136|| চুঁচুড়া-->রামকৃষ্ণ সারদা মিশন::--+
লাহিড়ী বাবার আশ্রম ব্যান্ডেল।
Chunchura stn----->by Toto to Sugandha More----->by Toto to
Kamdebpur Ramakrishna Sarada Mission.
লাহিড়ী বাবার আশ্রম' ব্যান্ডেল
ব্যান্ডেল স্টেশন থেকে ৫ কিমি দূরে রাজহাট গ্রামে অবস্থিত এই মন্দিরের নাম ‘আধারলয়’। যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ীর দর্শনে নির্মিত হওয়ায় এটি ‘লাহিড়ী বাবার আশ্রম’ নামেi বেশি পরিচিত।
সবুজের মাঝে নির্জন পরিবেশে অবস্থিত এই আশ্রম। প্রবেশদ্বার পেরিয়ে সুন্দর বাগান। বাগানের মাঝখান দিয়ে কংক্রিটের রাস্তা দিয়ে কিছুটা পায়ে হেঁটে গিয়ে মূল মন্দিরের সামনে উপস্থিত হতে হয়। মন্দিরের স্থাপত্য রাজস্থানী ও দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যের মিশ্রণে তৈরি। একটি ছোট জলাশয়ের উপর অবস্থিত এই মূল মন্দির, অনেকটা অমৃতসর স্বর্ণমন্দির মতন। একটি ছোট সেতু পেরিয়ে মূল মন্দিরে প্রবেশ করতে হয়।
আশ্রমের মধ্যে প্রধান মন্দির ছাড়াও অসংখ্য মন্দির রয়েছে। যেমন- নারায়ণ মন্দির, জগদ্ধাত্রী মন্দির, লোকনাথ মন্দির, মহাদেব মন্দির।
✓কিভাবে যাবেন: হাওড়া-বর্ধমান মেন লাইনে অবস্থিত ব্যান্ডেল স্টেশন। ব্যান্ডেল স্টেশনের বাইরে থেকেই লাহিড়ী বাবার আশ্রমে যাওয়ার জন্য অটো বা টোটো পাবেন। টোটো বা অটো আপনাকে সরাসরি আশ্রমের প্রবেশপথের সামনে নিয়ে যাবে।
✓প্রবেশ মূল্য: আশ্রমে ঢোকার জন্য কোন প্রবেশ মূল্য নেই।
✓মন্দির খোলার সময়: সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা।
✓মন্দিরে ঢোকার কিছু বস্ত্র বিশেষ নিয়ম:
মন্দিরের ঢোকার আগে সবাইকে জুতো বা চটি বাইরে খুলে রাখতে হয়।
মহিলাদের জন্য মন্দিরে ঢোকার আগে মাথা ঢেকে রাখা আবশ্যক এবং হাটুর উপরে কোনো বস্ত্র পড়ার একেবারেই অনুমতি দেওয়া হয় না। পুরুষদের নিজের মাথা ঢেকে রাখা চলবে না।
✓ভোগ নেওয়ার সময়সূচি:ভোগের কুপন অফিস কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে হয় সকাল ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে। খাওয়ার সময় সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা।
============================
ব্যাণ্ডেল গীর্জার ইতিকথা::----
মাতা মারীয়ার প্রত্যাবর্তন:-এক গভীর রাতে ফাঃ জোয়ান।
ডা ক্রুশো দেখলেন নদীর জলে এক অদ্ভুত জ্যোতি, আর ওখান থেকে ভেসে এল বন্ধু তিয়াগোর কণ্ঠে ঘোষনা-"মাতা মারীয়া ফিরে আসছেন, তিনি মৃত্যুর কবল থেকে খৃষ্টানদের রক্ষা করেছেন।” ফাঃ জোয়ান ভাবলেন... স্বপ্ন! কিন্তু সকাল হলেই একদল জেলে গীর্জার প্রবেশ দ্বারে মায়ের মূর্তিটি এনে ফাদারকে বললেন- "গুরু, 'মা' ফিরে এসেছেন।"
মাসুল প্রসঙ্গ:-মাতা মারীয়ার মূর্তির প্রত্যাবর্তন-উৎসব পালনের
শেষে গীর্জার নিকট হুগলী নদীতে হঠাৎ এক পোর্তুগীজ জাহাজের আগমন হয়। বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঝড়ে জাহাজ-ডুবির ভয়ানক বিপদ থেকে রক্ষা পেতে কাপ্টেন ও নাবিকগন মাস্তুলটি দান করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। ব্যাণ্ডেল গীর্জায় খ্রীষ্টযজ্ঞে অংশ গ্রহনের পর কাপ্টেন জাহাজের একটা মাস্তুল খুলে নিজেই গীর্জার সামনে সংবদ্ধ করলেন। আজও মাস্তুলটি গীর্জার সামনে শোভা পাচ্ছে। মাস্তুল সহ যে পালগুলি দান করা হয়েছিল, আজ পর্যন্ত সেগুলির সংরক্ষন করে রাখা সম্ভব হয়নি।
তত্ত্বাবধানে সালেসীয় সংঘঃ-প্রায় তিনশত বৎসর ব্যাণ্ডেল
গীর্জা গোয়া হতে আগত আগস্টিয়ান পুরোহিতদের তত্ত্বাবধানে ছিল। পরে জেসুইট সংঘের পুরোহিতগন দায়িত্বভার পেয়ে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গুলি গড়ে তোলেন। ১৮৭০ খ্রীঃ সেন্ট জন স্কুল স্থাপিত হয়। ১৯২৮ খ্রীঃ সালেসীয় সংঘের উপর পরিচালন ভার ন্যস্ত হয়। ১৯৫১ খ্রীঃ ডন বস্কো স্কুল ও সেমিনারী, ১৯৫২ খ্রীঃ অক্সিলিয়াম কভেন্ট স্কুল, ১৯৬৮ খ্রীঃ রিট্রিট হাউজ ও সেমিনার-হল এবং ১৯৮৭ খ্রীঃ মাদার তেরেজা-সমাজের কন্ডেন্ট প্রতিষ্ঠা হয়।
বর্তমানের গীর্জা ১৯৯০-বর্তমানে গ্রানাইট, মার্বেল পাথুর
বসিয়ে গীর্জার সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও মেরামতি করা হয়েছে। গীর্জার বাইরে ও ভিতরে প্রার্থনা-উপাসনার জন্য কতগুলি স্থান বাড়ানো ও সুন্দর হয়েছে। কয়েক শতকের ঘাত-প্রতিঘাতে বিছিন্ন খৃষ্ট-সম্প্রদায়কে পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা চলছে। ১৯৮৮ খ্রীঃ ২৫ শে নভেম্বর ব্যাণ্ডেল মহামান্য পোপ দ্বিতীয় জনপল 'ব্যাসিলিকা' সম্মানে ভূষিত করে।
No comments:
Post a Comment