141>||-আমার প্রথম অমরনাথ যাত্রা 1972--||
<----আদ্যনাথ---->
অমরনাথ যাত্রা কঠিন ও দুর্গম হলেও প্রতি বৎসর অগণিত মামুষ পৌঁছন অমরনাথ এর গুহায়।13 বৎসরের নীচে ও 70 বৎসরের বেশি বয়স্ক এই যাত্রাতে অনুমতি পায় না।
আমার অমরনাথ দর্শন আজথেকে অনেক বৎসর আগে। তখন আজকের মত এত সুযোগে সুবিধা ছিলনা।যাত্রার জন্য খচ্চর গুলি ও জোগাড় করতে হয়ে ছিল অনেক কষ্ট করে। তখকন কার সময়ে বাবা অমরনাথ এর নামই জানতো কজনে। যাত্রা তো দূরের কথা।
আমি রক ক্লাইম্বিং ইনস্টিটিউট এর অধীনে বাঁকুড়ার শুশুনিয়ায় রক ক্লাইম্বিং ট্রেনিং করে সেন্ট্রাল পিক লায়ন পিক ক্লাইমব করেছি। সে এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। আমরা যাদের সকলেরই অল্প বিস্তর ক্লাইম্বিংএর অভিজ্ঞতা আছে,এমন 4 জন বন্ধু মিলে ঠিক বেরিয়ে পড়েছিলাম অমরনাথের উদ্দেশ্যে । দিন তারিখ মনেনাই তবে সাল টা ছিল 1972। আমি তখন কলকাতাতে taxi চলাই। এবং চাকুরীর জন্য বিভিন্ন জায়গাতে দরখাস্ত করেই চলেছি একের পর এক। টাকা পয়সার ভীষণ অভাব ছিল । তবুও যেহেতু ট্যাক্সি চালাই তাই ভাগ্য ক্রমে দুজন বিদেশির সুনজরে পরে বেশ খানিকটা আয়ের সুযোগ হয়ে ছিল। আমাদের মধ্যে সুবল বাদে সকলেরই আর্থিক সংগতি সামান্যই। আসলে সুবল আমাদের সকলের আর্থিক অবস্থা জানত। ও নিজে বেশ সচ্ছল,ওর প্রচেস্টা তেই আমরা একজোট হয়েছিলাম।
সে-জাই হোক আমরা একজোট হয়ে রওনা দিয়েছিলাম বাবা অমরনাথ দর্শনে। আজ তো পথও হয়েছে অনেক সুগম। সদাসর্বদ অতন্দ্র পাহাড়া। জায়গায় জায়গায় বিশ্রামের সুব্যবস্থা। কত সহজেই মিলেজায় মোট বইবারখচ্চর এবং সরকারের কত সহায়তা। এখন কতো সেনা মোতায়েন থাকে রাস্থাতে।
আমাদের সময় সেনা বা কোন সহায়তা কিছুই ছিলনা ।বিপদে পড়লে দেখবার ও কেউ ছিলনা সঙ্গে সেরফা নিতে হত টাকা দিয়ে ভাড়া করে। ওরাই সহায়ক ও পথ পরিদর্শক। তখন অনেক জায়গাতে নিজেরা রাস্থার পাথর সরিয়ে রাস্থা বানিয়ে নিতে হয়ে ছিল আমাদের।আজকাল তো তৈরি রাস্থা পাওয়া যায়। বিশ্রামের জায়গায় থাকে। আমাদের ছিল আকাশ ছাদ বা নিজের তবুই নিজেদের বিশ্রাম স্থান।
আজ আর এত বর্ননা করতে পারবোনা কারন তখনকার অনেক স্মৃতিই এখন আবছা হয়ে গেছে বা লুপ্ত হয়ে গেছে স্মৃতি থেকে। তবুও যেটুকু মনে আছে সেই টুকুই লিখছি।
দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে পরিগণিত না হলেও তুষারলিঙ্গ অমরনাথের মহিমা একেবারেই স্বতন্ত্র।আনুমানিক ৫০০০ বছর বয়স অমরনাথ গুহার, প্রতি বছর অগণিত মানুষ পৌঁছন এই তুষার শিব দর্শনে।
শ্রাবণে দু'টি পথেএই যাত্রা সম্পন্ন হয়— পহলগাম রুট এবং এবং বালতাল রুট। শৈবতীর্থ রূপেই এই অমরনাথের বিশেষ আকর্ষণ। পুরাণ মতে, শিব পার্বতীকে অমরত্ব শিক্ষা প্রদানের করেছিলেন এই গুহাতে।
★পহলগাম, যেখান থেকে অমরনাথ যাত্রা শুরু হয়,সেই স্থানেশিব তাঁর ষাঁড় নন্দীকে রেখে গিয়েছিলেন।★চন্দনওয়াড়িতে তিনি তাঁর শিরস্থ চন্দ্রকে রেখে যান এবং ★শেষনাগে তিনি তাঁর দেহে বিচরণরত সর্পকুলকে রাখেন।। ★গণেশকে রাখেন মহাগণেশ পর্বতে।। ★তার পরে বায়ু, অগ্নি, জল, মৃত্তিকাকে রাখেন পঞ্জতরণী নামক স্থানে।
★★প্রায় "সর্ব নির্মোক" ত্যাগ করেই তিনি পার্বতীকে নিয়ে অমরনাথের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
যখন শিব পার্বতীকে অমরত্ব সম্পর্কে জ্ঞানদান করছিলেন, তখন সেখানে কোনও জীবিত প্রাণী ছিল না। কেবল একটি পায়রার ডিম সেখানে থেকে গিয়েছিল। কথিত আছে এই ডিম থেকে একজোড়া পায়রা জন্মায়। এবং তারা অবধারিতভাবে অমরত্ব লাভ করে। এদের নাকি আজও গুহার ভিতরে দেখা যায়। অমরনাথ গুহাটি আবিষ্কার করেন বুটা মালিক নামে এক মুসলমান মেষপালক। তিনি এখানে এক সন্ন্যাসীর দেখা পান। সন্ন্যাসী তাঁকে একটা থলিতে কিছু কয়লা দান করেন। পরে সেই কয়লা সোনায় পরিণত হয়। বুটা সেই স্থানে ফিরে যান। কিন্তু সেই সন্ন্যাসীকে আর দেখতে পাননি। বদলে তিনি অমরনাথ লিঙ্গ দেখাতে পান।অমরনাথ তুষারলিঙ্গের বৃদ্ধি চন্দ্রকলার উপরে নির্ভরশীল। শিবলিঙ্গ ছাড়াও আরও দু’টি লিঙ্গ এই গুহায় রয়েছে। এদের পার্বতী ও গণেশ মনে করা হয়।
অপূর্ব এই বাবা অমরনাথ, লেখা বা বর্ণনার অতীত।প্রকৃতির হাজার বাঁধা পারকরে, //প্রকৃতির দ্বারা সৃষ্ট অপূর্ব প্রকৃতির নিদর্শন, //প্রকৃতিরে করিতেছে প্রদর্শন, এখানে প্রকৃতি নিজেই গড়িতেছে, //নিজের অপূর্ব নিদর্শন। //সেদিন দেখে মনের আনন্দে বলেছিলাম //আহা কি দেখিলাম ,জন্মজন্মান্তরেও ভুলিবনা । আজো মনেহয় বাবা নিজে হাতছানি দিয়ে ডাকে বারম্বার।
======■■■■■=======
★পহলগাম বা 'বাইল গাঁও' বা ষাঁড়ের গ্রাম। পূর্বে এই পহলগাম 'বাইল গাঁও' নামেই জানা যেত। এখন থেকে অমরনাথ যাত্রা শুরু হয়, সেই স্থানেশিব তাঁর ষাঁড় নন্দীকে রেখে গিয়েছিলেন।
হিন্দু পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী অমরনাথ যাত্রার শুরুতে পহলগামে ভগবান শিব তাঁর বাহন নন্দীকে রেখে গিয়েছিলেন। এই যাত্রাপথে শিব আরও অনেক জায়গায় তাঁর একেকটি সঙ্গী ও সম্পদ ত্যাগ করে ছিলেন
★চন্দনওয়ারী:-- এখানে তিনি তাঁর জটা থেকে চাঁদকে মুক্ত করেন।
★শেষনাগ:-- এখানে তাঁর গলার সাপটিকে রেখে যান।★মহাগুণস পর্বত (গণেশ টপ):-- এখানে পুত্র গণেশকে রেখে যান।
★পঞ্চতরণী: এখানে ভগবান শিব তাঁর পঞ্চভূত (পৃথিবী, জল, বায়ু, আকাশ ও অগ্নি) বিসর্জন দেন।
পঞ্চতরণী হলো ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলায় অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থান। ভগবান শিব অমরনাথ গুহায় যাত্রা কালে এই পঞ্চতরণী নামক স্থানে তিনি পঞ্চভূত (পৃথিবী, জল, বায়ু, আকাশ ও অগ্নি) বিসর্জন দেন। কারণ সর্ব নির্মোক ত্যাগ করেই তিনি পার্বতীকে নিয়ে অমরনাথের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন।
অমরনাথ যাত্রার সময় পুণ্যার্থীদের জন্য এটি একটি প্রধান ট্রানজিট ক্যাম্প বা যাত্রাবিরতির জায়গা। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 3657 মিটার বা 12 হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত এবং এটি অমরনাথ পবিত্র গুহা থেকে মাত্র 6 কিমি দূরে অবস্থিত। এই স্থানে পাঁচটি ছোট নদী বা হিমবাহের স্রোতধারা একত্রে মিলিত হয়েছে বলে একে "পঞ্চতরণী" বলা হয়। এখানে বর্তমানে একটি হেলিপ্যাডও আছে।
পাহেলগাঁও এবং বালতাল উভয় রুট থেকেই হেলিকপ্টারে এই স্থানে আসা যায়। এবং এটিই যাত্রা পথের বিশেষ স্থান যেখান থেকে পায় হেটেই ছয় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেই আমার নাথ গুহায় পৌঁছতে হয় সকল ভক্তকে।
(অবশ্য এখানথেকে ডান্ডি, পালকি, ঘোড়া,খচ্চর, করেও মন্দিরে পৌঁছনো যায়।)
এই "পঞ্চতরণী"এখান থেকে পবিত্র গুহায় পৌঁছানোর জন্য পায়ে হাঁটা, পনি (ঘোড়া) বা পালকি পরিষেবাও পাওয়া যায়।
এই "পঞ্চতরণী" অমরনাথ যাত্রার শেষ বড় ক্যাম্প হওয়ায় এখানে পুণ্যার্থীদের জন্য তাঁবু, লঙ্গর (বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন), চিকিৎসা কেন্দ্র এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকে।
|| <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
||-----------11/07/2017--------||
||======================||
তুষার তীর্থ অমরনাথ::--
অমরনাথ গুহা একটি তীর্থক্ষেত্র যা ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে অবস্থিত। এটি হিমালয়ের একটি তুষার শৈল শৈব তীর্থ। এই গুহাটি সমুদ্র তল থেকে 3,888 মিটার বা 12,756 ফুট উঁচুতে অবস্থিত। জম্মু ও কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর থেকে 141 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই তীর্থ। এই তুষার তীর্থে পৌঁছতে পহেলগাও শহর থেকেই শুরু করতে হয়। এটি তুষার তীর্থ কারণ গুহাটি পাহাড় ঘেরা আর এই পাহাড় গুলো বৎসরের বেশির ভাগ সময়ই তুষারে আবৃত থাকে।এবং এখানে ভগবান শিবও তুষার নির্মিত। আর প্রকৃতিই এ-হেন সৃষ্টির সৃষ্টি কর্তা। এমনকি এখানে এই গুহার প্রবেশপথও বরফ ঢাকা থাকে। গ্রীষ্মকালে খুব স্বল্প সময়ের জন্য এই দ্বার প্রবেশের উপযোগী হয়। তখন লক্ষ লক্ষ তীর্থ যাত্রী অমরনাথের উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। বাবা আমার নাথের দর্শনের লাভের নিমিত্তে। অমরনাথের গুহার ভিতরে ছাদ থেকে চুইয়ে পড়া জল জমে শিবলিঙ্গের আকার ধারণ করে। প্রকৃতির এক অপূর্ব নিদর্শন। কখনো কখনো ৮ ফুট উঁচুও হয় এই শিব লিঙ্গ।ভূমি থেকে গুহার ছাদ পর্যন্ত ছুঁয়ে যায় শিবের তুষার মূর্তি।
জুন-জুলাই মাসে শ্রাবণী পূর্ণিমা থেকে শুরু হয় অমরনাথ যাত্রা। শেষ হয় জুলাই-আগস্ট মাসে গুরু পূর্ণিমার সময় ছড়ি মিছিলে। জাতিধর্ম নির্বিশেষে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই অমরনাথ যাত্রায় যোগদান করেন।
পৌরাণিক মতে, পার্বতীকে গোপনে সৃষ্টি রহস্য (অমরত্বের সূত্র ) বোঝাতে নির্জনে পাহাড়ে গুহা নির্মাণ করেন মহাদেব।
★★★★★★★
অমরনাথ তীর্থযার জন্য এই তীর্থ যাত্রা রাজ্য সরকার ও শ্রী অমরনাথ যাত্রা ট্রাস্ট যৌথ ভাবে আয়োজন করে থাকে। যাত্রার জন্যে প্রথমে শ্রী আমারনাথজী মন্দির সমিতির ওয়েবসাইটে জানুয়ারি মাসে নথিভুক্ত করতে হয়। যাত্রা পথ পূবেই ঠিক করে নিতে হয়। একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এক সঙ্গে এক গ্রূপে সর্বোচ্চ 4 জন আবেদনকারীর নাম নিবন্ধন করা যায়।
★★★★★★★★
পহেলগাও থেকে অমরনাথ যেতে পাঁচ দিন সময় লাগে। অমরনাথে যাওয়ার জন্য আগে প্রত্যেক যাত্রীর রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। শ্রী অমরনাথ শ্রাইন বোর্ড (SASB) যাত্রা শুরুর মোটামুটি মাশখানেক আগে যাত্রা শুরুর ও শেষের তারিখ ঘোষণা করে। জম্মু-কাশ্মীর ব্যাঙ্ক থেকে ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে। পূরণ করা ফর্মটি 2টি পাসপোর্ট ছবি ও শারীরিক সক্ষমতার ডাক্তারি প্রশংসাপত্র সহ নিকটবর্তী জম্মু-কাশ্মীর ট্যুরিজমের অফিসে জমা দিতে হয়।
চন্দনবাড়ি ক্যাম্প থেকে অমরনাথ মন্দির যাত্রা মোটামুটি নিম্নরূপ : তবে সময় ও পরিস্থিতি অনুয়ারে পথের কিছু পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক।
চন্দনবাড়ি ক্যাম্প থেকে পিসু টপ = 2 কিমি। পিসু টপ থেকে ট্রেক্স ক্যাম্প = 8.5কিমি ।ট্রেক্স ক্যাম্প থেকে বিএসএনএল টাওয়ার = 14.5কিমি বিএসএনএল টাওয়ার থেকে মন্দির = 6 কিমি।
বালতাল পথ::--
শ্রীনগর লাল চৌক থেকে বালতাল প্রায় 100 কিমি মোটর পথ। বালতাল ক্যাম্প থেকে ডোমাইল গ্রাম = 2.3কিমি
ডোমাইল গ্রাম থেকে কালী মাতা ট্রেক =8 (আট)কিমি।
কালী মাতা ট্রেক থেকে মন্দির = 3 কিমি।
এখানে তীর্থ যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন যাত্রা পথে বিনা মুল্যে খাবার,চিকিৎসাসেবা ও বিশ্রামের জন্য তাবু সরবরাহ করে থাকে।
মন্দিরের কাছে স্থানীয়রা শত শত তাবুর ব্যবস্থা করে তীর্থযাত্রীদের রাত্রি যাপনের জন্য।
■■■■■■■■■■■■■■■■■■
অমরনাথ যাত্রা::---
অমরনাথ যাত্রা এমন এক ধর্মীয় যাত্রা যা
প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্তের হৃদয়ে এক বিশেষ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এটি একটি শুধু তীর্থযাত্রা নয়, এটি ভক্তি বিশ্বাস, সহিষ্ণুতা এবং আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতিজ্ঞা পূরণের এক অসাধারণ পরীক্ষা।
অমরনাথ গুহা সমুদ্রতল থেকে প্রায় 3,888 মিটার বা 12,756 ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ।
এটি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের লিডার উপত্যকায়, শ্রীনগর থেকে 141 কিমি দূরে অবস্থিত একটি অত্যন্ত পবিত্র হিন্দু তীর্থস্থান। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বরফের শিবলিঙ্গ । পাহলগাম বা বালতাল হয়ে অমরনাথ যাত্রায় যাওয়া যায় । এই উচ্চতায় অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকে,তাই যাত্রীদের সুস্থতার জন্য উপযুক্ত প্রস্তুতি প্রয়োজন । যেই হেতু অমরনাথ যাত্রা শুধু একটি তীর্থযাত্রা নয়, এটি বিশ্বাস, সহিষ্ণুতা এবং আধ্যাত্মিক শক্তির এক অসাধারণ পরীক্ষা। সেই কারণে এ-হেন যাত্রার জন্য নানান পরীক্ষা ও বিশেষ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন। এই পবিত্র গুহা এমন এক স্থান, যেখানে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যায় হাজার হাজার ভক্তের ভক্তির গভীরতা।
লোক বিশ্বাস যে এই গুহাতেই স্বয়ং মহাদেব পার্বতী কে অমরত্বের রহস্য বর্ণনা করেছিলেন। গুহার ভিতরে স্বাভাবিকভাবে সৃষ্টি বরফের শিবলিঙ্গ, যা চাঁদের কলার সঙ্গে সঙ্গে আকারে পরিবর্তিত হয়—এই ঘটনাই ভক্তদের কাছে এক অলৌকিক বিস্ময়।
লিডার উপত্যকা (Lidder Valley) অর্থাৎ লিডার নদী-র (Lidder River) নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলের অনন্তনাগ জেলায় অবস্থিত একটি নয়নাভিরাম ও মনোরম পাহাড়ি উপত্যকা। কাশ্মীরের পাহালগাম থেকে শুরু করে কোলাহোই হিমবাহ পর্যন্ত এই উপত্যকাটি বিস্তৃত। এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লিডার নদী লিডার নদীটির স্থানীয় সংস্কৃত নাম 'লম্বোদরি' ( অর্থাৎ লম্বা পেটযুক্ত দেবী) । এই অঞ্চলের সবুজ তৃণভূমি, বরফাবৃত পর্বতমালা এবং অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।
বিখ্যাত দুটি উপত্যকা বেতাব (Betaab) এবং অরু (Aru) এই লিডার উপত্যকা অঞ্চলেরই প্রধান আকর্ষণ।বেতাব এবং অরু উপত্যকা হলো ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামের কাছে অবস্থিত দুটি জনপ্রিয় ও মনোমুগ্ধকর পর্যটন আকর্ষণ।বেতাব উপত্যকা 1983 সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বলিউড চলচ্চিত্র ‘বেতাব’ (সানি দেওল ও অমৃতা সিং অভিনীত) থেকে এই উপত্যকাটির নামকরণ করা হয়েছে। এটি পহেলগাম থেকে প্রায় 15কিমি দূরে অবস্থিত এবং লিডার নদীর তীরে ঘন সবুজ বন ও বরফাবৃত পাহাড়ে ঘেরা একটি চমৎকার প্রাকৃতিক স্থান।
অরু উপত্যকা:--এটি পহেলগাম থেকে প্রায় 12 কিমি দূরে অবস্থিত একটি ছোট ও মনোরম পাহাড়ি গ্রাম ও উপত্যকা। এটি অরুনদীর তীরে অবস্থিত বলে এমন নামকরণ। এখানে সবুজ তৃণভূমি এবং পাইন বনের জন্য পরিচিত এই স্থানটি ট্রেকিং ও ক্যাম্পিংয়ের একটি চমৎকার বেস ক্যাম্প।
এই বছর পনেরোই এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে অমরনাথ যাত্রার রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে উৎসাহ তুঙ্গে। প্রতি বছর এই যাত্রা প্রায় তিরিশ থেকে চল্লিশ দিন ধরে চলে। কঠিন পাহাড়ি পথ, অনিশ্চিত আবহাওয়া এবং অক্সিজেনের স্বল্পতার মধ্যেও ভক্তরা এই যাত্রায় অংশ নেন শুধুমাত্র ভক্তির টানে। তাই এই যাত্রা শুধু ধর্মীয় নয়, মানসিক ও শারীরিক দৃঢ়তারও এক বড় পরীক্ষা।
এই বছর অমরনাথ যাত্রার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে পনেরোই এপ্রিল থেকে। শ্রী অমরনাথজি শ্রাইন বোর্ড জানিয়েছে, দেশের পাঁচশো চুয়ান্নটি নির্দিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে পুণ্যার্থীরা নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি—আগে আবেদন করলে আগে অনুমতি পাওয়ার সুযোগ থাকবে প্রতিটি রুটের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক ভক্তকে অনুমতি দেওয়া হবে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক অনলাইন ও অফলাইন—দুই পদ্ধতিতেই আবেদন করা যাবে এই অনুমতি ছাড়া কেউই যাত্রায় অংশ নিতে পারে না।
অমরনাথ যাত্রার জন্য প্রধানত দুটি রুট রয়েছে—★1>পহেলগাঁও রুট::--
এই রুটটি প্রায় ছেচল্লিশ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ হলেও পথটি ধীরে ধীরে ওঠার কারণে শারীরিকভাবে কিছুটা সহজ মনে করা হয়। যারা প্রথমবার যাচ্ছেন, তাদের জন্য এই রুট বেশি উপযোগী।
★2>. বালতাল রুট:--
এই রুটটি মাত্র চৌদ্দ কিলোমিটার দীর্ঘ। তবে এটি অত্যন্ত খাড়া এবং কঠিন। যারা অভিজ্ঞ ট্রেকার বা শারীরিকভাবে সক্ষম, ◆তাদের জন্য এই পথ উপযুক্ত।
দুই রুটেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক ভক্তকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
বয়স তেরো থেকে সত্তর বছরের মধ্যে হতে হবে তেরো বছরের নিচে এবং সত্তর বছরের উপরে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয় না। অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের যাত্রায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা আবশ্যক এই নিয়মগুলি মূলত যাত্রাপথের কঠিন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনও দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। আরএফআইডি কার্ড ও প্রয়োজনীয় নথিযাত্রার সময় প্রত্যেক ভক্তকে একটি বিশেষ পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে, যাকে বলা হয় আরএফআইডি কার্ড। এই কার্ড ছাড়া যাত্রায় প্রবেশের অনুমতি মিলবে না।
এই কার্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করতে হবে। সব সময় নিজের কাছে রাখতে হবেগলায় ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক এছাড়া সঙ্গে রাখতে হবে—আসল পরিচয়পত্র ড্রাইভিং লাইসেন্সনিজের ও পরিবারের সদস্যদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর এই তথ্যগুলি জরুরি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে। আবহাওয়া, পোশাক ও স্বাস্থ্য সতর্কতা অমরনাথ যাত্রার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল আবহাওয়া। এখানে আবহাওয়া মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। সেই কারণে সঙ্গে রাখতে হয় উপযুক্ত গরম পোশাক, রেনকোট বা ছাতা, ভালো মানের ট্রেকিং জুতো।
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কিছু সতর্কতা বেশি চা বা কফি খাওয়া উচিত নয়, ধূমপান অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে, মদ্যপান সম্পুর্ন নিষিদ্ধ,পর্যাপ্ত জল পান করা একান্ত উচিত,উচ্চতায় অক্সিজেনের অভাব দেখা দিতে পারে, তাই শরীর খারাপ লাগলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
★পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে প্লাস্টিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেউ যদি প্লাস্টিক ব্যবহার করেন বা ফেলেন, তাহলে জরিমানা হতে পারে। প্রকৃতিকে রক্ষা করা প্রতিটি ভক্তের দায়িত্ব। তাই— কোন ভাবেই প্লাস্টিক বহন বা ব্যবহার সম্পুর্ন নিষিদ্ধ।
আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে, পরিবেশ পরিষ্কার জন্য সহযোগিতা প্রার্থনীয়।
অমরনাথ যাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় সফর নয়, এটি জীবনের এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। কঠিন পথ, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা—সবকিছুকে অতিক্রম করে এই যাত্রা সম্পূর্ণ করা মানে নিজের ভেতরের শক্তিকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা।
সেই কারণেই এই যাত্রার মাহাত্ম্য ই আলাদা।
যাত্রা পথের নিরাপত্তা ও প্রতিটি যাত্রীর শারীরিক ও মানসিক সকল কিছুই সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করার প্রয়জনে সকল যাত্রীর সহায়তা ও শৃঙ্খলা মেনে চলা একান্ত কর্তব্য।
সম্পুর্ন এই যাত্রা পথটি এতটাই সুন্দর রোমান্টিক, কঠিন, উপভোগ্য যে সম্পুর্ন পথ টি মনের গভীরে ছবির মতন রয়ে যায় আজীবন।
=======================