশা আরও আছে কতো কতো নেশা। 

নেশা মাত্রেই এক প্রকার অভিভূত অবস্থা অথবা বিবশতা।

=======================

3>মনোরম এক প্রভাত::--

নদীর তীরে এক ঋষির তপোবন 

বিহগ কলতানে মুখরিত সেই স্থান। 

শরতের নির্মেঘ আকাশে ভোরের সূর্য যেন ছড়িয়ে দিচ্ছে তার আলোক রশ্মি।

ভোরের শান্ত নদীর বুক থেকে অতি মধুর শীতল হাওয়া তীরস্থ বৃক্ষশাখাগুলিকে স্পর্শ করে যাচ্ছে, সেই কারণে মৃদু পত্রমর্মর শোনা যাচ্ছে।

পুষ্পবিতানে মকরন্দ-অভিলাষীর ভিড়,

মৌমাছির গুণ গুণ চারি দিক অস্থির।

নির্মেঘ আকাশে বালার্কের রক্তিম রেখা,

বিহগকলতানমুখরিত পলাশের শাখা।

        <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

======================






Saturday, July 29, 2023

108>|| দিঘা,শঙ্করপুর, বগুরান জলপাই, তালশারী:::---

 108>দিঘা,শঙ্করপুর, বগুরান জলপাই,

তালশারী:::---



তালশারী মোহনার কাঁকড়া।


দিঘাতে আমি বহুবার গেছি।

2973 থেকে 1975 এই সময়ে প্রায় দেড় বৎসর আমি এই অঞ্চলে ছিলাম।

এখানে অনেক কাজ করেছি।

সমুদ্র বীচের ভাঙন রোধ করার জন্য

সমুদ্রের বীচে বোল্ডার বসানো।

লোহার জালে বোল্ডার জড়িয়ে বীচে বসিয়ে বীচের ভাঙন রোধ করার প্রচেষ্টা।

এসকল কাজ করেছি আমার নিজের দাদা ও তার শশুর মহাশয়ের আন্ডারে।

কারণ ওনারা কোন্টাক্টে এই সকল কাজ নিয়ে ছিলেন।আমি সাইটে থেকে সম্পুর্ন কাজের দেখা শুনা করতাম।

শুধু দীঘার নয় দীঘার পাশে রামনগরের পানিপারুল নামক জায়গাতে এক সাইফন তৈরিতে তদারকি করেছিলাম।

এই সকল কারনেই বি এস সি পরীক্ষার পরেই মিদনাপুরে থেকে সকল কাজ করেছি। তখনও নর ঘাট ব্রিজ হয়নি।

কাজ চলছিল। এক একটি করে পিলার ঢালাই করে, তারপরে হঠাৎ হঠাৎ পিলার গুলি হেলে পড়তো। এমনি করে বহু চস্টার পরে পিলার গুল


দীঘা সমুদ্র সৈকত::--

 

দীঘা (Digha) কলকাতা থেকে মাত্র ১৮৭ কিলোমিটার দূরে মেদিনিপুর জেলায় সমুদ্র, বালিয়াড়ি, ঝাউ বন সব মিলিয়ে 

অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,  পর্যটকদের মনের মতন ভালো লাগার সমুদ্র সৈকত।


এখানে ৭ কিলোমিটার লম্বা সমুদ্রতট 

আর গভীর সমুদ্র।

সমুদ্রের ঢেউ-এর জলে পা ভিজিয়ে হেঁটে যাওয়া যায় দীর্ঘ পথ। সকালের সমুদ্র তটে দেখা মিলবে পায়ে পায়ে হেঁটে চলা নানা বর্ণের শামুক, ঝিনুক এবং ছোট বড় শঙ্খের। একটার পর একটা ক্লান্তিহীন অবিরত সমুদ্রের বুকে তৈরি হওয়া বিরাট বিরাট ঢেউ আছড়ে পড়ছে সমুদ্রতটের বালিয়াড়িতে। যতদূর চোখ যায়, ঠিক যেখানে জল আর আকাশ একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে ঠিক সেই জায়গাটায় অন্ধকার সরিয়ে প্রথম ভোর হয়।


দীঘায় দু’টি সৈকত রয়েছে একটি পুরানো দীঘার সৈকত, অপরটি নতুন দীঘার সৈকত। 

দীঘার বীচ শক্ত, জমাট। ভারতের সব চেয়ে শক্ত সৈকত। এই সৈকতভূমি দিয়ে গাড়ি চালানো যায় অনায়াসে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টারও নামতে পারে এই সৈকতে।


দীঘা সমুদ্রস্নানের উপযুক্ত হলেও সমুদ্র অনেকটা এগিয়ে আসায় কংক্রিট দিয়ে বাঁধানো হয়েছে পাড়। বাজারের কাছে অনেকটা জায়গা জুড়ে পর্যটকদের স্নানের ভিড় লেগে থাকে। যাত্রী চাহিদা মেটাতে দীঘার সৈকত প্রসারিত হয়েছে নিউ দীঘা (New Digha) পর্যন্ত। নিউ দীঘার সৈকতটি তুলনায় প্রশস্ত, ঝাউগাছে মোড়া। স্নান করার জন্য নিউ দীঘার সী বীচ আদর্শ। ওল্ড দীঘাতে একটি বিশেষ স্থান চিহ্নিত করা আছে, শুধুমাত্র সেখানেই স্নান করা যায়, অন্য সব জায়গায় বোল্ডার থাকার দরুন নিরাপদ নয়। ওল্ড দিঘাতে সেই স্নানের জায়গাটি (স্নানঘাট) sea hawk হোটেল ছাড়িয়ে আরও ৫মিনিটের হাঁটা দূরত্বে।



দীঘায় দর্শনীয় স্থান গুলি::---

দীঘা থেকে বেড়িয়ে নেওয়া যায় ●অমরাবতী লেক, ●সর্প উদ্যান, ●দ্যা মেরিন অ্যাকরিয়াম অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, ●দীঘা বিজ্ঞান কেন্দ্র, ●সায়েন্স পার্ক প্রভৃতি। আরও এগিয়ে একেবারে ওড়িশার লাগোয়া ●উদয়পুর সৈকত। কিয়াগেড়িয়া মোড় থেকে বাঁ দিকে যে রাস্তা বরাবর সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে তার ডান দিকে ওড়িশা আর বাঁ হাতে পশ্চিমবঙ্গ। সেই রাস্তা মিশে গিয়েছে উদয়পুর সৈকতে। বছরকয়েক আগেও উদয়পুর ছিল নিরিবিলি, নির্জন। আজ জমজমাট। এখন যেন পর্যটকদের মেলা বসে। রকমারি বিনোদনের আয়োজন সেই সৈকতে। আগে এখানে থাকার কোনও ব্যবস্থা ছিল না। এখন পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের নৈশাবাসের ক্যাম্প আছে।


দীঘা থেকে ঘুরে আসা যায় ৬ কিলোমিটার দূরের ★চন্দনেশ্বর মন্দির। ওড়িশা এর এই মন্দিরটি বেশ জনপ্রিয়।


আবার ২ কিলোমিটার দূরে যাওয়া যায় ●তালসারি সমুদ্রসৈকত। এখানেও দু’টো দিন কাটানো যায়, ওড়িশা পর্যটনের পান্থনিবাসে।

●তালসারিগেলে দেখাযায় লাল কাঁকড়ার ঝাঁক।


দীঘা শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের অফিসের নিচে দেখানো হয় ●7D Adventure Show.অমরাবতি পার্কের শেষে উল্টো দিকে রাস্তার ঠিক উপরে এই অফিস। গঠনের জন্য অনেকে একে ●জাহাজ বাড়িও বলে। সকাল ৯টা থেকে প্রতি ৩০ মিনিট পরপর হয় এই show. ১০০ টাকা জনপ্রতি টিকিট কিনতে হয় ওখানে গিয়ে, অনলাইনে ব্যবস্থা নেই। ঘুরতে গিয়ে রোলাকোস্টায় চেপে ডায়নোসরদের সাথে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে বেশ ভালোই লাগবে সকলের। তবে সবথেকে বেশি মজা করবে ছোটরা। 



দীঘা কিভাবে যাবেন::--

কলকাতা থকে ১৮৭ কিলোমিটার দূরত্বের দিঘার সমুদ্র শহরে যাওয়ার জন্য আছে রেলপথ। কলকাতা থেকে রেলে চেপে পৌছনো যায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার মধ্যে। রেল স্টেশনটি নতুন দীঘায়। 


((--হাওড়া-- দীঘা  ট্রেন গুলি হলো –


12857 তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস প্রতিদিন সকাল ৬:৩৫ মিনিটে।

15722 পাহাড়িয়া এক্সপ্রেস (কেবলমাত্র শনিবার) সকাল ৭:৫০ মিনিটে।

12847 সুপার এসি এক্সপ্রেস প্রতিদিন সকাল ১১:১০ মিনিটে।

22897 কান্ডারী এক্সপ্রেস প্রতিদিন দুপুর ২:১৫ মিনিটে।

এছাড়াও একটি EMU লোকাল ট্রেন চলে মেচেদা থেকে দীঘা পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৭:৪৮ মিনিটে। 


হাওড়া থেকে (( আমতা বা উলুবেড়িয়া লোকাল বাদে ))   যেকোনো লোকাল ট্রেনে মেচেদা নেমে এই মেচেদা--দীঘা

ট্রেনটি ধরা যেতে পারে। 


তবে সবচেয়ে ভালো হয় একদম সকালের ট্রেন তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস। সেজন্য ভালোই ভিড় হয়। অবশ্যই reservation করে নেবেন। ১০০টাকা ভাড়া।))


কলকাতার বিভিন্ন জায়গা থেকে 

বিভিন্ন সময়ে দীঘার বাস পাওয়া যায়। 

এ ছাড়াও আসানসোল, বর্ধমান, দুর্গাপুর, হলদিয়া, মেদিনীপুর ইত্যাদি পশ্চিমবঙ্গের বড় শহরগুলি থেকে দীঘার বাস ছাড়ে।


বাসে ৫ থেকে সাড়ে ৫ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাবেন দীঘা। মাঝ পথে থাকবে কিছুক্ষণের বিশ্রাম। বাস থামে পুরানো দীঘায়।


কোথায় থাকবেন

দীঘা শহরে ঢোকার মুখে সমুদ্র সৈকত থেকে কিছুটা দূরে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের ট্যুরিস্ট লজ। শহরের শুরুতেই দীঘা ডেভেলপমেন্ট স্কিমের সৈকতাবাস। এ ছাড়া রয়েছে বেনফিশের হোটেল মীনাক্ষি। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের কলকাতা অফিস থেকেও বেনফিশের হোটেল বুকিং করা যায়। আর ডিরেক্টরেট অব সোশাল ওয়েলফেয়ার-এর কল্যাণ কুটির রেস্ট হাউস। এছাড়াও দীঘা ও নিউ দিঘা জুড়ে নানান সংস্থার হলিডে হোম ও বেসরকারি অজস্র হোটেল রয়েছে।


========================

শঙ্করপুর সৈকত।::--


পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দিঘা-কাঁথি রোডের পাশেই শঙ্করপুর। কলকাতা থেকে প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার, দিঘা থেকে মোটামুটি ১৪ কিলোমিটার দূরে।


সড়কপথে  কাঁথি-দিঘা রোড ধরে রামনগরের ঠিক আগে চৌদ্দ মাইলে গিয়ে বাঁদিকে ঘুরতে হবে। প্রাইভেট কারে

কলকাতা থেকে শঙ্করপুর পৌঁছোতে সময় লাগে ৫ ঘণ্টার মতো।

আবার  ধর্মতলা থেকে দিঘাগামী বাসে করেও  যাওয়া যায়। 


দিঘাগামী ট্রেনেও শঙ্করপুর যাওয়া যায়। তাহলে নামতে হবে রামনগর স্টেশনে। সেখান থেকে শঙ্করপুর ট্রেকারে। 


দিঘার থেকে শঙ্করপুরের সৌন্দর্য অনেকটাই আলাদা। দীর্ঘ বেলাভূমি যেন অফুরন্ত। দক্ষিণ দিকে হাঁটতে থাকলে ৪৫ মিনিটে পৌঁছে যাবেন মন্দারমণি। 


সৈকতের মজা ভালোভাবে নিতে চাইলে বেনফিস ট্যুরিস্ট লজের দিকটায়ই উপযুক্ত জায়গা।


বর্ষাকালই শঙ্করপুর বেড়াতে যাওয়ার আদর্শ সময়। সমুদ্রের ওপরে ভিড় করেছে কালো মেঘ, আকাশে মাঝেমধ্যে বজ্রের ঝলকালি, হঠাৎ বৃষ্টি – সব মিলিয়ে দারুণ পরিবেশ। শীতকালে অবশ্য শঙ্করপুরের আরেক মোহময়ী রূপ। শহরে যাঁরা থাকেন, মুগ্ধ হয়ে যাবেন। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মায়াবী দৃশ্য তো আছেই। আর সমুদ্রের ধারে  সিফুড খাওয়ার মজাই আলাদা। পশ্চিমবঙ্গে সরকার পর্যটকদের জন্য শঙ্করপুরকে ঢেলে সাজিয়েছে। 


মৎস্যবন্দর হিসেবেও খ্যাতি পেয়েছে শঙ্করপুর। সমুদ্রের ধারে দেখতে পাবেন, মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। কেউ বা ঠিক করে নিচ্ছেন জাল। 

====================







=====================

বগুরান জলপাই( কন্টাই )::--


বগুরান জলপাই। বাসে কন্টাই বা কাঁথি। সেখান থেকে  টোটো ধরে ১৫-২০ মিনিটের পথ এই বগুরান।

আবার ট্রেনেও পৌঁছনো যায়,

কাঁথি স্টেশন থেকে বগুরান যাওয়া যায়।

এই বগুরানে কিন্তু সমুদ্র শান্ত।

এখানে সমুদ্রে নাই তেমন দাপাদাপি না আছে তেমন ঢেউয়ের প্রভাব।

  সমুদ্র এখানে দীঘা বা পুরীর মতো মাতাল নয়। বরং অনেকটাই শান্ত এই জায়গাটি। সমস্ত পরিবেশ টাই বেশ শান্ত ও নিরিবিলি।

কলকাতা থেকে ঢিলছোঁড়া দূরত্বে এই নিরিবিলি শান্ত সমূদ্রতটে কাটিয়ে দেওয়া যায় এক বেলা।

শান্ত সমুদ্রতটে বসে সময় কাটাতে চাইলে এটাই আদর্শ জায়গা। চওড়া বিচে এখান ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে লাল কাঁকড়ারা। জোয়ারের টানে তীরে এসে ওঠে এগুলি। আর তার সাথে মাতাল করা নোনা হাওয়া, ঘন ঝাউবন। সবে মিলিয়ে সত্যিই উপভোগ করার মতো জায়গা এটি।

আবার এই বগুরান জলপাই এর পাশেই রয়েছে জুনপুট আর বাঁকিপুট। এছাড়া এখানে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত কপালকুণ্ডলা মন্দিরটিও আছে এখানে।

আর আছে  দেখার মতো দরিয়াপুর লাইট হাউস। 


কম খরচে ঘুড়ে আসা যায় এই বগুরান জলপাই থেকে ।



বর্তমানে এখানে থাকার একটিই রিসর্ট রয়েছে। এই রিসর্টের নাম হলো সাগর নিরালা রিসর্ট। এখানে ঘর আর কটেজ দুই রকমই ব্যবস্থা রয়েছে আর তাও আবার খুবই কম ভাড়াতে। রিসর্ট থেকে ২ মিনিট দূরত্বেই বিচ। যদিও সাইট সিন করার মতো কোনো জায়গা নেই। তবে দৈনন্দিন জীবনের হইহট্টোগোল থেকে একটা দিনের ছুটি কাটাতে চাইলে এটি একদম আদর্শ জায়গা।

=========================

=======================



107>|| মধ্য প্রদেশের ওর্ছা :--চতুরভূজ মন্দির

 107">মধ্য প্রদেশের ওর্ছা :--চতুরভূজ মন্দির

12/07/1979::---

চতুরভূজ মন্দির ওরচা বা  ওর্ছা-


ওর্ছা (ইংরেজি: Orachha) ভারতের 

মধ্য প্রদেশ রাজ্যের নিওয়ারী জেলার একটি নগর পঞ্চায়েত-শাসিত শহর।

অযোধ্যার রাম যে কিনা ওড়ছার রাজা,

এই ওড়ছা নগরী 600 সাল পুরানো নগর শহর।

1979 জুলাই মাসে গিয়ে ছিলাম 

উত্তর প্রদেশের ঝাঁসি চারদিন ঝাঁসি ভ্রমণের পরে গিয়ে ছিলাম ঝাঁসি থেকে ১৫ কিমি দূরে ওড়ছা বা ওর্ছা নগর শহরে,

রামমন্দির দর্শনে।

শুনেছি ভারতে একমাত্র স্থান যেখানে শ্রীরামচন্দ্র  রাজা রূপে পূজা পান।


১৫০১ সালের কিছু সময় পরে রাজপুত শাসক রুদ্র প্রতাপ সিং দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । তিনি ওর্ছা দুর্গও তৈরি করেছিলেন। চতুর্ভুজ মন্দিরটি ওর্ছার রাণী গণেশ কুঁওয়ার (गणेश कुँवर) দ্বারা নির্মিত , রাজ মন্দিরটি 'রাজা মধুকর শাহ' তাঁর শাসনামলে, ১৫৫৪ থেকে ১৫৯১ সালে নির্মাণ করেছিলেন।


★★উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা নগরীর ভগবান রামের ভব্য মন্দিরের শিলা স্থাপনের সাথে সাথে নুতন যুগের সূচনার আবেগে বুন্ডেল খণ্ডের অযোধ্যা ওরছা বা ওর্ছা তেও নানান হল চল শুরু ।


ওর্ছা নগর টি বেতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত, টিকামগড় থেকে ৮০ কিমি 

এবং উত্তর প্রদেশের ঝাঁসি থেকে ১৫ কিমি দূরে।


ওর্ছার নিকটতম বিমানবন্দর হল গোয়ালিয়র বিমানবন্দর ।


ওর্ছা রেলওয়ে স্টেশন হল উত্তর মধ্য রেলওয়ের ঝাঁসি- মানিকপুর সেকশন ।  ওর্ছা স্টেশনে নেমে অটোরিকশা নিয়ে মন্দির কমপ্লেক্সে যাওয়া যায়।


বীরাঙ্গনা লক্ষ্মীবাই জংশন (ঝাঁসি)- প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস এখানের প্রধান ও একমাত্র সংরক্ষিত ট্রেন (অবাতানুকুল)।


ওর্ছা তে ভগবান রাম চন্দ্রের মন্দির বিশেষ করে তোর জোরে রাম চন্দ্রকে ভগবার রূপে নয় এখানে রামচন্দ্রকে রাজা রূপেই প্রাধান্য বেশি বিবেচিত হয়।


বুন্ডেল খণ্ডের অযোধ্যা ওর্ছা নগরীর সাথে অযোধ্যার সম্পর্ক 600 সাল পুরানো।

এখানে রাম ভগবান রূপে নয় রাজা রূপেই মান্যতা পায়।

সেই কারণেই এখানে চার বার আরতির সময় পুলিশের দ্বারা সেলামি দেওয়া হয়।

এখানে এমন প্রথা যে এখানে কোন ভক্ত ই

রাজার চোখে চোখ রাখেন না। বরঞ্চ ভক্ত শ্রী রামচন্দ্রের চরণের দিকেই নজর রাখেন।

এখানে প্রসাদ রূপে ভোগের সাথে পানের খিলি ও সুগন্ধ যুক্ত আতরে ভেজান তুলোর সলতে ভক্তদের দেওয়া হয়।


সমীক্ষায় জানাজায় যে  ওর্ছা রাজবংশের রাজা মধুকর শাহ ছিলেন কৃষ্ণ ভক্ত এবং ওনার স্ত্রী কুংঅর গণেশ ছিলেন রাম ভক্ত।

সেইকারণে দুজনের মধ্যে সর্বদা তর্ক বিতর্ক লেগেই থাকতো।

একদিন মধুকর শাহ ব্যঙ্গ করে রানীকে বৃন্দাবন যাবার জন্য অনুরোধ করে 

বললেন যে "তোমার  রাম যদি সত্যি কারের থাকেন তবে তুমি রামকে অযোধ্যা থেকে -ওর্ছাতে নিয়ে এসো"।

এরপরে শোনাজায় যে রাণী কুংঅর গণেশ ওরছা থেকে অযোধ্যাতে গিয়ে 21 দিন তপস্যা করেণ। কিন্তু রামজি আবির্ভূত হলেন না, সেই কারণে মনের দুঃখে রানী সরযূ নদীতে ঝাঁপ দিলেন।


আর তখনই হঠাৎ রানীর কোলে শ্রী রাম 

এসে উপস্থিত হন, তখন রাণী কুংঅর গণেশ শ্রী রামজীকে ওর্ছা যাবার জন্য নিবেদন করেন।

শ্রী রাম রাজি হলেন এবং কিছু শর্ত রাখলেন।

প্রথম শর্ত::-- শ্রী রামকে ওর্ছাতে রাজা রূপে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।


দ্বিতীয় শর্ত ::--শ্রী রামজীর মূর্তি একবার যেস্থানে বসাবে সেই স্থানথেকে তাঁকে আর সরান যাবে না।


তৃতীয় শর্ত:;--শ্রী রামজীকে নিয়ে  পুণ্য নক্ষত্রেই যেতে হবে পায়ে হেটে অযোধ্যা থেকে ওর্ছা।

রানী সকল শর্ত মেনে নিয়ে ছিলেন।

 স্থানিয় জ্ঞানী পন্ডিত রবিশঙ্কর তিওয়ারিজীর কথা অনুসারে জানাজায় যে কুংঅর গণেশ তার আরাধ্য শ্রী রাম জীকে নিয়ে অযোধ্যা থেকে যখন ওর্ছা পৌঁছলেন,

তখন ভব্য মন্দিরে নির্মাণ কার্য চলছিল,

এমন পরিস্থিতিতে রানী তাঁর আরাধ্য শ্রী রামজীকে নিয়ে গিয়ে রাজবাড়ীর রন্ধন গৃহে বসিয়ে দিলেন।


এবারে শ্রী রামজীর শর্ত অনুসারে ওই রন্ধন গৃহ থেকে তাকে আর স্থানান্তর করা সম্ভব না হবার কারনে রানী ওই রন্ধন গৃহকেই ভব্য মন্দির রূপে রূপান্তরিত করলেন।

আর সেই কারণে মন্দির সীমানায় কোন গাড়ি লাইট জ্বলিয়ে আসা মানা এবং 

কোন কাউকেই মন্ত্রী,অথবা অধিকারী কাউকেই কোন সেলামি বা নমস্কার জানানো হয় না।

এখানে শুধু রাজা রামকেই চার বার সেলামি দেওয়া হয়।







তিয়ারি জি বললেন শ্রী রাম ওর্ছার রাজা হায়,দিনে তিনি ওর্ছাতেই থাকেন

সায়ন কালে অযোধ্যায় বসেন।

ইসলিয়ে কহা জাতা হায় কি

রামরাজা সরকারকে দো নিবাস হায় খাস

দিবস ওর্ছা রহতা হায় রাত অযোধ্যা বাস।

দিনভর পুজো পার্বন ও চার বার সেলামি দেবার পরে, সন্ধ্যা আরতির শেষে, রাত্রে শয়ন কালে স্ত্রীরামরাজাকে নিয়ে গিয়ে ভূগর্ভস্থ হনুমান মন্দিরে পৌঁছে দিতে হয়।

তখন হনুমানজী নিজে শ্রী রামরাজকে নিয়ে গিয়ে অযোধ্যাতে পৌঁছে দেন।

রাজার শয়নের জন্য।

 



চতুরভূজ মন্দিরে দেবতা চতুর্ভূজ বিষ্ণু 

 চতুরভূজ 'চতুর' অর্থ "চার" এবং "ভুজ" অর্থ "বাহু" এর সংমিশ্রণ যা আক্ষরিক অর্থে "চার বাহুবিশিষ্ট" 


 মন্দির টি একটি জটিল বহুতল কাঠামোগত দৃশ্য রয়েছে যা মন্দির, দুর্গ এবং প্রাসাদের স্থাপত্য বৈশিষ্টগুলির সংমিশ্রণ।


মন্দিরটি মূলত রামের প্রতিমাটিকে প্রধান দেবতা হিসাবে তৈরি করার জন্য নির্মিত হয়েছিল, যা অর্চনা দুর্গ কমপ্লেক্সের ভিতরে রাম রাজা মন্দিরে স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে একটি চিত্র রাধা কৃষ্ণ মন্দিরে পূজা হয়। মন্দিরটি একটি  খ্যাতিমান লম্বা বিমান মধ্যে হিন্দু মন্দির 344 ফুট দাঁড়িয়ে।


মন্দিরটি অর্কিচা শহরে অবস্থিত, এর সীমার বাইরে ওড়ছা ফোর্ট কমপ্লেক্স, রাম রাজা মন্দিরের দক্ষিণে। এটি বেতওয়া নদীর তীরে গঠিত একটি দ্বীপে। Orccha এয়ার মাধ্যমে অ্যাক্সেসযোগ্য গোয়ালিয়র ১১৯ কিলোমিটার দূরে বিমানবন্দর; নিয়মিত বিমানগুলি চালিত হয় দিল্লি এবং ভোপাল । রাস্তা দিয়ে এটি এর কাছ থেকে কোনও পরিবর্তন থেকে অ্যাক্সেসযোগ্য ঝাঁসি -খাজুরাহো হাইওয়ে. নিকটতম রেল-মাথা ঝাঁসি যা 16 কিলোমিটার (9.9 মাইল) দূরে।


মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল বুন্দেলা রাজপুত রাজ্যের ওরচা এর রাজত্বকালে মোগল সম্রাট আকবর.নএর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল মধুকর শাহনএবং তার পুত্র দ্বারা সম্পূর্ণ, বীর সিং দেও 16 শতকে। মধুকর শাহ তাঁর স্ত্রী রানী গণেশকোয়ারীর জন্য মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন।


স্থানীয় এক জনশ্রুতি অনুসারে, রানী ভগবান রামের দ্বারা তাঁর জন্য একটি মন্দির নির্মাণের নির্দেশ দেওয়ার পরে রানী "স্বপ্নের দেখা" করার পরে মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল; মধুকর শাহ ছিলেন একজন ভক্ত কৃষ্ণ, তাঁর স্ত্রীর উত্সর্গ ছিল রামের প্রতি। চতুরভূজা মন্দির তৈরির অনুমোদনের পরে রানী গিয়েছিলেন অযোধ্যা ভগবান রামের একটি চিত্র পেতে যা তাঁর নতুন মন্দিরের  জন্য। রামমূর্তি নিয়ে তিনি যখন অযোধ্যা থেকে ফিরে এসেছিলেন, প্রথমে তিনি চতুর্ভূজ মন্দিরটি নির্মাণাধীন থাকায় প্রথমে তিনি তার প্রাসাদে রানি মহল নামে এই প্রতিমা রেখেছিলেন। তবে, তিনি কোনও আদেশে অজানা ছিলেন যে কোনও মন্দিরে দেবী চিত্রটি প্রাসাদে রাখা যায় না। একবার মন্দিরের নির্মাণকাজ শেষ হয়ে গেলে এবং চতুর্ভূজ মন্দিরে প্রভুর প্রতিমা স্থাপনের জন্য নিয়ে যেতে হয়, এটি প্রাসাদ থেকে স্থানান্তরিত হতে অস্বীকৃতি জানায়। সুতরাং, চতুরবুজ মন্দিরের পরিবর্তে রামের মূর্তিটি প্রাসাদে রয়ে গেছে এবং চতুরভূজ মন্দিরটি তার গর্ভে কোনও মূর্তি ছাড়াই রয়ে গেছে। প্রাসাদে রামের পূজা হওয়ায় এটি রূপান্তরিত হয়েছিল রাম রাজা মন্দির; এটি দেশের একমাত্র মন্দির যেখানে রামকে রাজা হিসাবে পূজা করা হয়।


ওড়চায় চতুর্ভূজ মন্দিরটি একটির জন্য খ্যাতিমান লম্বা বিমান মধ্যে হিন্দু মন্দির 344 ফুট দাঁড়িয়ে।

চতুরভূজ মন্দিরের পাইন শঙ্কু আকারে লম্বা স্পায়ার রয়েছে যার উচ্চতা ৪.৫ মিটার (১৫ ফুট) উচ্চতার প্ল্যাটফর্মের উপরে রয়েছে। মন্দিরের সামগ্রিক উচ্চতা 105 মিটার (344 ফুট) উঁচু এবং এর বিন্যাসটি এ এর ​​তুলনা করে বেসিলিকা এবং যার জন্য এটি নির্মিত হয়েছিল বিষ্ণুর চারটি বাহুর সাদৃশ্য করার পরিকল্পনা করেছিলেন । মন্দিরটির আরোপিত দৃশ্যটি হ'ল বহুতল প্রাসাদটির সাথে তোরণ খোলার একটি খুব বড় প্রবেশদ্বার, একটি বিশাল কেন্দ্রীয় টাওয়ার এবং দুর্গ নির্মিত। মন্দিরের সম্মুখভাগে আরোহণের সাথে খাড়া এবং সরু পদক্ষেপে 67 67 নম্বর জড়িত রয়েছে, যার প্রতিটি দৈর্ঘ্য প্রায় 1 মিটার (3 ফুট 3 ইঞ্চি), একটি ঘুরানো সিঁড়ি তৈরি করে। অভ্যন্তর অনেক হল এবং প্রধান হল বা হয় মণ্ডপ মন্দিরটি ক্রস বা ক্রুশিমদ্ধ আকারে নির্মিত এবং এর মিশ্রণ বলে উল্লেখ করা হয় মারু-গুজারা আর্কিটেকচার, এবং এটি এর ডান কোণে ভেস্টিবুলে, উভয় দিকে অভিন্ন লেআউট এর।


মন্দিরটির বাহ্যিক দিকটি পদ্মের প্রতীক দ্বারা সজ্জিত। ভবনটি মন্দির এবং দুর্গের স্থাপত্য থেকে নেওয়া ধর্মীয় এবং ধর্মনিরপেক্ষ শৈলীর মিশ্রণ প্রদর্শন করে। মন্দিরটি পূর্ব দিকে মুখ করে নিকটবর্তী একটি অক্ষে অবস্থিত রাম মন্দির যা অর্কিচা ফোর্ট কমপ্লেক্সের ভিতরে। তবে মন্দিরের অভ্যন্তরের অংশে তেমন অলঙ্কার নেই। কেন্দ্রীয় গম্বুজটির সিলিংটি, যার বেশ কয়েকটি কিউস রয়েছে, এটি পুষ্পিত পদ্মের সাথে আবৃত। বাহ্যিক স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে "পেটলেড পাথর ছাঁচনির্মাণ, আঁকা ফুল এবং জ্যামিতিক নকশাগুলি, কর্ণিস পদ্ম কুঁড়ি দুলের বন্ধনী, জহেল পাথরের পটি, মিথ্যা ব্যালকনি অনুমান"।


কথিত আছে যে মন্দিরের টাওয়ারগুলি যখন তৈরি হয়েছিল, সোনার প্রলেপ দিয়ে আবৃত ছিল যা বছরের পর বছর ধরে চালিত হয়েছিল।


মন্দিরের ছাদটি অ্যাক্সেসযোগ্য যেখানে থেকে কেউ অর্কিচা শহর, ঘুরে বেড়ানো বেতওয়া নদী, সাওয়ান ভাদন, রাম রাজা মন্দির এবং দুরত্বপূর্ণ লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরের কিছু দূরে দেখতে পাবেন।

=========================

মধ্যপ্রদেশের অযোধ্যা অর্থাৎ ওরছার

শ্রী রামরাজা মন্দিরের দিনলিপি::--


শরৎ পূর্ণিমার পরের দিন অর্থাৎ কার্তিক মাস 10 অক্টোবর থেকে দরবার সকালে একঘন্টা দেরি করে ভগবানের ঘুম ভাঙে আর রাত্রে এক ঘন্টা আগে বিশ্রাম করেন।


প্রতি বৎসর আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে মন্দির খোলা বন্ধের সময় পরিবর্তন হয়।

ভারতের এক মাত্র স্থান যেখানে শ্রী রামকে রাজা হিসাবে পুজো করা হয়।

মন্দির অর্থাৎ রাজ দরবার খোলা ও বন্ধের রাজকীয় ব্যবস্থা।

10 অক্টোবর থেকে শ্রী রাম রাজার দরবার

ভক্ত দের দর্শনের জন্য সকালে 9টা থেকে দুপুর 1টা পর্যন্ত,

আর বিকেল 7 টা থেকে রাত্রি 9 টা পর্যন্ত

খোলা থাকে।

আবার গরমের সময় আট মাস 

ফাল্গুন থেকে শরদ পূর্ণিমা পর্যন্ত

সকাল 8টা থেকে দুপুর 12.30 মি পর্যন্ত খোলা থাকে।

দুপুরে ভোগ আরতির পরে ভগবান বিশ্রাম করেন, তখন মন্দির বন্ধ থাকে।

আবার বিকেলে 4 টা থেকে সন্ধ্যা আরতি পযন্ত ও শয়ন আরতি অর্থাৎ রাত্রি 10.30 মিনিট পর্যন্ত মন্দির খোল থাকে।



 



चार प्रहर पुलिस देती है बंदूकों से सलामी


इन्हें राजा के रुप में तो पूजा ही जाता है, बतौर राजा उन्हें दिन के चार पहर सलामी भी दी जाती है। यह परम्परा यहां अंग्रेजी शासन काल के पूर्व से चली आ रही है। वर्तमान में यहां पर एमपी पुलिस बंदूकों की सलामी देती है। यह वह नगरी है, जहां भगवान के अलावा किसी भी वीआईपी को सलामी नहीं दी जाती है।


'राम के दो निवास खास, दिवस ओरछा रहत, शयन अयोध्या वास।'


कहा जाता है कि श्रीराम के दो निवास खास हैं, दिनभर ओरछा में रहने के बाद वे शयन के लिए अयोध्या चले जाते हैं। प्रतिदिन रात में ब्यारी (संध्या) की आरती होने के बाद ज्योति निकलती है, जो कीर्तन मंडली के साथ पास ही पाताली हनुमान मंदिर ले जाई जाती है। मान्यता है कि ज्योति के रूप में भगवान श्रीराम को हनुमान मंदिर ले जाया जाता है, जहां से हनुमान जी शयन के लिए भगवान श्रीराम को अयोध्या ले जाते हैं।

==========================



106>|| ভিতরকণিকা=ওড়িশার চাঁদিপুর ও পারাদ্বীপের মাঝে

 


ভিতরকণিকা=ওড়িশার চাঁদিপুর ও পারাদ্বীপের মাঝে


কথায় আছে ভারত (India) দর্শন করলে আর কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। ভারত নিজেই আস্ত একখানা মহাদেশ। উত্তরে হিমালয় থেকে শুরু করে দক্ষিণে সমুদ্র। পশ্চিমে থর থেকে শুরু করে পূর্বে নদীর রাজ্য। এককথায় পবিত্র এই ভারতভূমিকে উপ-মহাদেশ বলা চলে। সবুজ বনানী থেকে মরু রাজ্য, হিমালয়ের তুষারে আবৃত পাহাড় থেকে সমুদ্র সমস্ত কিছুই রয়েছে এই ভারত ভূমিতে।

কিন্তু আপনার যদি আমাজন (Amazon Rainforest) যাওয়ার ইচ্ছে হয় তাহলে? সেখানের বৃষ্টিস্নাত স্যাঁতস্যাতে পরিবেশ আপনাকে যদি আকর্ষণ করে তাহলেও কিন্ত উপায় রয়েছে দেশের অন্দরে। এদিকে যাব বললেই তো হয়না, সেজন্য পকেট ভারী থাকতে হয়। কিন্তু বিশ্বে এমন কিছুই নেই যা ভারতভূমিতে নেই। তো একটা অ্যামাজন থাকবে না, এটা হতে পারেনা। বাড়ির কাছেই আস্ত অ্যামাজন রয়েছে। অনেকেই হয়তো জানেন না


এই মিনি অ্যামাজন অবস্থিত পাশের রাজ্য উড়িষ্যায়। সেখানে রয়েছে অ্যামাজনের ভারতীয় সংস্করণ। যারা জঙ্গল সাফারি পছন্দ করেন তারা অনায়াসে ঘুরে আসতে পারেন এই অসাধারণ জায়গাটি থেকে।


এদিকে উড়িষ্যার কথা বললে আমাদের মাথায় আসে সমুদ্র সৈকত, পবিত্র শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দির, কোনারকের মন্দির ইত্যাদি। কিন্তু আজ আমরা যে জায়গার কথা বলছি সেটাও পর্যটনস্থল হিসেবে মানুষের কাছে ভীষণ প্রিয় জায়গায় পরিণত হয়েছে। এই স্থানের নাম ভিতরকণিকা।


ওড়িশার চাঁদিপুর ও পারাদ্বীপের মাঝে ভিতরকণিকা। 

ব্রাহ্মণী এবং বৈতরণী নদীর মধ্যিখানের বদ্বীপ দ্বারা গড়ে উঠেছে বিশাল ম্যানগ্রোভ অরণ্যটি। সুবিশাল ৬৫০ বর্গকিমি জুড়ে বিস্তৃত এই অরণ্য। উল্লেখ্য যে, সেখানে কুমির সংরক্ষণ শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। তার আগে ১৯৫২ সাল অবধি জায়গাটি জমিদারি দখলের মধ্যে ছিল। ১৯৭৫ সালেই সেটিকে ভিতরকণিকা ম্যানগ্রোভকে অভয়ারণ্য বলে ঘোষণা করা হয়।


সুন্দর ছিমছাম বনানী আপনাকে ফটো তোলার জন্য আদর্শ স্থান গড়ে দেবে। সাদা কুমির এবং নানান ধরণের পাখির কলরবে কান পাতা দায়। ফটো তোলার একদম আদর্শ স্থান এই জায়গা। কিন্তু কিভাবে যাবেন? চলুন সেকথাও জানাচ্ছি।


কিভাবে যাওয়া যায় : এজন্য প্রথমে আপনাকে যেতে হবে উড়িষ্যার ভদ্রকে। সেখান থেকে চাঁদবালি। চাঁদবালি থেকে অভয়ারণ্যটি একদমই সামনে। সেখানে থাকতেও পারেন আপনি। কিন্তু মাথায় রাখবেন সেখানে কিন্ত বেশ ভালই মশার উপদ্রব।

================


ভিতরকণিকা জায়গাটি ভারতের মিনি অ্যামাজন নামে পরিচিত।

ওড়িশার ভিতরকণিকা জাতীয় উদ্যান।


বন্যপ্রাণী প্রেমী এবং পর্যটকদের ভালো লাগার স্থান বঙ্গোপসাগরের উপকূলে ওড়িশার কেন্দ্রপাড়া জেলায় অবস্থিত এই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যটি।



পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের পরে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য হিসাবে পরিচিত ভিতরকণিকা। ওড়িশার চাঁদিপুর ও পারাদ্বীপের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ভিতরকণিকা। ব্রাহ্মণী এবং বৈতরণী নদীর মধ্যিখানের বদ্বীপ দ্বারা গঠিত এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যটি। ৬৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ম্যানগ্রোভটি।


অনেকেই হয়তো জানেন না, কিন্তু এই জাতীয় উদ্যানটি বিশ্বের বৃহত্তম সাদা কুমিরদের বাসস্থান।

 এখানে নোনা জলের কুমিরদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এবং প্রতি বছর এই শীতের মরসুমেই এই কুমিরের প্রজনন প্রক্রিয়া চলে এবং জন্ম নেয় আরও হাজার হাজার কুমির। ভারতের ৭০ শতাংশ নোনা জলের কুমির এই জাতীয় উদ্যানেই পাওয়া যায়।


বর্তমানে উদ্যানটি পর্যটকদের জন্য খোলা রয়েছে, তবে মেনে চলতে হবে কোভিড ভিধি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা থেকে শুরু করে সব সময় মাস্ক পড়ে থাকতে হবে এখানে। 


বন বিভাগের সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী, একটি স্থানীয় গাইড উদ্যানের ভিতরে বাধ্যতামূলকভাবে দর্শনার্থীদের সঙ্গে যাবে। এর জন্য বন বিভাগ আশেপাশের গ্রাম থেকে প্রায় ৪০ জন তরুণকে স্থানীয় গাইড হিসাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বন বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মী এখানে মোতায়েন করা হয়েছে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য।

========================


105>|| ভ্ৰমন বিষ্ণুপুর:;----||

      

   105>||  ভ্ৰমন বিষ্ণুপুর:;----||


বিষ্ণুপুর মানেই টেরাকোটার দেশ::--

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার মন্দির শহর বিষ্ণুপুর। 

এই বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা হোল পোড়ামাটির অপূর্ব এক শিল্প-শৈলী।

কলকাতা থেকে মাত্র 139 কিলোমিটার  বিষ্ণুপুর ইতিহাস এবং সংস্কৃতির মূর্ত প্রতীক।

বিষ্ণুপুর একসময়ে ঐতিহাসিক রাঢ় বঙ্গের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল ।

টেরাকোটার দেশ বিষ্ণুপুর

বিষ্ণুপুর একটি মন্দিরপ্রধান হেরিটেজ ডেস্টিনেশন, তাই এই অঞ্চলের বেশিরভাগ দর্শনীয় স্থানই ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরবিশেষ।


বিষ্ণুপুরের  দর্শনীয় স্থান গুলি ::--

★1>রাসমঞ্চ,::--

★2). মৃন্ময়ী মন্দির::--

★৩).জোড়বাংলা মন্দির:::---

★৪) শ্যাম রায় মন্দির::---

★5). গর দরজা::--

★6). মদনমোহন মন্দির";::--

★7). জোড় শ্রেনী মন্দির / পোড়ামাটির হাট অঞ্চল":;--

★8). প্রত্নতাত্ত্বিক যাদুঘর::---

★9). লালবাঁধ::---

★১০). ষাঁড়েশ্বর এবং শৈলেশ্বর মন্দির"::--/

★11).কেষ্টরাই বা জোড়বাংলা মন্দির ::--

★12).রাধাশ্যাম মন্দির :--






★শুধু টেরাকোটা নয়, ★ল্যাটেরাইট পাথরের তৈরি বেশ কিছু মন্দিরও আছে। 

★বাংলার মন্দিরশিল্পের বিভিন্ন নিদর্শন, যেমন চালা বা রত্নার প্রচলন এখানের বিভিন্ন মন্দিরে দেখা যায়।


আর এই একসময়ে বিষ্ণুপুরে ছিল মল্ল রাজবংশ। এই মল্ল রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দশম মল্ল রাজা জগত মল্ল, তাঁর রাজ্য বিষ্ণুপুরে স্থানান্তরিত করেছিলেন। 

বাংলার স্থপতিরা ‘টেরাকোটা’ নামে পরিচিত একটি সুন্দর কারুকাজের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছিলেন। সপ্তদশ শতাব্দীতে, পোড়ামাটির শিল্পটি সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল। রাজা জগৎ মল্ল এবং তাঁর বংশধররা পোড়ামাটির ও পাথরের শিল্প দ্বারা নির্মিত অসংখ্য মন্দির নির্মাণ করেছিলেন।

এছাড়া এই বিষ্ণুপুরে ‘বালুচরী’ শাড়ি এবং বিভিন্ন ধরণের নিদর্শনগুলির জন্য বিশ্বখ্যাত এই বিষ্ণুপুর।

বিষ্ণুপুরের  দর্শনীয় স্থান গুলি ::--

★1>রাসমঞ্চ : ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত, বীর হান্বিরের শাসনকালে এই মঞ্চ বর্তমানে বিষ্ণুপুরের সবথেকে পুরনো স্থাপত্যের নিদর্শন। রাসমঞ্চের স্থাপত্যশৈলী অন্য সকল মন্দিরের থেকে আলাদা। সম্ভবত গোটা ভারতে এই শৈলীর অন্য কোনও নিদর্শন নেই। রাসের সময়, বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন মন্দিরের মূর্তি এই মঞ্চে নিয়ে আসা হয় এবং দর্শকরা ঘুরে দেখতে পারেন।


রাসমঞ্চ, ইটের তৈরি এই প্রাচীনতম মন্দির 

এই আড়ম্বরপূর্ণ মন্দিরটি স্থাপত্যগতভাবে এতই অনন্য এবং অতুলনীয় যে এটি পুরো বাংলার পাশাপাশি সারা দেশে অনন্য। রাসমঞ্চ গর্বের সাথে একটি ল্যাটারাইট স্তম্ভের উপরে দাঁড়িয়ে আছে এবং এর সাথে আছে দীর্ঘতর একটি টাওয়ারের পাশাপাশি একটি একক কক্ষের কুঁড়েঘর আকৃতির বুরুজ। 


এখানেএই ঐতিহ্য পিরামিডাল সুপারট্রাকচারের সাথে সজ্জিত এবং তিনটি চক্রাকার গ্যালারী, প্রশান্ত স্তম্ভ এবং পোড়ামাটির পদ্ম মোটিফ সহ রহস্যময় খিলান দ্বারা ধন্য। দিবালোকে গ্যালারীগুলির মধ্যে দিয়ে হাঁটার সময় এক অদ্ভুত ছন্দের অনুভব হয়। অন্ধকারে, স্মৃতিস্তম্ভ থেকে উজ্জ্বল আলো একটি রোমাঞ্চকর পরিবেশ তৈরি করে।


★2. মৃন্ময়ী মন্দির::--

মৃন্ময়ী মন্দির, বিষ্ণুপুরের প্রাচীনতম মন্দিরটি রাজা জগৎ মল্ল ৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্থানীয় ইতিহাস অনুসারে, মা মৃন্ময়ী তাঁর স্বপ্নে রাজাকে মন্দির তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেবী দুর্গা এখানে মা মৃন্ময়ী হিসাবে পূজিত হন। যদিও মন্দিরটি পুনর্গঠন করতে হয়েছিল, তবে গঙ্গা-মাটির তৈরি সেই মূর্তিটি রয়ে গেছিল।

এখানে বাংলার প্রাচীনতম দুর্গা পূজা এবং (১০২১ বছর) সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে মনরম ধর্মীয় পরশের অনুভব হয় । 

মাটির পাত্র বা “ঘট” স্থাপনের পরে যথাক্রমে “বড়ো ঠাকুরানী”, “মেজো ঠাকুরানী” এবং “ছোট ঠাকুরানি” উপাসনার মধ্য দিয়ে উত্সব শুরু হয়। “মহাষ্টমী তিথি ও-সন্ধিপূজা” এর পবিত্র মুহূর্তে একটি কামান নিক্ষেপ করা হয় এবং তারপরে নানান সবজী বলি দেওয়া হয়।


★৩.জোড়বাংলা মন্দির::---


জোড়বাংলা মন্দিরটি মল্ল রাজা রঘুনাথ সিংহ ১৬৫৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মন্দিরটি পশ্চিমবঙ্গের পোড়ামাটির শিল্পের অন্যতম ব্যতিক্রমী উদাহরণ এবং একটি অনন্য স্থাপত্য কাঠামোর নিদর্শন।

 মন্দিরটির বিশেষ এক প্রকার “দো-চালা” আকারের কারণে “জোড়বাংলা” নামকরণ করা হয়েছে। মন্দিরটির ছাদটি পাশাপাশি দ্বি-পার্শ্বযুক্ত বাঁকান অংশ, যথাক্রমে বারান্দা এবং মন্দির বলা হয়, এগুলি 

একে অপরের সাথে জুড়ে আছে।

এখানে  মহাভারত, রামায়ণ, কৃষ্ণের বাল্যকালের একাধিক দৃশ্য চিত্রিত আছে মন্দিরগাত্রে পোড়ামাটির অভূত সুন্দর ভাস্কর্য দ্বারা।যা দেখলে  অবাক হতে হয়। পোড়ামাটির কাহিনী দিয়ে সজ্জিত প্যানেলগুলিতে সুন্দরভাবে ‘ভীষ্মের শরসজ্জা’, ‘রাম-সীতার বিবাহ’, ‘মা পার্বতী তাঁর দুই ছেলের সাথে’, ‘বালগোপালের ক্রিয়াকলাপ’, ‘লক্ষ্মণ ও শূর্পণখার গল্প’ এবং আরও অনেক কিছুর মতো মহাকাব্য’র দৃশ্য চিত্রিত রয়েছে।


★৪) শ্যাম রায় মন্দির::---

শ্যামরাই মন্দির : শ্যামরাই বা পঞ্চরত্ন মন্দির নামে পরিচিত এই মন্দিরটি বিষ্ণুপুরের সবথেকে বড়মন্দিরগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই মন্দিরের মাথায় পাঁচটি চূড়া বা রত্ন দেখা যায়। মন্দিরগাত্রে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনের নানা গাথা টেরাকোটা শৈলীতে খোদাই করা আছে


মন্দিরটি ১৬৪৩ সালে রাজা রঘুনাথ সিংহ দ্বারা নির্মিত হয়েছিল, এটি পাঁচটি চূড়ার মালিক হিসাবে “পাঁচ-চুড়া” মন্দির নামে পরিচিত। মন্দিরটি চারপাশে তিন তোরণযুক্ত পথ সহ সুন্দর দেখায়। এটি অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় প্যানেলে দর্শনীয় পোড়ামাটির শিল্প-রূপগুলির কারণে এটি বিষ্ণুপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় আকর্ষণ। ‘ঐরাবতের উপর বসে ইন্দ্রের যুদ্ধ’, ‘রাম ও রাবনের কাহিনী’, ‘কৃষ্ণ লীলার দৃশ্য’, ‘রাধা-কৃষ্ণের প্রেম’, ‘পুরানো সমাজের শিকারের পরিস্থিতি’ ইত্যাদি ধর্মীয় গল্পের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দৃশ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।  এই মন্দিরের আর একটি আকর্ষণ হল দৈত্যাকার রাশচক্র যা ‘গোপিনীদের মাঝে রাধা-কৃষ্ণ লীলা’ র বিভিন্ন রূপকে চিত্রিত করে।



★5. গর দরজা::--

বিষ্ণুপুরে দুর্গের দু’টি  প্রবেশদ্বার রয়েছে। স্থানীয় লোকেরা তাদেরকে ‘গড় দরজা’ বলে । 

‘মুরচা পাহাড়’ এর পাশে পাথরের তৈরি একটি ছোট ঢিবি। 

ছোট গেটটি অতিক্রম করার পরে একটি বিশাল গেট আসে যা ছিল বিষ্ণুপুর রাজত্বের প্রবেশদ্বার। ‘গড় দরজা’ শয়তান শত্রুদের হাত থেকে রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটির একটি বিশাল ছাদ এবং গোপন কক্ষ রয়েছে। সৈনিকরা ‘গড়’ থেকে অনধিকার প্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে রাখত এবং তাদের ওপর অতর্কিতে আক্রমণ করত।


★6. মদনমোহন মন্দির";::--


এটি একটি 'বিষ্ণু’ মন্দির। মন্দিরটি তার দেহের মধ্যে সেরা পোড়ামাটির শিল্পের বার্তা বহনকারী অন্যতম প্রধান কাঠামোগত রূপ। মল্ল রাজা দুর্জন ​​সিংহ দেব ১৬৯৪ সালে ভগবান মদন মোহন-এর নামে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি আজ অবধি একটি সক্রিয় মন্দির।


★7. জোড় শ্রেনী মন্দির / পোড়ামাটির হাট অঞ্চল":;--

 জোড় মন্দির এটি আসলে তিনটি একা-রত্ন মন্দিরের সম্মিলিত অংশ। একই আকারের দুটি বড় মন্দির এবং একটি ছোট মন্দির। এই মন্দিরগুলি মল্ল রাজা কৃষ্ণ সিংহ তৈরি করেছিলেন ১৭২৬ সালে। এই ‘একা-রত্ন’ বা ‘একক-মিনার’ মন্দিরগুলি মরিচা রঙের ল্যাটারাইট দিয়ে তৈরি। বড় মন্দিরটির বর্গক্ষেত্র ১১.৮ মি X ১১.৮ মি এবং নিম্ন প্ল্যাটফর্মের উপরে ১২.৮ মিটার উচ্চতা। তিনটি মন্দিরের ছাদগুলি সাধারণ বাংলায় ‘চালা’-র মত এবং শীর্ষে ‘শিখর’ বা টাওয়ার দ্বারা সজ্জিত। অন্তর্নিহিত গর্ভগৃহের যেখানে প্রতিমা রাখা হয়েছে তার তিন পাশে ঢাকা বারান্দা রয়েছে শুধু পিছনের প্রাচীর ব্যতীত। ওই তিন দিকের প্রতিটিতে তিনটি তোরণ আকারের খোলা প্রাঙ্গন রয়েছে।


★8. প্রত্নতাত্ত্বিক যাদুঘর::---

      ●‘আচার্য যোগেশচন্দ্র পুরাকীর্তি ভবন’ বিষ্ণুপুরের স্থানীয় যাদুঘর এবং প্রত্নতত্ত্ব, শিল্প এবং ইতিহাসকে ভালবাসেন এমন লোকদের অবশ্যই এটি দেখতে হবে।  দশম-দ্বাদশ শতাব্দী থেকে প্রায় ১০০ টি ভাস্কর্য এখানে আছে, প্রায় ৫০০০ পাণ্ডুলিপি, বিভিন্ন ধরণের লোককলা, ফটোগ্রাফ, টেক্সটাইলগুলির অপূরণীয় নমুনাগুলি এবং আরও অনেক প্রাচীন জিনিস।


★9. লালবাঁধ – জলে ইতিহাসের চিহ্ন রয়ে যায়

বীর সিংহ ১৬৫৮ সালে পোকাবাঁধ, শ্যামবাঁধ, কালিন্দীবাঁধ, যমুনবাঁধ, গনতাতবাঁধ, কৃষ্ণবাঁধ এবং লালবাঁধ নামে সাতটি হ্রদ তৈরি করেছিলেন। পানীয় জল এবং শহরকে শত্রু থেকে রক্ষার জন্য হ্রদ তৈরি করা হয়েছিল। মল্ল রাজ রঘুনাথ সিংহকে একজন পার্সিয়ান নৃত্যশিল্পী, লালবাঈ দ্বারা লালিত করা হয়েছিল বলে জানা যায়। রাজা তাকে তার সাথে নিয়ে যান এবং পরে এই তাঁর নামে এই লালবাঁধ পুকুরটি খনন করেন।


★১০. ষাঁড়েশ্বর এবং শৈলেশ্বর মন্দির"::--/

এই দু’টি মন্দির মহাদেবকে উত্সর্গীকৃত এবং বিষ্ণুপুর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে দিহড় গ্রামে অবস্থিত। ষাঁড়েশ্বর মন্দিরের প্রবেশদ্বারে বসে একটি নন্দী ষাঁড় দেখতে পাবেন যেন এটি সুরক্ষা দিচ্ছে। ল্যাটারাইট পাথরের তৈরি এই মন্দিরগুলি ওড়িয়া দেউল শৈলীর স্থাপত্যের দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ। এই স্থানটি ‘মহাশিবরাত্রি’ উত্সব এবং ‘গাজন’ চলাকালীন তীর্থযাত্রায় পরিণত হয়।




======================


★কেষ্টরাই বা জোড়বাংলা মন্দির ::--

টেরাকোটা শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হল কেষ্টরাই বা জোড়বাংলা মন্দির। এই শৈলীতে মন্দিরের দুটি ভাগ পাশাপাশি অবস্থিত এবং প্রায় একইরকম দেখতে। মন্দিরে জোড়ার দেওয়ালগুলোতে রামায়ণ মহাভারতের বিভিন্ন দৃশ্যও দেখা যায়।



★রাধাশ্যাম মন্দির :--

: একরত্ন এই মন্দিরটি তৈরি হয়েছে ল্যাটেরাইট পাথর দিয়ে, অঙ্গসজ্জায় ব্যবহৃত হয়েছে চুনাপাথর। মন্দিরের চার ধারে উঁচু প্রাচীর দেখা যায়।



রসমঞ্চের আসে পাশে আছে আরো নানা বিখ্যাত মন্দির যেমন, ●রাধা লালিজু মন্দির ও মৃন্ময়ী মন্দির, ●গুমঘর এবং বড় ও ছোট পাথর দরজা। গুমঘর একটি ছোট টিলার ওপর অবস্থিত সুবিশাল বর্গাকার জানলাবিহীন এক কাঠামো, মনে করা হয়ে আগে এটি কারাদণ্ডাগার হিসেবে ব্যবহৃত হত। একসময় বিষ্ণুপুরের চারদিকে উঁচু প্রাচীর ছিল, শহরটিকে শত্রুদের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষার জন্যে। সেই দেওয়ালের সেরকম কিছু অবশিষ্ট নেই, ●ল্যাটেরাইট পাথরের তৈরি একটি বড় এবং একটি ছোট দরজা এখনও আছে, সেখানে তৎকালীন সৈন্যবাহিনী পাহারা দিত এবং শুধুমাত্র এই দরজাগুলো ব্যবহার করেই অধিবাসীরা বিষ্ণুপুরে যাওয়া আসা করতে পারতেন।


রাসমঞ্চের দক্ষিণে একটু এগিয়ে এলে দেখতে পাবেন বেশ কয়েকটি একরত্ন মন্দির, যাদের মধ্যে ●ছিন্নমস্তার মন্দিরটি জাগ্রত হিসাবে খ্যাত। এছাড়া কাছেই আছে ●নন্দলাল মন্দির, ●রাধাগোবিন্দ মন্দির, ●রাধামাধব মন্দির, ●কালাচাঁদ মন্দির ইত্যাদি। প্রতিটি মন্দিরের পিছনেই আছে স্থানীয় বিশ্বাস এবং লোকাচারের গল্প এবং প্রতিটি মন্দিরের স্থাপত্য এবং কারুকার্য একে অপরের থেকে আলাদা। তাই পর্যটকদের এখানে হাতে বেশ কিছুটা সময় নিয়ে আসা উচিত।


★মন্দিরগুলোর থেকে অল্প দূরে আছে ১৭৪২ সালে তৈরি বিশালাকার দলমাদল কামান। কথিত আছে বাংলায় মারাঠা আক্রমণের সময় রাজা মদনমোহন স্বহস্তে এই কামানের সাহায্যে মারাঠা বাহিনিকে পরাস্ত করেছিলেন।


বিষ্ণুপুরের সংস্কৃতি, লোকাচার এবং স্থানীয় শিল্পকলা

সাংস্কৃতিক দিক থেকেও বিষ্ণুপুর বহুযুগ ধরেই পশ্চিমবঙ্গে অগ্রগণ্য। মন্দির বা ঐতিহাসিক স্থাপত্যকলা বাদ দিলেও, হ্যান্ডিক্রাফটস, টেক্সটাইল, বিভিন্ন রকম স্থানীয় মেলা ও পার্বণের মাধ্যমে বিষ্ণুপুরের নিজস্ব পরিচয় পর্যটকদের মনে জেলাটিকে আলাদা জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।


●টেরাকোটা শৈলীর ওপর ভিত্তি করে বিষ্ণুপুরের নিজস্ব হাতি এবং ঘোড়ার মূর্তি খুবই বিখ্যাত। একসময়ে এগুলি ধর্মীয় রীতিনীতির সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকলেও বর্তমানে তা শিল্পকর্মের নিদর্শন হিসেবেও সুখ্যাতি লাভ করেছে।

● পাঁচমুড়া, রাজগ্রাম, সোনামুখী বা হামিরপুর অঞ্চলের মৃৎশিল্পকলা বিখ্যাত। ●সোনামুখী এবং পাঁচমুড়ার মনসচালি, মা মনসার পূজাকর্মে ব্যবহৃত বিশেষ মাটির শিল্পকর্মও খুবই বিখ্যাত। এছাড়াও কাঠের, বাঁশের, তামার, পাথরের এবং পিতলের ওপরেও নানা কাজ করা হয়। স্থানীয় শিল্পীদের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে জিনিসগুলো সংগ্রহ করা যেতে পারে।


●বিষ্ণুপুরের তাঁত শিল্পীদের জ্ঞান এবং দক্ষতার প্রকাশ পাওয়া যায় এখানকার বালুচরী শাড়িতে, যা গোটা ভারতবর্ষে বিখ্যাত। বিভিন্ন স্থানীয় মন্দিরের দেওয়ালের পৌরাণিক নানা দৃশ্য এখানকার তাঁতিরা তাদের শাড়িতে ফুটিয়ে তোলেন। বালুচরী বাদে এখানকার স্বর্ণচরী এবং তসর সিল্কের শাড়িও খুব জনপ্রিয়।


বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন স্থানীয় উৎসব

দুর্গাপূজা কালীপূজা তো আছেই, কিন্তু বিষ্ণুপুরের ঘরোয়া ছোঁয়া পাওয়া যায় ●এক্তেশ্বরের চৈত্র গাজনের বা ●বেলিয়াতরের ধর্মরাজের গাজনের মেলায়। ●এছাড়াও রাস উৎসব, ভাদু এবং তুসু পুজোর সময়েও গোটা বিষ্ণুপুর নতুন করে সেজে ওঠে। শ্রাবণ মাসের শেষ দিনে মা মনসার উদ্দেশ্যে● ঝাপন উৎসব পালন করা হয়, যা বাঁকুড়া বিষ্ণুপুর অঞ্চলের আদিবাসী সংস্কৃতির অন্যতম জনউৎসব। প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে রাজ্যসরকারের পক্ষ থেকে বিষ্ণুপুর মেলার আয়োজন করা হয়, শীতকালে গ্রামবাংলার এই মেলা সত্যিই দর্শনীয়।

===========================


Wednesday, July 26, 2023

104>ভ্ৰমন ঝাড়গ্রাম-বেলপাহাড়ি::--

 104>ভ্ৰমন ঝাড়গ্রাম-বেলপাহাড়ি::--+(14/81)

মাত্র দু’রাত তিন দিনের টুর প্যাকেজ।

Jhargram
কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রাম
3 hr 48 min (176 km) via NH16
ঝাড়গ্রাম থেকে বেলপাহারি-- 38km

ঝাড়গ্রাম::--
● ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি,
●জামবনির পরিযায়ী পাখির গ্রাম কেন্দুয়া,
●চিল্কিগড়ের কনকদুর্গা মন্দির। 
●ঝাড়গ্রাম ভেষজ উদ্যান ও
●ঝাড়গ্রাম মিনি চিড়িয়াখানা।

বেলপাহাড়ি::---
●গাডরাসিনি পাহাড়।
●খাঁদারানি ঝিলে পরিযায়ী পাখির দল
●ঘাগরা জলপ্রপাত
●লালজল পাহাড়ের আদিম মানবের গুহা।
●তালবেড়িয়া লেক।
●ঘাগড়া জলপ্রপাত।

●ডুলুং নদী,
●তারাফেনি ব্যারেজ :
●খন্দারানি,
●বাঁদরভুলা,
●ঢাঙিকুসুম :

=======================
ক্যাম্প ফায়ারের সঙ্গে আদিবাসী লোকনৃত্য কিংবা নদীর চরে রণপা নাচ দেখারও দেখা যায়।

বেলপাহাড়ির গাডরাসিনি পাহাড়ে ট্রেকিং।
পথে সবুজ বনানীর ক্যানভাসে আঁকার মতন সুন্দর মনোরম জলাশয়।

ঝাড়গ্রাম পৌঁছে প্রথম দিনেই
দেখে নেওয়া যায়।
● ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি,
●জামবনির পরিযায়ী পাখির গ্রাম কেন্দুয়া,
●চিল্কিগড়ের কনকদুর্গা মন্দির। 
●ঝাড়গ্রাম ভেষজ উদ্যান ও
●ঝাড়গ্রাম মিনি চিড়িয়াখানা।

পরের দিন :::-------ঝাড়গ্রাম থেকে 38 km দূরে বেলপাহাড়ি
●বেলপাহাড়ি পৌঁছে
●গাডরাসিনি পাহাড়ে ট্রেকিং করে ওঠা । আর যাঁরা পাহাড়ে উঠতে পারবেন না, তাঁরা আশেপাশে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।

●খাঁদারানি ঝিলে পরিযায়ী পাখির দল দেখে মন ভরাতে পারেন। বিকেলের দিকে ●ঘাগরা জলপ্রপাত আর সবশেষে ●লালজল পাহাড়ের আদিম মানবের গুহা দেখে ঝাড়গ্রামে ফেরা।

★★সুন্দরি ঝাড়গ্রামের কিছু কথা::--
ঝাড়গ্রাম মানেই মুক্ত বনাঞ্চল, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্য আর তার সঙ্গে রাজবাড়ী আর পুরনো মন্দিরের শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গের বাইশ তম জেলা হিসেবে ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল আত্মপ্রকাশ করে ঝাড়গ্রাম। অতীতে একসময় এখানে যখন উপজাতিদের মধ্যে বিদ্রোহ দেখা দেয়, তখন সম্রাট আকবর সেই বিদ্রোহ দমন করার জন্য মান সিংহকে এখানে পাঠান। সালটা ছিল ১৫৯২। সর্বেশ্বর সিং ও তাঁর বড়দাকে দায়িত্ব দেওয়া হল এখানকার বিদ্রোহীদের দমন করার। সর্বেশ্বর সিংহ রাজপুতদের নিয়ে জঙ্গলে বিদ্রোহীদের দমন করেন। পরে এখানে একটি রাজ্য গঠিত হয়। তারও পরে রাজপুতরা বাংলাকে দুটি ভাগে ভাগ করে। ★একটির রাজধানী হয় ঝাড়গ্রাম ও ★অন্যটির রাজধানী হয় বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর। জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সবুজের বুক চিরে  চলে যাওয়া মেঠো রাস্তা। সঙ্গে মৃদুমন্দ বাতাস। প্রাণ ভরে প্রকৃতিকে উপভোগ করুন।

●প্রথমেই রাজবাড়ী :

প্রথমেই ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির কথা। ঝাড়গ্রাম শহরের মাঝে এটি অবস্হিত। রাজা সর্বেশ্বর সিংহ এখানে রাজত্ব চালাতেন। বর্তমানে এর একটি অংশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ব্যাবস্হাপনায় হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রাজবাড়ী ঘুরে দেখতে ভাল লাগবে। প্রথম পুরুষ সর্বেশ্বর ছিলেন রাজপুতানার ক্ষত্রিয়। মল্লদেব রাজবংশের পত্তন করেন তিনি। তবে এখনকার রাজবাড়িটি ১৯৩১ সালে ৭০ বিঘে জমির উপর মুসলিম গথিক শিল্পরীতিতে তৈরি করিয়েছিলেন ঝাড়গ্রামের সর্বশেষ রাজা নরসিংহ মল্লদেব।

◆এই প্রাসাদটিকে বহু বার বড় পর্দায় দেখা গেছে। ◆যেমন ‘বাঘবন্দি খেলা’য় এই বাড়ি হয়েছে ভবেশ বাড়ুজ্জের বাড়ি। আবার এই বাড়ি ◆‘সন্ন্যাসী রাজা’র সূর্যকিশোর নাগচৌধুরীর প্রাসাদ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
রাজবাড়ি চত্বরেই পর্যটকদের থাকার বন্দোবস্ত রয়েছে। রাজবাড়ির হেরিটেজ হোটেলটির নাম ★‘দ্য প্যালেস ট্যুরিস্ট রিসর্ট’।

দু’টি সুপার ডিলাক্স ও দু’টি ডিলাক্স-সহ মোট ১০টি ঘর রয়েছে সেখানে। আছে তিনটি ডরমেটরিও। এক সঙ্গে প্রায় ৫০ জন পর্যটক এখানে থাকতে পারেন। রাজপরিবার ও রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগম যৌথ ভাবে বর্তমানে এই রিসর্টটি চালায়। মল্ল রাজাদের খাস মহলে ৪০ বিঘার বিশাল উদ্যানে মহুয়া শাল আর কাজু বাগানে গড়ে উঠেছে আর এক ★প্রকৃতি নিবাস শালবনি রিট্রিট।

●কনকদুর্গা মন্দির :

ঝাড়গ্রামের কনক দুর্গা মন্দিরের ইতিহাস প্রায় ৪৩৫ বছরেরও প্রাচীন। ঝাড়গ্রামের কনক দুর্গা মন্দিরের অন্দরে লুকিয়ে রয়েছে নানা গল্পকথা। সাড়ে চারশো বছর আগের সামন্ত রাজাদের ইতিহাস। পুজো উপলক্ষে দর্শকদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে থাকে মন্দির চত্ত্বর। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দুরে কনক দুর্গামন্দির অবস্হিত। মন্দির প্রাঙ্গনের ভেতর বাচ্চাদের পার্ক রয়েছে। মন্দির চত্বরে প্রচুর বাঁদর রয়েছে। বাঁদরের বাদরামি থেকে সতর্ক থাকবেন।
●ডুলুং নদীর তীরে এই কনক দুর্গা মন্দির অবস্হিত। প্রচুর ভক্ত ও পর্যটক এখানে আসে। দেবী এখানে অশ্বারোহিনী চতুর্ভূজা। অষ্টধাতুর এই মূর্তি ঘিরেই জমে ওঠে দুর্গাপুজো। শহুরে কোলাহল থেকে বহু দূরে কনক দুর্গার অবস্থান।। প্রাচীন রীতিতে ব্যতিক্রমী আড়ম্বরহীন, ঝাঁচকচকবিহীন পুজো। ইতিহাস বলে, চিলকিগড়ের সামন্ত রাজা গোপীনাথ সিংহ তৈরি করেন এই মন্দির। স্বপ্নাদেশ পেয়ে স্ত্রীর হাতের কাঁকন দিয়ে মূর্তি তৈরি করান তিনি। স্থানীয়রা বলেন, আগে নাকি এখানে নরবলি হত। পরে দেবীর নির্দেশে তা বন্ধ হয়ে যায়। অষ্টমীর রাতে এখনও পাঁঠাবলি হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, নবমীর ভোগ রান্না করেন স্বয়ং মা’দুর্গা। মাও আমলে ২০০৭-০৮ সালে দু বার চুরি যায় মন্দিরের মূর্তি। আবার নতুন করে তৈরি হয় অষ্টধাতুর মূর্তি। তারপর মন্দিরে বসে সিসিটিভি। মন্দির লাগোয়া বিশাল ●ভেষজের জঙ্গল। পরিচর্যার অভাবে দামী দামী ওষুধের গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। গাছগুলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রক্ষী রাখা শুরু হয় পরবর্তীকালে। তৈরি হয় চেকপোস্ট।

★চিল্কিগড় রাজবাড়ী ::---

কনক দুর্গা মন্দির থেকে এর দুরত্ব ১৫ কিলোমিটার। দুলুং নদীর তীরে এই রাজবাড়ী অবস্হিত। ঐতিহাসিক ভাবে কনক দুর্গা মন্দির ও চিল্কিগড় রাজবাড়ী খুব গুরুত্বপূর্ণ। কালাচাঁদের নবরত্ন মন্দির এই স্থানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ভগবান শিবের একরত্ন মন্দিরটিও এখানকার অন্যতম আকর্ষণ।

★কেন্দুয়া :::---

কেন্দুয়া হল একটি ●পাখীরালয়। এটি চিল্কিগড় ও ঝাড়গ্রামের মাঝামাঝি একটি জায়গা। চিল্কিগড়ের পথেই কেন্দুয়া পড়ে। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে এর দুরত্ব ৯ কিলোমিটার। প্রচুর পাখি বাইরে থেকে এখানে আসে। কয়েক মাস এখানে থাকে, ডিম পাড়ে, বাচ্চা হয়। তারপর চলে যায়।

●চিড়িয়াখানা :::---

ঝাড়গ্রাম শহর থেকে এর দুরত্ব ৩ কিলোমিটার দূরে এই চিড়িয়াখানা। ঝাড়গ্রাম শহরের পূর্বপ্রান্তে এই চিড়িয়াখানা অবস্হিত। এটি ছোট কিন্তু খুব সুন্দর চিড়িয়াখানা। এখানে হরিণ, হাতি,কুমীর,কালো খরগোশ,ভালুক সহ অন্যান্য জন্তু জানোয়ার দেখা যায়। রয়েছে নানা ধরনের পাখি।

★ডুলুং নদী, ★বেলপাহারি, ★ঘাঘরা জলপ্রপাত ও ★তারাফেনি ব্যারেজ :

★Ghagra Falls
ভগ্নপ্রায় চিলকিগড়ের রাজবাড়ি ও কনকদুর্গা মন্দিরের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে ডুলুং নদী । ঝাড়গ্রাম থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে ডুলুং নদী। আপনি চাইলে এর পাশে থাকতেও পারেন একরাত, রাত্রি যাপনের সুব্যবস্থা করা হয়েছে এখানে। ডুলুংয়ের পশ্চিম তীরে অবস্থিত জাম্বোনি রাজবংশের প্রাসাদটিও দেখে নিতে পারেন। মন্দির, রাজবাড়ি জঙ্গল ঘুরে বেরিয়ে পড়ুন বেলপাহাড়ির পথে। শালে ঢাকা ছোটো ছোটো টিলার মধ্যে দিয়ে ৪৫ কিমি রাস্তা পেরিয়ে আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম বেলপাহাড়ি যেতে পারেন। রবিবার বেলপাহাড়ির হাটে গেলে দেখতে পাবেন স্থানীয় শিল্পীদের তৈরি পাথরের মূর্তি, বাসনপত্র, মাটি ও বাঁশের তৈরী সামগ্রী, বাবুই দড়ি, বেতের তৈরি জিনিসপত্র। কিনতে পারেন। বেলপাহাড়িতে ঘাঘরা জলপ্রপাত। দেখে নিন। ভালো লাগবে। বেলপাহাড়ি থেকে লাল মেঠো পথে ৯ কিমি দূরে আর এক স্বপ্নপুরী এই ঘাঘরা। তারাফেনির অনাবিল জলধারা নিস্তব্ধতা ভাঙছে মৌনী বনভুমির। অদুরে তারাফেনি ব্যারেজ। কংসাবতীর জল বন্দী করা হয়েছে ১০ লকের বাঁধে।

●খন্দারানি, ●বাঁদরভুলা, ●ঢাঙিকুসুম :

খন্দারানি রুপে গুনে এক অসামান্য হ্রদ। শহরের উপকণ্ঠে বাঁদরভুলায় সম্প্রতি তৈরি হয়েছে আদিবাসী সংগ্রহশালা। জঙ্গলমহলের প্রাচীন জাতি-উপজাতি সম্প্রদায়ের নিত্য ব্যবহার্য জিনিস-সহ কুটিরশিল্পের বহু নিদর্শন দেখতে পাবেন এখানে। ছোট্ট গ্রাম ঢাঙিকুসুম – ১৩০ ঘর আদিবাসীর বাস। তাঁরা পাথর-শিল্পী। পাথর দিয়ে তৈরি করেন থালা-বাটি-গেলাস সহ নানা সাংসারিক ব্যবহার্য জিনিস, তৈরি করেন মূর্তিও। পর্যটকরা আসছেন, এই গ্রামের শিল্পীদেরও পরিচিতি বাড়ছে একটু একটু করে।

কী ভাবে যাবেন::---
হাওড়া থেকে ট্রেনে ঝাড়গ্রাম ঘণ্টা আড়াই-তিনের পথ। সেখান থেকে ঝাড়খণ্ড সীমানায় ঢাঙিকুসুম ৫২ কিমি বেলপাহাড়ি হয়ে যাওয়া যায়।
ঝাড়গ্রাম থেকে গাড়ি করে আশপাশ ঘুরুন। না হলে বাসে পাবেন।
৩৮ কিমি দূরে বেলপাহাড়ি

কোথায় থাকবেন
বনবিভাগ এবং রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগমের কটেজ-কমপ্লেক্স রয়েছে। অনলাইনেই বুক করতে পারবেন। এছাড়া, ●রাজবাড়ির রিসর্ট,
●অরণ্য সুন্দরী হোটেল-সহ একাধিক গেস্ট হাউস রয়েছে শহরে। একটু নিরিবিলিতে থাকতে চাইলে শহরের বাইরের
●গড় শালবনিতে রয়েছে কৌশল্যা হেরিটেজ।
● ‘ঝাড়গ্রাম টুরিজ্‌ম’এর ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন ‘প্যাকেজ ট্যুর’এর ব্যবস্থা।

Categories: Travel
Tags: Adda Zone, belpahari, jhargram pacage tour, weekend tour from kolkata
addazone
Back to top
Exit mobile version

Tuesday, July 18, 2023

103>মায়াপুর ইস্কনমন্দির::-++নবদ্বীপ:-মায়াপুর:-ইসকন। কিছু দর্শনীয় স্থান::----

 

103>★1মায়াপুর ইস্কনমন্দির::-++নবদ্বীপ:-মায়াপুর:-ইসকন।

কিছু দর্শনীয় স্থান::----

★2>বরানগর  কাঁচের মন্দির:: রামকৃষ্ণ মিশন।
★3>পাটবাড়ি।
★4>খরদা শ্যামসুন্দর মন্দির::---
★5>ব্যারাকপুর অন্নপূর্ণা মন্দির ::---
★6>Near to Barrackpur Gandhighat.
★ 7>Ranirasmoni Ghat.
★8>নবদ্বীপ:-মায়াপুর:-ইসকন ++
    ++নবদ্বীপের দর্শনীয় স্থান(1 to 25)
====================
কোলকাতা  থেকে ট্রেনে
Krishnanagar.  ১ নং প্লাটফর্ম এর সাথে ই Auto stand,  ৩০ টাকা ভাড়া দিয়ে চলে যান মায়াপুর ঘাট,  নৌকা পার হয়ে ১০ টাকা টোটো ভাড়া নেবে ইস্কন মন্দির যেতে। ৩ ঘন্টা তে পৌঁছে যাবেন।

●Baguihati thake sakale bus chare oikhane wbstc r chotto gumti ache oikhane ticket paoa jai or airport 2 no gate r kache ticket dei

★★iskcon​  ★মায়াপুর​ ■■■
মায়াপুর ভ্রমণ 2024 | Mayapur Tour
কিভাবে যাবেন মায়াপুর : ............
কলকাতা থেকে সকাল বেলা
Sealdah স্টেশন থেকে  ট্রেন ধরে  কৃষ্ণনগর স্টেশন।
কৃষ্ণনগর স্টেশন থেকে Auto  ধরে যেতে  হবে  স্বরূপগঞ্জ বা হুলোর ঘাট ।
এর পর লঞ্চ বা নৌকা ধরে চলে আসুন মায়াপুর ঘাট।

👉 Sealdah Station:- ............
🚂 কৃষ্ণনগর লোকাল Time Table:-
  সকাল  ৫:৩৭ / ৬:১০ /৬:৫৫/৭:৫৩/৯:৩৫/১০:২৮/
  ১০:৫২/১২:০৫/১২:৪০/ ১:১৫/৩:২৫/৪:১৬
 
নয়Train fare ₹২৫ টাকা sealdah থেকে কৃষ্ণনগর
     Auto fare  ₹৩০ টাকা স্বরূপগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত
     লঞ্চ বা নৌকা ₹ ৩ টাকা।
 

******************************************
🏨 কোথায় থাকবেন:- .........................

  ( সব information নেওয়া হয়েছে  Mayapur    ISKCON  official  website থেকে )
📞Contact No. 0f mayapur ISKCON
       Phone No. 9474751202
       Email: mghb108@gmail.com
     
******************************************
মায়াপুর মন্দিরের ভিতরে যে ভবন গুলো আছে ,তার  নাম ও contact number দিয়ে দিলাম।

GADA BHAVAN:09474751202

GITA BHAVAN:

ISHODYAN BHAVAN: 09593400990

SRUTI BHAVAN:

CHAITANYA BHAVAN:

ATITHI BHAVAN : 7501834383

***********************************

==================================

★বরানগর  কাঁচের মন্দির:: রামকৃষ্ণ মিশন।

1, Pran Krishna Saha Lane, Barahanagar Jute Mill Area, Ashokgarh, Barada Basak Street, Ariadaha, Kolkata, West Bengal 700036

পাটবাড়ির কাছে।
=======================

★খরদা শ্যামসুন্দর মন্দির::---
Kali temple Road
Goswami Para Road
Khardaha.W.B.
Pin;:--700116
পূজা দেবার জন্য যোগাযোগ করতে হবে।
শ্যামল ব্যানার্জি
Ph No::--90 880 80 438.
পূজায় লাগবে
ধুতি,শাড়ি,ফুলের মালা(গড়ের মালা)
মিষ্টি,
প্রসাদ পাবার জন্য  ₹120/- জনপ্রতি।
আমরা 6 জন গিয়েছিলাম 30/05/2023 তে পুজো দিয়ে ভোগ প্রসাদ পেয়েছিলাম।
==========================

★ব্যারাকপুর অন্নপূর্ণা মন্দির ::---
অথবা শিবশক্তি অন্নপূর্ণা মন্দির - ব‍্যারাকপুর।
★Near to Barrackpur Gandhighat.
At Ranirasmoni Ghat.

এই মন্দিরে যেতে হলে শ্যামবাজার থেকে ব্যারাকপুর গামী যেকোন বাসে, নামতে হবে তালপুকুর।

ট্রেনে যেতে হলে শিয়ালদহ থেকে ব্যারাকপুর গামী যেকোন লোকাল ট্রেনে চড়ে নামুন ব্যারাকপুর স্টেশনে। তারপর বি.টি. রোডে এসে টিটাগড় গামী যে কোন অটো বা বাসে নামুনতে হবে তালপুকুর। সেখান থেকে রিকশায় মন্দির।
=========================
★নবদ্বীপ:-মায়াপুর:-ইসকন।

নবদ্বীপের মন্দির ও দর্শনীয় স্থানসমূ

1>★মহাপ্রভু পাড়া, নবদ্বীপ::---
2>★মা ভবতারিণী মন্দির::----
      (পোড়ামাতলা, নবদ্বীপ)
3>★পোড়ামাতলা, নবদ্বীপ
4>★ভবতারণ শিব মন্দির;:::---
       (পোড়ামাতলা, নবদ্বীপ)
5>★চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান মন্দির::-
-(প্রাচীন মায়াপুর (পূর্বনাম রামচন্দ্রপুর), নবদ্বীপ
6>★বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর জন্মস্থান::--
      (মালঞ্চপাড়া, নবদ্বীপ)
7>★নবদ্বীপ মণিপুর রাজবাড়ি::--
       (মণিপুর, নবদ্বীপ)
8>★দ্বাদশ শিব মন্দির::--
    (বড়ালঘাট, নবদ্বীপ)
9>★বুড়োশিবতলা, নবদ্বীপ
10>★বড় আখরা::---
     (গানতলা রোড, নবদ্বীপ)
11>★সমাজবাড়ি ::---
    (শ্রীবাস অঙ্গন রোড, নবদ্বীপ)
12>★শ্রীবাস অঙ্গন::---
    (শ্রীবাস অঙ্গন রোড, নবদ্বীপ)
13>★সোনার গৌরাঙ্গ মন্দির::--
   (শ্রীবাস অঙ্গন রোড, নবদ্বীপ)
14>★হরিসভা মন্দির::---
     (হরিসভাপাড়া, নবদ্বীপ)
15>★আগমেশ্বরী মাতা মন্দির::--
    (আগমেশ্বরীপাড়া, নবদ্বীপ)
16>★কানাই বলাই মন্দির::---
    (উডবার্ন রোড, নবদ্বীপ)
17>★মহানির্ব্বাণ মঠ::--
    (দিয়ারাপাড়া, নবদ্বীপ)
18>★রাধা মদনমোহন জীউর মন্দির::--
  (ব্রজানন্দ গোস্বামী রোড, নবদ্বীপ)
19>★নিতাই বাড়ি::--
     (যোগনাথ তলা, নবদ্বীপ)
20>★বুনো রামনাথের ভিটা::---
      (মালঞ্চপাড়া, নবদ্বীপ)
21>★রানী রাসমণি কাছারিবাড়ি::---
      (উডবার্ন রোড, (গোকুলানন্দ ঘাট), নবদ্বীপ।
22>★রাধারাণীর মন্দির::---
     (রানীর ঘাট, নবদ্বীপ)
23>★বলদেব আখড়া::---
    (যোগনাথ তলা, নবদ্বীপ)
24>★বলদেব জিউ মন্দির::--
     (গানতলা রোড, নবদ্বীপ)
25>★গোরাচাঁদের আখড়া:::---
    (ব্রজানন্দ গোস্বামী রোড, নবদ্বীপ)

====================
=====================¡
পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। শাক্ত, বৈষ্ণব ও শৈব সংস্কৃতির ঐকান্তিক সংমিশ্রণে নবদ্বীপ ঐতিহাসিক পীঠস্থানে পরিণত হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে পর্যটনক্ষেত্র হিসেবে নবদ্বীপকে হেরিটেজ শহর ঘোষণা করেছে। গুপ্ত বৃন্দাবন নামে খ্যাত মন্দিরনগরী নবদ্বীপ ধর্মীয়ক্ষেত্রের পাশাপাশি সংস্কৃত ও ন্যায়চর্চার প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় এখানে দর্শনীয় স্থান হিসেবে মন্দির ছাড়াও পণ্ডিত ব্যক্তিদের জন্মভিটে, টোলবাড়ি, সমাধিপীঠ বর্তমান।

একাদশ শতাব্দী বা তার পূর্বে সৃষ্ট গঙ্গাবিধৌত নতুন দ্বীপ তথা নবদ্বীপ গঙ্গার ভাঙনে বারবার বিধ্বস্ত হওয়ায় এই প্রাচীন জনপদের অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন বর্তমানে বিলুপ্তপ্রাপ্ত হয়েছে। নবদ্বীপের পশ্চিমসীমায় অবস্থিত পারডাঙ্গার (বর্তমানে পারডাঙ্গা হাইল্যান্ড কলোনি নামে পরিচিত) উঁচু ঢিপিটি পূর্বে বৌদ্ধস্তূপ ছিল। এই স্থানটি রেনেল সাহেবের মানচিত্রে চিহ্নিত আছে। দেওয়ান গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ ১১৯৯ বঙ্গাব্দের ১ অগ্রহায়ণ নবদ্বীপের উত্তরসীমায় রামচন্দ্রপুরে (বর্তমানে প্রাচীন মায়াপুর) গোবিন্দ-গোপীনাথ-কৃষ্ণচন্দ্র ও মদনমোহনের বিগ্রহ স্থাপনা করে কালো পাথরের ৬০ ফুট উঁচু যে নবরত্ন মন্দির নির্মাণ করেন, সেটি ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দে গঙ্গার ভাঙনে ধ্বংস হয়ে যায়।

নবদ্বীপের মন্দির শৈলীতে বৈষ্ণবীয় মঠ স্থাপত্যের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও বাংলার মন্দির স্থাপত্যের রত্ন, চালা ও দালান রীতির মন্দির দেখা যায়। বিরল রীতির মন্দির শৈলীর মধ্যে নবদ্বীপ মহাপ্রভু বাড়ির পুরাতন পরিত্যক্ত পীড়ারীতির মহাপ্রভু মন্দির ও ●পোড়ামাতলায় অবস্থিত ●অষ্টকোণাকৃতির শিখর রীতির ভবতারণ ●শিব মন্দিরটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই মন্দির সম্পর্কে নবদ্বীপ পুরাতত্ত্ব পরিষদের সম্পাদক শান্তিরঞ্জন দেব বলেছেন- ভবতারণ শিবমন্দিরের স্থাপত্য বাংলাদেশে আর কোথাও নেই। অষ্টকোণাকার, আচ্ছাদিত বারান্দা সমেত এই শিবমন্দিরটি ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলী বহন করছে। অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে নির্মিত● বড়
====================
নবদ্বীপের হেরিটেজ তালিকাভুক্ত ও অন্যান্য মন্দির ও দর্শনীয় স্থানগুলো হলো-
1>★মহাপ্রভু পাড়া, নবদ্বীপ::---
২৩°২৪′৪৫.৪″ উত্তর ৮৮°২২′৯.২″ পূর্ব

2>★মা ভবতারিণী মন্দির::----
(পোড়ামাতলা, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৩৮.১১″ উত্তর ৮৮°২২′১২.৯৬″ পূর্ব

3>★পোড়ামাতলা, নবদ্বীপ
২৩°২৪′৩৭.৮″ উত্তর ৮৮°২২′১২.৯″ পূর্ব

4>★ভবতারণ শিব মন্দির;:::---
(পোড়ামাতলা, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৩৭.৭″ উত্তর ৮৮°২২′১২.৭″ পূর্ব ।

5>★চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান মন্দির::--
(প্রাচীন মায়াপুর (পূর্বনাম রামচন্দ্রপুর), নবদ্বীপ
২৩°২৫′৩৫.০″ উত্তর ৮৮°২২′১৪.৪″ পূর্ব .

6>★বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর জন্মস্থান::--
(মালঞ্চপাড়া, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৭.২৫″ উত্তর ৮৮°২১′৩৫.৪৬″ পূর্ব ।

7>★নবদ্বীপ মণিপুর রাজবাড়ি::--
(মণিপুর, নবদ্বীপ)
২৩°২৩′৫১.৪″ উত্তর ৮৮°২১′৫২.২″ পূর্ব

8>★দ্বাদশ শিব মন্দির::--
(বড়ালঘাট, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৩৯.৬৩″ উত্তর ৮৮°২২′২১.১৭″ পূর্ব .

9>★বুড়োশিবতলা, নবদ্বীপ
২৩°২৪′৪০.৯″ উত্তর ৮৮°২১′৫০″ পূর্ব

10>★বড় আখরা::---
(গানতলা রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৭.১″ উত্তর ৮৮°২২′১৯.৭″ পূর্ব

11>★সমাজবাড়ি ::---
(শ্রীবাস অঙ্গন রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′২৭.০৫″ উত্তর ৮৮°২২′২০.৫৯″ পূর্ব

12>★শ্রীবাস অঙ্গন::---
(শ্রীবাস অঙ্গন রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′২৯.৫১″ উত্তর ৮৮°২২′১৮.৫১″ পূর্ব

13>★সোনার গৌরাঙ্গ মন্দির::--
(শ্রীবাস অঙ্গন রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৩০.২৩″ উত্তর ৮৮°২২′১৭.৩২″ পূর্ব

14>★হরিসভা মন্দির::---
(হরিসভাপাড়া, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৩৯.৩৮″ উত্তর ৮৮°২২′০৫.৩″ পূর্ব

15>★আগমেশ্বরী মাতা মন্দির::--
(আগমেশ্বরীপাড়া, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৬.৩″ উত্তর ৮৮°২২′০৩.১″ পূর্ব

16>★কানাই বলাই মন্দির::---
(উডবার্ন রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪২.৩৩″ উত্তর ৮৮°২২′২২.৮৮″ পূর্ব।

17>★মহানির্ব্বাণ মঠ::--
(দিয়ারাপাড়া, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′০০.৯৫″ উত্তর ৮৮°২১′৫০.২৭″ পূর্ব ।

18>★রাধা মদনমোহন জীউর মন্দির::--
(ব্রজানন্দ গোস্বামী রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৪.৬২″ উত্তর ৮৮°২২′২২.০৯″ পূর্ব ।

19>★নিতাই বাড়ি::--
(যোগনাথ তলা, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৭.৭″ উত্তর ৮৮°২২′১৪.৬″ পূর্ব।

20>★বুনো রামনাথের ভিটা::---
(মালঞ্চপাড়া, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৩৫.৮৬″ উত্তর ৮৮°২১′৪৪.৪৩″ পূর্ব।

21>★রানী রাসমণি কাছারিবাড়ি::---
(উডবার্ন রোড, (গোকুলানন্দ ঘাট), নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৮.১১″ উত্তর ৮৮°২২′২৫.৩৫″ পূর্ব ।

22>★রাধারাণীর মন্দির::---
(রানীর ঘাট, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪১.৭″ উত্তর ৮৮°২২′৩৩.৮″ পূর্ব।

23>★বলদেব আখড়া::---
(যোগনাথ তলা, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৮.১১″ উত্তর ৮৮°২২′১৭.২১″ পূর্ব।

24>★বলদেব জিউ মন্দির::--
(গানতলা রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৪.১২″ উত্তর ৮৮°২২′২০.২২″ পূর্ব ।

25>★গোরাচাঁদের আখড়া:::---
(ব্রজানন্দ গোস্বামী রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪২.৫″ উত্তর ৮৮°২২′১৭.৩″ পূর্ব।
====================
1>★মহাপ্রভু পাড়া, নবদ্বীপ::---
২৩°২৪′৪৫.৪″ উত্তর ৮৮°২২′৯.২″ পূর্ব

১৮২৮ খ্রিস্টাব্দ (বর্তমান মন্দির)
ধামেশ্বর মহাপ্রভু মন্দিরের বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী পূজিত শ্রীবিগ্রহ নবদ্বীপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। মহাপ্রভুর সন্ন্যাস গ্রহণের পর বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী স্বপ্নাদেশ পেয়ে বংশীদাস নবীন ভাস্করকে ডেকে প্রভুর বাড়ির নিম গাছটি দিয়ে মহাপ্রভুর এক অপরূপ দারুবিগ্রহ নির্মাণ করান। বিগ্রহের পাদদেশে খোদিত আছে বংশীর প্রাণধন গৌরাঙ্গ সুন্দর।  নির্মাণকাল ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দ।

2>★মা ভবতারিণী মন্দির::----

★পোড়ামাতলা, নবদ্বীপ
২৩°২৪′৩৮.১১″ উত্তর ৮৮°২২′১২.৯৬″ পূর্ব ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দ
নদীয়ারাজ মহারাজা রাঘব ১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে নবদ্বীপের গঙ্গার ধারে মন্দিরসহ প্রকাণ্ড এক গণেশ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তার মৃত্যুর ১০০ বছর পর গঙ্গার ভাঙনের কারণে বিগ্রহ অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পণ্ডিতবর্গের বিধানে বিগ্রহটিকে ১২ বছর মাটির নিচে রাখা হয়। পরবর্তীতে বিগ্রহটিকে মাটি থেকে তোলার সময় গণেশের শুঁড়টি ভেঙে গেলে মহারাজ গিরিশচন্দ্রের আদেশে কোনো এক অজ্ঞাত শিল্পী গণেশ মূর্তি থেকে মহারাজের আরাধ্যা দেবী আনন্দময়ীর প্রতিমা তৈরি করেন এবং দেবীমূর্তির নামকরণ হয় ভবতারিণী মাতা। ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দে মহারাজা গিরিশচন্দ্র পোড়ামাতলায় দালানের উপর চারচালা মন্দির নির্মাণ করে দেবীকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

3>★পোড়ামা কালীমন্দির::---

পোড়ামাতলা, নবদ্বীপ
২৩°২৪′৩৭.৮″ উত্তর ৮৮°২২′১২.৯″ পূর্ব অজানা পোড়ামা নবদ্বীপের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। দেবী পোড়ামা বা বিদগ্ধজননী নামে পরিচিতা। বটবৃক্ষমূলে দুটি ইটের উপর সংস্থাপিত ঘটে দক্ষিণাকালিকার ধ্যানে দেবীর নিত্য পূজা হয়। পোড়ামাতার প্রাচীনত্ব সম্পর্কে কোনো সঠিক ধারণা পাওয়া যায় না। কোনো এক সময়ে বটবৃক্ষ অগ্নিদগ্ধ হলে সেই স্থান পোড়াবটতলা ও দেবী পোড়ামা বা বিদগ্ধজননী নামে খ্যাত হয় মনে ইতিহাসবিদরা মনে করেন।  আবার অনেকে পড়ুয়ার মা অর্থে বিদ্যাদেবী বা নীল সরস্বতী মনে করেন। সারাবছর দক্ষিণাকালিকার ধ্যানে পূজা হলেও সরস্বতী পুজোর দিন নীল সরস্বতীর ধ্যানে দেবীর পূজা হয়।

4>★ভবতারণ শিব মন্দির;:::---

পোড়ামাতলা, নবদ্বীপ
২৩°২৪′৩৭.৭″ উত্তর ৮৮°২২′১২.৭″ পূর্ব ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দ গৌরীপট্ট সংবলিত ব্রাহ্মণ্য-সংস্কৃতির প্রথম শিব মূর্তিটি ১৬৮৩ থেকে ১৬৯৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রাজা রুদ্র রায় স্থাপন করেছিলেন। সেইসময় শিবমূর্তিটি রাঘবেশ্বর শিব নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দের গঙ্গার ভাঙনে মন্দিরসহ মূর্তিটি গঙ্গাগর্ভে নিমজ্জিত হলে রাজা গিরিশচন্দ্র ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দে পোড়ামাতলায় শিব মূর্তিটি ভবতারণ নামে পুন:স্থাপিত করেন, যা বর্তমানে ভবতারণ শিব নামে পরিচিত।

5>★চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান মন্দির::--

প্রাচীন মায়াপুর (পূর্বনাম রামচন্দ্রপুর), নবদ্বীপ
২৩°২৫′৩৫.০″ উত্তর ৮৮°২২′১৪.৪″ পূর্ব ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার ব্রজমোহন দাস বাবাজি নবদ্বীপ শহরের উত্তরে রামচন্দ্রপুরে অসংখ্য কূপ খননের মাধ্যমে গৌরাঙ্গ-জন্মস্থান নির্ণয় করেন। ৩০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট নবরত্ন এই মন্দিরটি ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়। গৌড়ীয় মন্দিরশৈলীর এই মন্দিরের শিখর চূড়াটি বৃহদাকৃতির হলেও অন্যান্য ৮টি চূড়া ক্ষীণাকার।

6>★বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর জন্মস্থান::--

(মালঞ্চপাড়া, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৭.২৫″ উত্তর ৮৮°২১′৩৫.৪৬″ পূর্ব
চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় স্ত্রী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী এখানে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মভিটের এই মন্দিরে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী ও মহাপ্রভুর অতিসুন্দর দারুবিগ্রহ বর্তমান।

7>★নবদ্বীপ মণিপুর রাজবাড়ি::--
(মণিপুর, নবদ্বীপ)
২৩°২৩′৫১.৪″ উত্তর ৮৮°২১′৫২.২″ পূর্ব

১৮১৩ খ্রিস্টাব্দ (১৯২১ খ্রিস্টাব্দে নবনির্মিত সমতল ছাদে অনুমহাপ্রভুর বিগ্রহ স্থানান্তরিত হয়) কাঁঠালকাঠ নির্মিত মণিপুরী ঘরানার অনুমহাপ্রভুর বিগ্রহ ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে এখানে মণিপুর রাজপরিবার দ্বারা পূজিত হয়ে আসছে।দোলযাত্রা ও রাস পূর্ণিমায় এখানে অতিসাড়ম্বরে পূজার্চনা হয় ও মণিপুরি নৃত্য পরিবেশিত হয়।

8>★দ্বাদশ শিব মন্দির::--
(বড়ালঘাট, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৩৯.৬৩″ উত্তর ৮৮°২২′২১.১৭″ পূর্ব

১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দ ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে নবদ্বীপের কাংস-ব্যবসায়ী গুরুদাস দাস ভাগীরথী তীরে ২৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এবং টেরাকোটার কারুকার্যযুক্ত বারোটি আটচালা শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন, যা দ্বাদশ শিব মন্দির নামে পরিচিত। মন্দির গাত্রের দেওয়ালে অঙ্কিত ফুল-লতা-পাতার কারুকার্যের সৌন্দর্যের জন্য এই মন্দির বিশেষ ভাবে পরিচিত।

9>★বুড়োশিবতলা, নবদ্বীপ
২৩°২৪′৪০.৯″ উত্তর ৮৮°২১′৫০″ পূর্ব

সপ্তদশ শতাব্দী, (বর্তমান মন্দির আনু. ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হয়) নবরত্ন মন্দিরশৈলীর এই মন্দিরটি ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে তারাপ্রসন্ন চূড়ামণির চেষ্টায় নির্মিত হয়। আদি মন্দিরটি সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে নির্মিত হয়। মন্দিরের বুড়োশিব মূর্তিটি প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন। নরহরি চক্রবর্তী রচিত শ্রীশ্রীগৌরচরিত চিন্তামণি এবং বিজয় সেনের তীর্থমঙ্গল গ্রন্থে বুড়োশিবের সুস্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়। শিবলিঙ্গের উপর গালা দিয়ে খুবই সুন্দরভাবে চোখ মুখ অঙ্কিত আছে। এখানে শৈব সংস্কৃতির অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে গাজন, চরক, শিবের বিয়ে, শিবরাত্রি উল্লেখযোগ্যভাবে পালিত হয়।

10>★বড় আখরা::---
(গানতলা রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৭.১″ উত্তর ৮৮°২২′১৯.৭″ পূর্ব

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধ বড় আখরা নবদ্বীপের প্রথম বৈষ্ণব আখরা। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধে তোতা রামদাস বাবাজি কর্তৃক এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বড় আখড়ার নাটমন্দিরটি ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে মাধবচন্দ্র দত্ত নির্মাণ করেন।

11>★সমাজবাড়ি ::---
(শ্রীবাস অঙ্গন রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′২৭.০৫″ উত্তর ৮৮°২২′২০.৫৯″ পূর্ব
১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ দৃষ্টিনন্দিত কারুকার্য সংবলিত এই মন্দিরটি চরণদাস বাবাজি প্রতিষ্ঠা করেন। সুন্দরভাবে সাজানো এই মন্দির চত্ত্বরে গৌর-নিতাই, রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ ছাড়াও চরণদাস বাবাজির পূর্ণ সমাধি মন্দির রয়েছে।

12>★শ্রীবাস অঙ্গন::---
(শ্রীবাস অঙ্গন রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′২৯.৫১″ উত্তর ৮৮°২২′১৮.৫১″ পূর্ব

১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ তোতা রামদাস বাবাজির শিষ্য লছমন দাস পুরাণগঞ্জের রাধী কলুর ভিটায় ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে শ্রীবাস অঙ্গন প্রতিষ্ঠা করেন। এই অঙ্গন গঙ্গাগর্ভে নিমজ্জিত হলে নবদ্বীপের কংস ব্যবসায়ী গুরুদাস দাস ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান শ্রীবাস অঙ্গন প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে মাতা বসুধা ও মাতা জাহ্নবাসহ নিত্যানন্দ প্রভু এবং পঞ্চতত্ত্ব ছাড়াও ৩৭ জন চৈতন্য পরিকরের সুষমামণ্ডিত দারুবিগ্রহ পূজিত হয়।

13>★সোনার গৌরাঙ্গ মন্দির::--
(শ্রীবাস অঙ্গন রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৩০.২৩″ উত্তর ৮৮°২২′১৭.৩২″ পূর্ব

তিনফুট উচ্চতা বিশিষ্ট অষ্টধাতুর অপরূপ গৌরাঙ্গ মূর্তি ছাড়াও এখানে কাষ্ঠনির্মিত গৌরনিতাই, বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী, শ্রীকৃষ্ণের সুন্দর বিগ্রহ রয়েছে।

14>★হরিসভা মন্দির::---
(হরিসভাপাড়া, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৩৯.৩৮″ উত্তর ৮৮°২২′০৫.৩″ পূর্ব

১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দ হরিসভা মন্দির হল ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের পুত্র, মথুরানাথ পদরত্নের টোল বাড়ি। ব্রজনাথ ও তাঁর পুত্র বৈষ্ণবীয় আন্দোলনের জন্য যে হরি ভক্তি প্রদায়িনী সভা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটাই বর্তমানে হরিসভা মন্দির নামে পরিচিত। এই মন্দিরের মৃত্তিকা নির্মিত বিগ্রহটি নবদ্বীপে অবস্থিত চৈতন্য মহাপ্রভুর তৃতীয় প্রাচীন বিগ্রহ। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের অনুরোধে নবদ্বীপের রাম-সীতা পাড়ার বিহারী পাল (কুম্ভকার) দ্বারা এই বিগ্রহ নির্মিত হয়। চৈতন্য মহাপ্রভুর এই বিগ্রহ নাটুয়া গৌর (নৃত্যরত গৌরাঙ্গ) নামে পরিচিত।

15>★আগমেশ্বরী মাতা মন্দির::--
(আগমেশ্বরীপাড়া, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৬.৩″ উত্তর ৮৮°২২′০৩.১″ পূর্ব

আনু. ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ (বর্তমান মন্দির ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে সংস্কৃত) বর্তমানে আগমেশ্বরীপাড়ায় যেখানে আগমেশ্বরী মন্দিরটি অবস্থিত ওই অঞ্চলটি কৃষ্ণানন্দের সময়ে কিছুটা ঝোপঝার জঙ্গলাকীর্ণ আর কিছুটা গোপ-সম্প্রদায়ের বাস। আগমেশ্বরী মন্দিরটি পঞ্চমুণ্ডীর আসনের উপর নির্মিত। আনুমানিক ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দের শেষ দিকে ছোট আকারের মন্দির নির্মিত হয়েছিল। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে মন্দির সংস্কার করে নতুন করে গড়ে তোলা হয়। এই পঞ্চমুণ্ডীর আসনেই সাধনা করে কৃষ্ণানন্দ আগমসিদ্ধ হয়ে আগমবাগীশ হয়ে ওঠেন।

16>★কানাই বলাই মন্দির::---
(উডবার্ন রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪২.৩৩″ উত্তর ৮৮°২২′২২.৮৮″ পূর্ব

মন্দিরের মন্দিরগাত্রে অঙ্কিত ফুল, লতাপাতার কারুকার্য খুবই দৃষ্টিনন্দিত। এখানে ভেঁপু-বাঁশি ধরে থাকা বলরাম ও কৃষ্ণের বিগ্রহ বর্তমান।

17>★মহানির্ব্বাণ মঠ::--
(দিয়ারাপাড়া, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′০০.৯৫″ উত্তর ৮৮°২১′৫০.২৭″ পূর্ব

১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ (মঠ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে) ৩০-৩৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এই মন্দিরের মূল চূড়াটি বিশালাকার ও গম্বুজাকৃতির। নবরত্ন এই মন্দিরের অন্য আটটি চূড়া ক্ষুদ্রাকার। বিরল-রীতির এই মন্দিরের প্রধান চূড়ায় অর্ধ-প্রস্ফূটিত পদ্মফুল রয়েছে।

18>★রাধা মদনমোহন জীউর মন্দির::--
(ব্রজানন্দ গোস্বামী রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৪.৬২″ উত্তর ৮৮°২২′২২.০৯″ পূর্ব

১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দ রাধা মদন মোহন মন্দিরে রাধাকৃষ্ণ, গৌরনিতাই গোপাল, জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার সুন্দর বিগ্রহ রয়েছে। ১৯৩৭-৩৮ খ্রিষ্টাব্দে কাজী নজরুল ইসলাম এই মন্দিরের গানের আসরে দুর্গমগিরি কান্তর মরু দুস্তর পারাবার। গানের সুর তুলেছিলেন। এখানে নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত মেহগনি কাঠের চেয়ার সযত্নে রক্ষিত আছে।

19>★নিতাই বাড়ি::--
(যোগনাথ তলা, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৭.৭″ উত্তর ৮৮°২২′১৪.৬″ পূর্ব

বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কয়েকজন সেবাইত যোগনাথতলায় মহাপ্রভুর আদলে নিত্যানন্দ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করেন। এই মন্দির একলা নিতাই বাড়ি নামেও পরিচিত। অঙ্গরাগের শেষ দিন বিভিন্ন রূপে নিত্যনন্দকে সাজানো হয়। নবদ্বীপে নিত্যানন্দের আবির্ভাব তিথিতে এখানে মহোৎসব হয়।

20>★বুনো রামনাথের ভিটা::---
(মালঞ্চপাড়া, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৩৫.৮৬″ উত্তর ৮৮°২১′৪৪.৪৩″ পূর্ব।

অষ্টাদশ শতাব্দী অষ্টাদশ শতাব্দীর নবদ্বীপের বিশিষ্ট নৈয়ায়িক, পণ্ডিত ও এবং আদর্শ শিক্ষক বুনো রামনাথ এই স্থানে চতুস্পাঠী স্থাপন করে শিক্ষাদান করতেন। বুনো রামনাথের ভিটেতে ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে অবিভক্ত বাংলার নবদ্বীপ তথা ভারতের সুপ্রাচীন শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে ওঠে। পাইকপাড়ার রাজা ইন্দ্রচন্দ্র সিংহের সভাপতিত্বে এবং অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মহেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের সম্পাদনায় দেশের পণ্ডিতমণ্ডলী এবং সংস্কৃতের অধ্যাপকদের নিয়ে সংস্কৃত চর্চাকে পুনঃজাগরণের উদ্দেশ্যে বঙ্গ বিবুধ জননী সভা স্থাপন করা হয়েছিল।

21>★রানী রাসমণি কাছারিবাড়ি::---
(উডবার্ন রোড, (গোকুলানন্দ ঘাট), নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৮.১১″ উত্তর ৮৮°২২′২৫.৩৫″ পূর্ব ।

আনু. ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দ নবদ্বীপের জমিদারি পাওয়ার পর রানী রাসমণি জমিদারি রক্ষা ও খাজনা আদায়ের জন্য এই কাছারি বাড়ি তৈরি করেন। এখানে রানী রাসমণি সেবিত রাধাগোবিন্দ জিউ ও গৌরাঙ্গ জিউর মন্দির বর্তমান।

22>★রাধারাণীর মন্দির::---
(রানীর ঘাট, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪১.৭″ উত্তর ৮৮°২২′৩৩.৮″ পূর্ব।

রাধা কৃষ্ণের যুগল বিগ্রহসহ গৌর নিতাইয়ের অপরূপ বিগ্রহ এখানে রয়েছে। রানীর ঘাটের কাছে অবস্থিত এই পঞ্চরত্ন মন্দির খুবই দৃষ্টিনন্দিত।

23>★বলদেব আখড়া::---
(যোগনাথ তলা, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৮.১১″ উত্তর ৮৮°২২′১৭.২১″ পূর্ব।

নবদ্বীপে নিত্যনন্দকে বলদেব রূপে পূজার রীতি রয়েছে। এই বলদেব আখড়ায় অনেক বছর ধরে নিত্যানন্দপ্রভুর বলদেব বিগ্রহ পুজো হয়ে আসছে। এখানে আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে দোলযাত্রা পালিত হয়।

24>★বলদেব জিউ মন্দির::--
(গানতলা রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪৪.১২″ উত্তর ৮৮°২২′২০.২২″ পূর্ব ।
১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ নবদ্বীপে নিত্যনন্দকে বলদেব রূপে পূজা করা হয়। এই বলদেব জিউ মন্দিরে শতাধিক বছর ধরে নিত্যানন্দপ্রভুর বলদেব বিগ্রহ পুজো হয়ে আসছে। এখানে আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে দোলযাত্রা ও ঝুলন যাত্রা পালিত হয়।

25>★গোরাচাঁদের আখড়া:::---
(ব্রজানন্দ গোস্বামী রোড, নবদ্বীপ)
২৩°২৪′৪২.৫″ উত্তর ৮৮°২২′১৭.৩″ পূর্ব।

এখানে গৌর ও নিতাইয়ের অপরূপ যুগল বিগ্রহ বর্তমান। ঝুলন পূর্ণিমা রাধাকৃষ্ণের উৎসব হলেও নবদ্বীপ তথা গোরাচাঁদের আখড়ায় মহাপ্রভুর ঝুলন হয়। এই মন্দিরে কোন ভেট লাগে না।
===========================

Thursday, June 8, 2023

102>|| পুরীর কাছে অভয়ারণ্য::--||

    102>||  পুরীর কাছে অভয়ারণ্য::--||


পুরী থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে নুয়ানাই নদীর তীরে রয়েছে প্রকৃতির কোলে আদর্শ ভ্রমণস্থলটি। 

পুরী স্টেশন থেকেই বালুখন্ড-কোনার্ক অভয়ারণ্যের এই নুয়ানাই নেচার ক্যাম্প যেতে গাড়ি পাওয়া যায়।

চোখ জুড়িয়ে দেওয়া প্রাণ ভরিয়ে দেওয়ার মতো  জায়গা এই নুয়ানাই নেচার ক্যাম্প।

পুরী মানেই 

●জগন্নাথ দেবের মন্দির, 

●কোনার্কের সূর্য মন্দির, 

●ধবল গিরি, 

●উদয় গিরি-খণ্ড গিরি, 

●লিঙ্গরাজ মন্দির, 

●নন্দনকানন 

●চিলকা 

●এবার নুতন যোগ হল নুয়ানাই নেচার ক্যাম্প।

কথায় বলে পুরী বাঙালির সেকেন্ড হোম। ফাঁক পেলেই বাঙালি পুরী ছোটে। পুরী যাওযার জন্য বাঙালির কোনও বাহানা লাগে না। পুরী মানেই সমুদ্রের উথাল-পাথাল করে দেওয়া ঢেউয়ে তোলপাড় করে দেওয়া আনন্দের জোয়ার। জগন্নাথ দেবের মন্দিরে পুজো দেওয়া। আর সাইট সিনে বেড়িয়ে মোটামুটি তালিকায় থাকা সব কটি জায়গায় দেদার ঘোরা।

 আট থেকে আশি পুরী ভালোবাসি,

বাঙালির পুরী-প্রেমের কথা ভাষায় প্রকাশিতে নারি।

তবে এই পুরীতেই রয়েছে আরও একটি ‘পুরী’। অপূর্ব অসাধারণ এপ্রান্ত এখনও ততটা জনপ্রিয় নয়। তবে কোলাহলহীন, নিরিবিলি এতল্লাটে ভরপুর আনন্দের খোঁজ মেলে। গুটিকয়েক হোটেল, কটেজ রয়েছে এখানে। জঙ্গল পাড়ে বিস্তৃত সমুদ্রতটে মনের আনন্দে বেড়াবার জায়গা। এই নুয়ানাই নেচার ক্যাম্প 

 এখানেই রয়েছে বালুখণ্ড-কোনার্ক ওয়াইল্ড লাইফ স্যানচুয়ারি। অভয়ারণ্যের মধ্যেই রয়েছে বিস্তৃত সমুদ্রতট। নুয়ানাই নদীর ধারের এই এলাকা আদর্শ একটি ভ্রমণস্থল। এই অভয়ারণ্যে কালো হরিণ, বানর, কাঠবিড়ালি, জংলি বিড়াল, হায়না এবং বিভিন্ন ধরনের পাখি ও সরীসৃপের দেখা মেলে। অলিভ রিডলি সামুদ্রিক কচ্ছপও এই সমুদ্র সৈকতেই বাসা বাঁধে।

এই এলাকাটি নুয়ানাই নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত। নদী-সমুদ্রের অপূরূপ মেলবন্ধন দেখতে হলে এতল্লাটের জুড়ি মেলা ভার। এখান থেকে খুবই কাছে বালুখণ্ড সমুদ্র সৈকত। ইচ্ছে থাকলে ট্রেকিং করে বা টোটো -অটো ভাড়া করে পৌঁছে যেতে পারেন। এই অভয়ারণ্যটি পুরী ও কোনার্কের মধ্যে যাওয়ার রাস্তায় পড়ে।

থাকবেন কোথায়?

এখানকার চোখ জুড়নো কোস্টাল ফরেস্টের মধ্যেই রয়েছে বেশ কয়েকটি কটেজ। এছাড়াও আরও কয়েকটি হোটেলও আছে। ওডিশা পর্যটন দফতরের কটেজও রয়েছে। এছাড়াও যোগাযোগ করতে পারেন নেচার ক্যাম্প, নুয়ানাই- 094372 23089/07419897371



101>|| হাতি ধরা::- ||

     101>|| হাতি ধরা::- ||


আমার জিনের দুই তিন বার  ভীষণ ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। একবার নীলগিরিতে হাতি ধরা, একবার সুন্দর বনে বাঘের সামনে।

অবশ্য ভয়ঙ্কর বাঘের সামনে আরও একবার পড়েছিলাম মধ্যপ্রদেশের 

ভাটিনদার জঙ্গলে।

সে যাইহোক আজ বলবো হাতি ধরা দেখা,

 ও কায়দা কানুনের কথা।

সে এক লোমহর্ষ কর ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার

কথাই বলবো আজ।

বছরটা হবে 1971 ফাস্ট ইয়ার বিএস সি

পরীক্ষার পরে সুযোগ পেলাম একটু ঘুরে বেড়াবার।

দাদাদের কোন্টাক্টরী কাজের জন্য মাটিকাটার লোক আনতে হবে।

উড়িষ্যার নীলগিরি পাহাড়ি অঞ্চল থেকে  মাটি কাটার লোক সংগ্রহ করে আনতো 

মুন্সী বলরাম নাহক, তাকেই প্রতি বৎসর দাদোন দিয়ে রাখা হত।

সেই বলরাম মুন্সীর কথায় ওর সাথে গিয়েছিলাম নীলগিরি পাহাড় অঞ্চলে 

হাতি ধরা দেখতে। ওই পঞ্চ লিংগেশ্বরের পাহাড়ের কাছে ।

যারা হাতি ধরার ব্যবসা করে ওদের মুখেই 

শুনে ছিলাম,ওরা হাতি ধরে সরকারের জন্য, সরকারকেই বিক্রি করে।

আর এটাই ওদের জীবিকা।

হাতি ধরা মানে জীবনকে বাজি রেখে একদল ভয়ংকর বন্য হাতিদের মাঝে 

গিয়ে ওদের ভুলিয়ে নানান কায়দায় একটি গর্তে এনে বন্ধি করা।

বড়ো হাতি নয়, অতি চঞ্চল ছোট হাতি।



ওদের মুখে শুনলাম

হাতি ধরার পাঁচ রকম পদ্ধতির নানান কৌশল:---

●খোঁয়াড় বা খুঁটি/গোঁজ দিয়ে তৈরী খেদায়; 

●স্ত্রী হাতিকে টোপ হিসেবে ব্যবহার; ●প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হাতির পিঠে বসে ফাঁস ছোঁড়া;

●মাটির নিচে গোপন ফাঁদ পাতা; এবং গর্তে ফেলা। 



সকল কথা বার্তা ও আনুষ্ঠানিকতার  পর ঠিকাদার তার দক্ষ দলবল নিয়ে ও সাধারণ শ্রমিকের দল নিয়ে এসে তৈরি হতো হাতি ধরার জন্য।

সে এক ভীষণ অভিজ্ঞতা।

ওদের সাহস ও কেরামতি, একে কেরামতি না বলে অভিজ্ঞতার কায়দা কানুন বললেই ভালো হবে।


তাদের দলে দক্ষ মানুষ ছাড়া থাকতো

কিছু  প্রশিক্ষিত হাতি যাদের বলাহয় খেদায় হাতি।


হাতি ধরায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ বেশ কিছু সাহসী মানুষ, আর ৪০-৫০ জন দক্ষ শ্রমিক। দক্ষ শ্রমিকরাই অন্য  শ্রমিকদের খেদা নির্মাণে নির্দেশ দেয় ও কাজ তদারক করে। 


স্থান নির্বাচনের ওপরই খেদার সাফল্য নির্ভর করে। 

অভিজ্ঞ ও দক্ষ শ্রমিকের ৮-১০ জনের এক একটি দল স্থান নির্বাচন করে। 

এমন করে বেশ কয়টি ভাগে ওরা যে যার নিজের মতন ছড়িয়ে পড়ে ।



সাধারণত হাতিরা পাল বেঁধে তাদের খাবার অর্থাৎ নানা ধরনের ঘাস, বাঁশের পাতা ও ডালপালা খোঁজে। হাতির দুই বা ততোধিক চলার পথ একত্রে মিশে শেষাবধি একটি বড় পথে পরিণত হলে 

তাই ওই এক পথে চলতে পথের  হাতিদের পথ চলার বা ওদের ভাষায় মাড়ানো পথটি দ্রুত মসৃণ হয়ে ওঠে। 


কিছু ভূমি মালিক বুনো হাতি ধরায় টোপ হিসেবে স্ত্রী হাতি পুষে রাখে । 


এই ভাবে হাতি ধরা সে এক অস্বাভিক সাহসিকতার নিদর্শন যা দূর থেকে আবছা অন্ধকারে অনুভব করলাম।

এমন সাহসিকতার হাতিধরা কাছে থেকে দেখার কোন উপায় নাই , তাই দূর থেকে একটু অনুভব আর ওদের সাহসিকতার প্রমান স্বরূপ চাক্ষুস দেখলাম বুনো হাতির গলায় পায়ে লোহার চেন ও ম্যানিলা রোপের ফাঁদে আটকে থাকা জংলী ময়দা হাতি।(গজদন্তহীন পুরুষ হাতিদের বলে মাকনা। তবে ছোট পুরুষ হাতিকে পুরুষহাতিই বলে।)

স্ত্রী হাতির শ্রোণীচক্রে জড়িয়ে ও পিঠের উপর গুটিয়ে একটি লম্বা রশি রাখা হতো আর রশির শেষপ্রান্তে থাকত আলগা গেরো একটি ফাঁস। মাহুত বুনো হাতির গলায় ফাঁস ছুঁড়ে দিলেই তার হাতিটি চলতে শুরু করত আর ফাঁসটি বুনো হাতির গলায় আটকে যেত। ফাঁসবদ্ধ হাতি প্রায় শ্বাসরুদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত ফাঁস টানা চলত। গ্রামবাসীরা অতঃপর হাতির পায়ে রশি বাঁধত এবং কিছুটা পোষ না মানা পর্যন্ত গাছের মোটা গুঁড়ির সঙ্গে বেঁধে রাখত। 

এ পদ্ধতিতে ধরা হাতি আকারে ছোট এবং সাধারণত ২ মিটারের বেশি উঁচু হয় না। 


খেদায় ধরা হাতির তুলনায় গলায় ফাঁদ পরিয়ে হাতি ধরা, হাতির বেশির ভাগই মারা পড়ে। মাঝে মধ্যে চোরা গর্তে ফেলেও হাতি ধরা হয়।

এজেন সেই 'নারায়ণ সান্যালের গজমুক্তা'!

মতন গল্পের কাহিনী ।

ওদের কথা শুনছিলাম আর 

নারায়ণ সান্যালের গল্প কথা মনে করেছিলাম। 

কি অদ্ভুত ও বিচিত্র ওদের জীবিকা।

প্রতি বৎস কিছু না কিছু মারাপরে।এই হাতি ধরার ফাঁদে।

একটু সামান্য টম ভুলের জন্য ওদের প্রাণ বিসর্জন দিতে হয় দাঁতলের পায়ের তলায় পিষে মরতে হয়।

তবুও ওরা প্রতিবৎসর হাতিধরা বায়না নিয়ে জঙ্গলে যায় হাতি ধরতে।

ওরা ওদের  শুঁড়কে হাতের মতন করে ব্যবহার করে তাইতো ওদের হাতি বলাহয়।

      <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

=========================

   


Tuesday, June 6, 2023

100>পানিহাটি ভ্রমন ।(1 to 15)

 100>পানিহাটি  ভ্রমন

100/1>পানিহাটি দণ্ডমহোৎসব ২০২৩-

100/2>★★পানিহাটি দণ্ড মহোৎসবতলা ও চৈতন্য ঘাট

100/3>★★হলদে কালীবাড়ি পানিহাটি-------

100/4>★★রাঘব ভবন পানিহাটি  (পাটবাড়ি)

100/5>★★পানিহাটি বড় হরিসভা অঙ্গন

100/6>★★শ্রীশ্রী  নিত্যানন্দ হরিসভা 

100/7>★★মনি মাধব সেনের ঠাকুর বাড়ি

100/8>★★গৌর নিতাই মন্দির ( ইসকন মন্দির ) 

100/9>★★অমৃত তীর্থ পানিহাটি

100/10>★★অমূল্য ধন রায় ভট্টের নিবাস (শ্রী রাধারমণ কুঞ্জ) ও  শ্রী গৌরাঙ্গ গ্রন্থ মন্দির

100/11>★★শ্রী শ্রী  সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির

100/12>★★ শ্রী কৈবল্য মঠ

100/13>★★সৎসঙ্গ - শ্রী শ্রী অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম

100/14>★★পানিহাটি ত্রাননাথ কালী মন্দির

15>আনন্দময়ী মা'র আশ্রম:-


============================€

পানিহাটি মন্দির সমূহ::


100/1>পানিহাটি দণ্ডমহোৎসব ২০২৩


       শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রী মন্দির পানিহাটি

শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীমন্দির পানিহাটি আনুমানিক ২০০ বছর পূর্বে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হইয়া ছিল।পানিহাটির মধ্যে শুধুমাত্র এই মন্দিরে  শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ষড়ভূজরুপে বিরাজ করছেন।মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত ষড়ভূজ মূর্তির প্রথম দুই হস্তে ধনুর্বাণ, ক্রেতাযুগের প্রভু রামচন্দের প্রতীক, মাঝে দুই হস্তে দ্বাপরের শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেবের দণ্ড (করঙ্গ) ও কমন্ডুলু।শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেব তাঁর প্রিয় ভক্ত পণ্ডিত সার্বভৌমের নিকট তাঁর ষড়ভূজরুপ প্রকাশ করেছিলেন।গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু এবং নিত্যানন্দ প্রভুর ডান পাশের সিংহাসনে জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলরাম প্রতিষ্ঠিত আছেন।আর মহাপ্রভুর বামপাশে আরেকটি সিংহাসনে শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণের বেশ বড় চিত্রপট এবং তার সামনে রাধাকৃষ্ণের যুগল মুরতি।সিংহাসনের নীচের দিকে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর চরণ চিহ্ন স্মৃতি ফলকে সযত্নে রক্ষিত আছেন।

  ==================                                                                                                   

100/2>★★পানিহাটি দণ্ড মহোৎসবতলা ও চৈতন্য ঘাট

মহাপ্রয়ানের কয়েক বৎসর পূর্বে মহাত্মা গান্ধী যখন সোদপুর খাদি আশ্রমে বসবাস করিতেছিলেন, সে সময় ব্যারিষ্টার ও কবি সুরেশচন্দ্র বিশ্বাস মহাশয় গান্ধীজীর উদ্দেশ্যে একটি কবিতা লিখিয়াছিলেন। তিনি গান্ধীজীকে অরো লিখিয়াছিলেন যে, সোদপুর হইতে অতি নিকটে পানিহাটিতে গঙ্গাতীরে এক তীর্থস্থান আছে। প্রায় পাঁচশত বৎসর পূর্বে পতিতপাবন শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু সতথানে আসিয়া একদিন রাঘব পন্ডিতের গৃহে অতিথি হইয়াছিলেন। গান্ধীজী যেন ঐ তীর্থস্থান একবার দর্শন করেন।

========================

100/3>★★হলদে কালীবাড়ি পানিহাটি

স্বর্গীয় ঈশ্বর ঈশান চক্রবর্তীর কন্যা ও জামাতা তৈলক্যনাথ মুখোপাধ্যায় এই হলদে কালীবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন।আনুমানিক ইংরাজির ১৬৯৪ সাল  ও বাংলার ১১০১ সালে এই হলদে কালীবাড়ি প্রতিষ্ঠিত হইয়া ছিল।কাশীধাম থেকে তৈরি করে নিয়ে আসা কষ্টিপাথরের মূর্তি যিনি মা আনন্দময়ী রূপে বিদ্যমান রয়েছেন।আগে এই কালীবাড়ির নাম "হলুদ কালিবাড়ী" রাখা হয়েছিল এটি পরে লোকমুখে হলদে কালিবাড়ী হয়।কথিত আছে তখনকার সময়ে এই কালীবাড়ি থেকে হলুদ না গেলে এ তল্লাটে কোনও বাড়ীতে গাত্রহরিদ্রা হইবেনা  বা বিবাহ হইবেনা এই রীতি ছিল। সেই থেকে এই কালীবাড়ি "হলদে কালিবাড়ি" নামে সকলের কাছে পরিচিত। এখন এই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ করছেন এই পরিবারের বংশধর শ্রী দেবব্রত চক্রবর্তী ।

   ===================                                                                                                                             

100/4>★★রাঘব ভবন পানিহাটি  (পাটবাড়ি)

পানিহাটির পুণ্য ভূমিতে অবস্থিত রাঘব ভবন সেখানে প্রথমে বসতি স্থাপন করেন রাঘব পণ্ডিতের পিতামহ পরম শ্রদ্ধেয় পণ্ডিত গঙ্গানারায়ণ ।

রাঘব ভবনে মন্দিরের সামনে একটি সুন্দর নাট-মন্দির আছে। এই নাট মন্দির সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে রাঘব পণ্ডিতের সমাধি।

        এখানেই ছিল সর্বকালের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত রাঘব পণ্ডিতের টোল , তাঁর সাধন ক্ষেত্র । তাঁরই আকুল প্রার্থনায় মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব এই গৃহে পদার্পণ করেছিলেন।

                                                                                    °===================                         


100/5>★★পানিহাটি বড় হরিসভা অঙ্গন

টি.এন.ব্যানার্জি রোডের উপর অবস্থিত এটি মকরধ্বজ করের বাস্তুভিটা। এই ভিটা এখন " পানিহাটি বড় হরিসভা অঙ্গন" নামে সকলের কাছে পরিচিত। 

          এই হরিসভা অঙ্গনে রাস্তার সামনে পাশাপাশি দুটি স্মৃতি ফলক আছে। একটি ঠাকুর সরোজ কুমারের ও আরেকটি শ্রীল নরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এর।

ঠাকুর সরোজ কুমারের সঙ্গে শ্রীল নরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যাইয়ের সম্পর্ক হল গুরু শিষ্যের । 

বড় হরি সভা অঙ্গনের মকরধ্বজ কর ছাড়া পানিহাটিতে মোহন ঠাকুর নামে আরেকজন গৌরভক্ত ছিলেন।   

 ========================                                                                                         

100/6>★★শ্রীশ্রী  নিত্যানন্দ হরিসভা 

রাজা রামচাঁদ ঘাট রোডের এক পাশে শ্রদ্ধেয় শ্রী হরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছে এই হরিসভা অবস্থিত । এই হরিসভা অঙ্গনে সেই প্রাচীন বটগাছটি আজও স্বমহিমায় বিদ্যমান এবং অঙ্গন চত্বরে একটি ছোট স্মৃতিসৌধ আছে।

নিত্যানন্দ হরিসভা চত্তরের ভিতরে বাঁদিকে সিদ্ধ মহাত্মা চাঁদ দালালের

স্মৃতিপীঠ ।  তিনি একজন সিদ্ধপুরুষ এবং অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। 

  লোকমুখে কথিত আছে , তিনি শ্রীপাট পানিহাটিতে বসেই শ্রীধাম বৃন্দাবনের ঘটনা বলে দিতে পারতেন । 

 °======================= 

 100/7>★★মনি মাধব সেনের ঠাকুর বাড়ি

শ্রী গৌরাঙ্গ ঘাট রোডের উপর অবস্থিত বিশিষ্ট ভক্ত মণি মাধব সেনের ঠাকুর বাড়ি । এই বাড়ির নাম "শ্রী গৌরাঙ্গ ধাম"।

  সেনেদের ঠাকুর বাড়ির ভিতরে পূর্বদিকে মন্দির অবস্থিত। মন্দিরে লক্ষ্মীনারায়ণ,রাধাকৃষ্ণ এবং শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু নিত্যানন্দ প্রভুর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত আছেন। 

এই প্রাচীন মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা শ্রদ্ধেয় গুরুচরণ সেন মহাশয় মন্দিরের আদি ঠাকুর রাধাকৃষ্ণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।                                                                                                                           

=====================

 100/8>★★গৌর নিতাই মন্দির ( ইসকন মন্দির ) 

গৌরাঙ্গ রোডের উপর অবস্থিত গৌর নিতাই মন্দির ( ইসকন মন্দির)। এই মন্দিরের ভিতর আছে শ্রীল প্রভুপাদ আশ্রম। সিংহাসনে উপবিস্ট আছেন তিনি।

      মন্দিরের ভিতর একটি ধর্মীয় পুস্তকের সুসজ্জিত প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।রাধাকৃষ্ণ ও গৌর নিতাই সুন্দর মূর্তি দর্শন করতে পারবেন।

​    সুন্দর একটি পরিবেশ এখানে না এলে জানতে পারবেন না।

=========================


 100/9>★★অমৃত তীর্থ পানিহাটি

শ্রী শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের পদস্পর্শে ধন্য এই গৃহ ।

রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব সেনেদের ঠাকুরবাড়িতে এই কক্ষে বিশ্রাম করেছিলেন। সেনেদের ঠাকুরবাড়ি  শ্রী গৌরাঙ্গ ধামে প্রতি বছর দণ্ডমহোৎসবের দিন বড় উৎসব হয় এবং বহু ভক্ত প্রসাদ পেয়ে ধন্য হন ।    

  এখন এই মন্দিরটির সংস্কার কাজ চলিতেছে। তাই সাধারণ মানুষদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।                                                                                                                   

=====================+++++

100/10>★★অমূল্য ধন রায় ভট্টের নিবাস (শ্রী রাধারমণ কুঞ্জ) ও  শ্রী গৌরাঙ্গ গ্রন্থ মন্দির

পুণ্যাত্মা শ্রী অমূল্য রায় ধন ভট্ট সাহিত্য এবং ধর্মশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল।মন্দির বলতে ঠাকুর ঘর।

​একটি কষ্টি পাথরের কালভৈরবীর মূর্তি শায়িত অবস্থায় বিরাজিত। মন্দিরের বারান্দার কাছে মকরধব্জ করের স্মৃতি সমাধি।​  শ্রী অমূল্য রায় ধন ভট্টের স্বরচিত গ্রন্থের মধ্যে " বৈষ্ণব অভিধান " এবং " দ্বাদশ গোপাল " উল্লেখযোগ্য।                                                                                                               

=======================

100/11>★★শ্রী শ্রী  সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির

এই মন্দিরে মায়ের মূর্তি বেশ বড়সড় এবং খুব সুন্দর। মায়ের পদতলে বাবা ভোলানাথের মূর্তিও দেখতে বেশ সুন্দর।

মায়ের সামনে একটি সিংহাসনে বিষ্ণুচক্র আছেন। এই মন্দিরের মাতৃমূর্তি অনেকের কাছে " ত্বমীশ্বরীদেবী" বলে পরিচিত।                                                                                                                       

==========================

 100/12>★★ শ্রী কৈবল্য মঠ

এটি ঠাকুর শ্রী নিত্য গোপাল দেবের জন্মস্থান। মাঝারী আকারের এই মন্দিরটি স্তাপত্য শিল্পের এক সুন্দর নিদর্শন ।

ঠাকুর শ্রী নিত্য গোপাল দেব অনেকের কাছে জ্ঞানানন্দজী নামে পরিচিত।

​জ্ঞান, ভক্তি এবং বৈরাগ্যের মূর্ত ঠাকুর শ্রী নিত্য গোপাল দেব নাম সংকীর্তনেও বিশেষ পারদর্শী ছিলেন।

`=========================

100/13>★★সৎসঙ্গ - শ্রী শ্রী অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম

গঙ্গার পাড়ে নতুন এই মন্দিরটি দেখতে খুব সুন্দর। এই ভবনের দ্বিতলে অনুকূল ঠাকুরের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত করা আছে।

 পানিহাটির মানুষদের কাছে এটি "ঠাকুরবাড়ি" নামে বেশি পরিচিত। এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহ হলেন শ্রী শ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তি।

========================


100/14>★★পানিহাটি ত্রাননাথ কালী মন্দির

পানিহাটি ত্রাননাথ কালী মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত সুসজ্জিতা কষ্টি পাথরের মায়ের রম্য মূর্তিটি ছোট হলেও দেখতে খুবই সুন্দর। পঞ্ছচূড় বিশিষ্ট এই মন্দিরের কারুকার্য ভাস্কর্য শিল্পের এক সুন্দর নিদর্শন।

  মন্দিরের সামনের চত্বরে পূর্বদিকে গঙ্গারদিকে মুখ করে তিনটি শিব মন্দির প্রতিষ্ঠিত।

=================================

100/15>আনন্দময়ী মা'র আশ্রম:-

১৯৬০ সালে পানিহাটির অন্তর্গত আগরপাড়ার দক্ষিণ প্রান্তে গঙ্গার তীরে 
(B.T Road Bus stop Tetultala then by Toto.)
মনোরম পরিবেশে, উত্তর কলকাতার বিশিষ্ট আইনজীবী, পরহিতৈষী ও সমাজ সেবী ভূপেন্দ্রনাথ বসুর বাগানবাড়িতে আনন্দময়ী মার আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়। 
১৯৯৫ এর মে মাসে বুদ্ধপূর্ণিমার দিনে মায়ের মর্মরমূর্তি উপস্থাপিত করে প্রতিষ্ঠিত হয় ধ্যানপীঠ।

মূল প্রবেশদ্বারের সামনে আছে শ্বেতপাথরের নাট মন্দির। তার উত্তরে রয়েছে মূল মাতৃমন্দির। এছাড়াও এখানে আছে শ্রী শ্রী ১০৮ স্বামী মুক্তানন্দ গিরিজী মহারাজের শ্বেতপাথরের বিগ্রহ, তার ডানদিকে যোগেশ চন্দ্র স্মৃতি মন্দিরে আছে ভোলানাথ, যোগেশ্বর, নির্মলেশ্বর রূপী তিন শিবলিঙ্গ, তার‌ও ডানদিকে অষ্টধাতুর তৈরী রাধাগোবিন্দ, গৌর নিতাই, লক্ষ্মী নারায়ণ, গণেশ, গরুড়, হনুমান এর বিগ্রহ। গঙ্গার তীরে পঞ্চবটী। এই বাগানের আকর্ষণীয় বস্তু হল লোহার ঘাট। তাই একে ভূপেন বোসের লোহার ঘাট বলা হত আগে একসময়।

শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দ মহাপ্রভু পুণ্যভূমি পানিহাটি থেকে কামারহাটি যাবার পথে এই স্থানে মাঝেমাঝে বিশ্রাম নিতেন। তাই এর স্থান মাহাত্ম্যে মুগ্ধ হয়ে আনন্দময়ী মা এখানে পরবর্তীতে (১৯৬০, অর্থাৎ ১৩৬৭ সনের ৬ই আশ্বিন) এ বাগানে আশ্রম গড়ে তোলেন।

জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকলেই আনন্দময়ী মার স্নেহের পাত্র ছিলেন। তাঁর সান্নিধ্যে এসছেন অতি নগণ্য দরিদ্র গ্রামবাসী থেকে জ‌ওহরলাল নেহেরু, গোবিন্দ বল্লভ পন্থা, ইন্দিরা গান্ধী, পন্ডিত রবিশঙ্কর, ডঃ যতীন্দ্র বিমল চৌধুরী, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, ছবি বিশ্বাস প্রমুখ। সারা দেশে বর্তমানে প্রায় পঁচিশ টির ওপর আনন্দময়ী মার আশ্রম রয়েছেন। এর মধ্যে হরিদ্বারের কঙ্খলে এর মূল কেন্দ্রটি আছে।

এই আশ্রমে প্রতিদিন নিত্যপূজা নিষ্ঠা সহকারে হয়। নিত্য কর্মসূচির মধ্যে আছে - প্রভাতে মঙ্গলারতি, সকাল ৯ টায় বিগ্রহ পূজা, দুপুরে ভোগদান, বিকেলে ধ্যান, যজ্ঞ, তপ। সন্ধেবেলা আরতি, শীতল, প্রতিদিনের অনুষ্ঠান : সৎসঙ্গ, অখন্ড নাম- যজ্ঞ ইত্যাদি। প্রতি রবিবারে ভক্ত সমাগমের মধ্যে সমবেত গীতা চন্ডীপাঠ।
============================