Thursday, March 27, 2025

127>শান্তিনিকেতন ভ্রমন || For SV2 Souvenir--2025

 

127>শান্তিনিকেতন::19,20,21:--2025


WB 25 L 6811 porama Travels


19/03/2925 Morning 

Gareg km=57516 km

  Present starting 57521 km

On return 57956km


Room service 618

19/03/2025

পথে টিফিন ব্লাক টি+ ওমলেট 105/

দুপুরের খাওয়া ₹280/-

(ভেজ খালি ₹180+ পোস্ত বড়া ₹100)

বিকেলে----

কঙ্কালী তলা---এবং

ফুল্লরা মন্দির---যেখানে মায়ের নিচের ঠোঁট পড়েছে।

রাতের খাওয়া রুটি ও ডাল ফ্রাই

মোট ₹150/- ÷2=₹75/-


[4টি রুটি ₹50/-(সাদা রুটি ₹ 10/-×2=20 & মাখন রুটি ₹15/-×2=30)

ডাল ফ্রাই ₹70/-

জল ₹20/-

রসগোল্লা=₹10/-×1=10 ]


20/03/2025

সকালের টিফিন ₹150/- ÷2=₹75/-

[ওমলেট টেস্ট 1=₹60/-

মাখন টোস্ট1=₹40/-

জল ছোটো=₹10

চা =₹20/-]

আজ শান্তিনিকেতন টুর---

দুপুরের খাওয়া--₹620/-


(ভেজ থালি-₹ 190/-

কিচিপাঠার ঝোল-₹400/-

                   Get    ₹30/)

রাত্রের---₹70-

(রুটি 1টি ₹10/-

 1/2 (আধা) 

 ভেজ মিক্স সবজি ₹50/-

      জল  ₹10/-)

19 to 21 March 2025

দুই রাত তিনদিনের ঘর ভাড়া ₹5000/=

দিনের বেলা মিল সিঙ্গুরের 

লাবনী তে ₹370=

===============

সুরুদিনে অনেক অনেক প্রোগ্রাম করা হয়েছিলো। তথাপি অনেক কিছু দেখা হোল, মনভরে ঘুরেবেড়ালাম আনন্দে।

কিছু বাদ রইলো পরের বারের জন্য।============================

132>শান্তিনিকেতন ভ্রমন:for SV2স্যুভেনির বা স্মারক 2025

For SV2 Souvenir--2025

আমরা রাঙামাটির দেশে::--

আমরা SV2 এর সিনিয়র সিটিজেন,
আমাদের শান্তিনিকেতন ভ্রমণ::--
আমরা শ্যামবিহার ফেজ2 এর সিনিয়র সিটিজেন 16জন ঘুরে বেরিয়ে আসলাম  রাঙামাটির দেশ, বোলপুর -শান্তিনিকেতনে তিনদিন দুইরাত্রি::-
19/03/2025 থেকে 21/03/2025

শান্তিনিকেতনে দেখার সেরা সময়
নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ে মনোরম তাপমাত্রা থাকে যা দর্শনীয় স্থান দেখার জন্য এবং বাইরে ঘুরে দেখার জন্য আদর্শ আবহাওয়া থাকে। আর সেই কারণেই আমাদের ডাঃ এস,এ,সিরাজ, অর্থাৎ আমাদের শ্যাম বিহারের ডাক্তার সাহেব , মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে শান্তিনিকেতন ভ্রমনের এমন পোগ্রাম করেছেন।
ডাক্তার সাহেব আমাদের শ্যামবিহারের
সান্ধ্য আড্ডায় এক দিন জানালেন যে উনি একটি ছোট 17সিটের
(ড্রাইভারেরসিট নিয়ে 18সিটার )
বাসের ব্যবস্থা করেছেন শান্তিনিকেতন যাবার জন্য এবং একটি রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টে আটটি ডবলবেডের এসি রুম  বুক করে রেখেছেন। সেই কারণে ডাক্তার সাহেব আমাদের সকলকে শান্তিনিকেতন যাবার জন্য বলছেন। উনি আরও জানালেন যে বাসে করে যাতায়াত ও আশেপাশের ঘুরে দেখতে বাসের ভাড়া উনি নিজেই ব্যবস্থ্য করবেন। আমদের শুধু নিজের নিজের হোটেল ভাড়া ও নিজের নিজের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা নিজেদের করতে হবে।
আমরা ষোল জন ওনার এই প্রোগ্রামে রাজি হলাম।
আমরা 16 জন:----
●শ্রী ডাঃ এস,এ,সিরাজ,- শ্রীমতি ফৌজিয়া সিরাজ। ●শ্রী বাবুল রহমান -- শ্রীমতি সুফিকা রহমান। ●শ্রী অজিত কানুনগৌ--শ্রী মতি স্মিতা কানুনগৌ।
●শ্রী দিলীপ দাস--শ্রী মতি কুমকুম দাস। ●শ্রী সুব্রত চক্রবর্তী--শ্রীমতি ইন্দ্রানী চক্রবর্তি। ●শ্রী প্রদীপ কুমার দত্ত--শ্রীমতি শর্মিষ্ঠা দত্ত।   ●শ্রী উৎপল কুমারবাগচী-- শ্রীমতি মিতা বাগচী। ●শ্রী অশোক লোহিয়া। এবং আমি ●শ্রী আদ্যনাথ রায় চৌধুরী।

শান্তিনিকেতনে আমাদের হোটেল তথা রিসোর্টের নাম ঠিকানা::---
   【MAHARSHI NIWAS
       Amar Kutir Road,
       Ballavpur. Shantiniketan.
       Pin coad:--731236
       Email:---
  niwasmaharshi @ gmail.com
Mob::--9775633633
Dining Hall== Khai Khai
Tea Bar-------= চুমু--চা।
------------------------------------
19 মার্চ সকাল 7:20 মিনিটে আমাদের বাস রওনা দিল শান্তিনিকেতনের উদ্দেশ্যে।
পথে সিঙ্গুরের কাছে হোটেল লাবনীতে  আমরা যে- যার মতন কিছু জলখাবার খেয়ে নিয়ে আবার রওনা দিয়ে দুপুর ঠিক 1টা 10 নাগাদ শান্তিনিকেতনে আমাদের নির্দিষ্ট হোটেলে তথা রিসোর্টে পৌঁছে গিয়েছিলাম।
-- রাঙামাটির দেশে পলাশ ফুলের সৌরভে, দেখলাম মেয়েরা পলাশ ফুলের মালা গলাল ঝুলিয়ে আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরাও কদিন ঘুড়ে বেড়ালাম বাঁধন ছাড়া মনের আনন্দে।
ডাঃ এস,এ,সিরাজের তত্ত্বাবধানে,
এই যাতায়াত ও ঘুরে দেখার জন্য বাসের ব্যবস্থাপনায় ডাক্তার সাহেব নিজেই করেছেন। সেই কারণে ডাক্তার সিরাজ কে
ধন্যবাদ  জানিয়ে বা বাহবা দিয়ে ওনাকে ছোট করতে চাই না।
তবে ওনাকে আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু লেখার চেষ্টা কিরেছি।
আমি তো কোন লেখক নই বা কিছু লেখার মতন জ্ঞানও আমার নাই।

তবে ভ্রমন মানেই---
প্রকৃতির মাঝে মুক্ত হওয়ায়,
নিজেকে নিরালায় খুঁজে পাওয়া।
তাইতো ভ্রমন একান্ত ভালোলাগা,
কিছুসময় প্রকৃতির সাথে মিসেথাকা।
========

তবে আজ যা লিখবো তা সবটাই চোখে দেখা ও অটোওয়ালা(যে অটোতে করে শান্তিনিকেতন ঘুরে দেখেছি সেই আটো ওয়ালা গাইডের মতন খুব সুন্দর করে সম্পুর্ন দর্শনীয় স্থান গুলির বর্ননা ও ইতিহাস বলে শুনিয়েছেন।)ওনার মুখের কথা যেটুকু শুনেছি, সেই টুকুই আজ লিখতে বসেছি।
আমার এই লেখা সকলের ভালো নাও লাগতে পারে, তথাপি আমি লিখছি  একান্ত নিজের মনের  চাহিদা পূরণে,
তিনদিন ঘুরে বেড়াবার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে, একসাথে আমরা ঘুরেছি দিনগুলি উপভোগ করতে।

আমি অনেক বার শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন ঘুরে দেখেছি , তথাপি বার বার যতবার দেখি যেন দেখার ইচ্ছা আরও বেরেজায়। তবে আজ পর্যন্ত এই টুকুই বুঝেছি যে শান্তিনিকেতনেকে বুঝতে ও একনিষ্ঠ ভাবে  অনুভব করতে পারলে আমাদের বাংলাকে অনেকাংশেই বোধহয় জানা ও চেনা সহজ হয়ে যায়। এমনটাই আমার অনুভব।

কলকাতা থেকে মাত্র 170 km উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বোলপুরের একটি ছোট শহর এই শান্তিনিকেতন।
রাঙামাটি ও পলাশ ফুলের দেশ এই সুন্দর মনোরম শহরটি, যেটি বিশেষ করে এই রাজ্যের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের সাহিত্য ও শিল্প কলার  শিকড়ের স্নায়ুকেন্দ্র। জ্ঞান,বিজ্ঞান , শিক্ষা,সাহিত্য, দর্শন,অঙ্কন, ভাস্কর্য আরও নানান শিল্প কলা শিক্ষার প্রাণ কেন্দ্র এই শান্তিনিকেতন।
আমি যতবার শান্তিনিকেতনে গিয়েছি ততবারই এই শহর অর্থাৎ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত এই শহরকে বুঝতে চেষ্টা কিরেছি , আসলে এই শহরটি বাঙালির মন, প্রাণ ও চিন্তার প্রাণ কেন্দ্র। শুধু তাইনয় আজ সমগ্র বিশ্বের আকর্ষণ কেন্দ্র।
এই ছোট্ট শহরটি নোবেল বিজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দ্বারা বিখ্যাত হয়েছে ।
শান্তিনিকেতন এক বিশাল প্রতিষ্ঠানের বিশাল কর্মযজ্ঞ,
এ-হেন বিশালকে ব্যাখ্যা করা অর্থাৎ শান্তিনিকেতন নিয়ে কিছু লেখার
মতন ক্ষমতা বা জ্ঞান কোনটাই আমার নাই। তথাপি কিছু না লিখলেই নয় তাই কিছু একটা লেখার চেষ্টা করছি।
ভুলভ্রান্তি হতেই পারে, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থী।
বীরভূমের নদীগুলি অজয়, কোপাই,
ময়ূরাক্ষী, দারকা ও ব্রাহ্মণী।
এই সকল নদীর তীরে গড়ে ওঠা কত ইতিহাসের স্বাক্ষী বয়ে নিয়ে চলেছে সেই আদি কাল থেকে। সে সকল আজ ইতিহাস।
আমরা অনেকেই হয়তো মনে রাখেনি সেই সকল ইতিহাস।
তথাপি ইতিহাস তো ইতিহাসই, ইতিহাস কখনো থেমে থাকেনা, সময়ের তালে সময়ের গতিতে ইতিহাসও এগিয়ে চলে।
আর সেই এগিয়ে চলার ইতিহাসের স্বাক্ষী নিয়েই আজ দাঁড়িয়ে আছে বীরভূমের একেবারে দক্ষিণে বোলপুর শহরের নিকটের গ্রাম গুলি যেমন রাইপুর-সুপুর
পঞ্চায়েত এলাকা। যার অন্তর্গত বেশ কয়েকটি গ্রাম আছে।
বোলপুর শহর পেরিয়ে কবি জয়দেব রোড ধরে ইলামবাজার যেতে বাঁ দিকে রাইপুর।
রাইপুরের সিংহ জমিদারেরা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভক্ত ছিলেন।
এই সিংহ পরিবারের শ্রীকণ্ঠ সিংহ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের একজন শিষ্য ছিলেন। বর্তমানে ধ্বংস প্রায় সেই বিশাল অট্টালিকা মনেহয় ভুতুড়ে রাজ বাড়ি।
অনেক সিনেমার শুটিং হয়েছে এখানে এই ভুতুড়ে রাজ বাড়িতে।
এই রায়পুরের বাবুদের কাছ থেকে দুটি ছাতিম গাছ কে কেন্দ্র করে কয়েক বিঘা জমি কিনে নিয়ে ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই জমিতেই গড়ে উঠেছে বর্তমানের শান্তিনিকেতন।
এখন যেখানে এতো প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা কেন্দ্র। এক সময়ে এই ভূখন্ড ছিল ধু ধু জনশূন্য তরুশূন্য নির্জন প্রান্তর ।
সেই জমিতেই বর্তমানের শান্তিনিকেতন।
এক সময়ে এই প্রান্তরে একদল ডাকাতের বাস ছিল। সত্যিকারের ডাকাতি করার মতনই এই জায়গাটি ছিল।
শান্তিনিকেতনের দক্ষিণ দিকে একটি জলাশয় আছে। সেই জলাশয়ের ধারেই ভুবনডাঙা গ্রাম। ডাকাতেরা এই গ্রামেই বাস করত।
শোনাজায়, ডাকাতেরা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের  প্রভাবে ডাকাতি ছেরে কৃষিকাজ করতে শুরু করেছিল এবং সেই ডাকাতের সর্দার পরবর্তী সময়ে  শান্তিনিকেতনের একনিষ্ঠ পরিচারক রূপে কাজ করতেন।
আমি যতবার শান্তিনিকেতনে গিয়েছি প্রতিবারই এই গল্প বা ইতিহাস শুনেছি আজও আবার শুনলাম  গাইড তথা ওই আটোওয়ালার মুখে।

পরম শ্রদ্ধেয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শিশুকাল থেকে এখানে এই বোলপুরের  প্রকৃতির মাঝেই খুঁজে পেয়েছিলেন তাঁর
জীবনের অন্তর স্বত্বা, যে স্বত্বার প্রেরণায় তিনি এখানে বসেই বহু কবিতা, উপন্যাস এবং গান সহ তাঁর কিছু মহান রচনার রচনা করেছিলেন।
আমার নিজের ভালোলাগার একটি বিশেষ  স্থান এই শান্তিনিকেতন।
আজ শান্তিনিকেতন  আন্তর্জাতিক খ্যাতির  জনপ্রিয় এক পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।    

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই স্থানটিকে নিজের বাসস্থান করে নিয়েছিলেন এবং তাঁর বেশিরভাগ সাহিত্যিক ও গ্রন্থ এখান বসেই রচনা করেছিলেন। শান্তিনিকেতনের ক্যাম্পাসটি বাংলার ইতিহাস ও সাহিত্যের বেশিরভাগ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অনেক ভাস্কর্য, চিত্রকলা দ্বারা সু-সজ্জিত। শান্তিনিকেতন, যা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিখ্যাত,
এখানে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রভবন, উপাসনা ঘর, উত্তরায়ণ কমপ্লেক্স, নন্দনিক থিয়েটার এবং বল্লভপুর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং আরও অনেক কিছু, যেগুলি প্রত্যক্ষ না দেখলে, বলে বা লিখে বুঝিয়েদেওয়া আমার দ্বারা সম্ভব নয়।
তবুও যা দেখেছি শুনেছি সেইটুকুই লিখছি।
আমরা ঠিক সময়ে রিসোর্টে পৌঁছে
প্রত্যেকে নিজের নিজের রুমে গিয়ে একটু ফ্রেস হয়ে মহর্ষি রিসোর্টে র "খাই খাই"
ডাইনিং হলে এসে দুপুরের  মধ্যাহ্ন ভোজন  সারলাম।
এরপরে সকলে একটু বিশ্রাম করেই আমাদের বাস নিয়ে বেরিয়ে পরলাম। কঙ্কালিতলা ও ফুল্লার মন্দিরের উদ্যেশ্যে ।

★কঙ্কালীতলা::---
আমাদের হোটেল মহর্ষিনিবাস থেকে
কঙ্কালীতলা মোটামুটি 9.3 কি মি
(9.3km)এর একটু বেশি।

কাঙ্কালীতলা বোলপুর এর লাভপুর রোডে অবস্থিত। কঙ্কালীতলা 51 শক্তিপীঠের অন্যতম।  ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার বোলপুর মহকুমার একটি গ্রাম পঞ্চায়েত ও হিন্দু তীর্থ। এখানে মা এর কঙ্কাল  ( কঙ্কালের উপরের অংশ ) পড়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয় এবং সেই কারণেই এটি একটি  শক্তিপীঠ। জায়গাটি 'কোপাই' নদীর তীরে অবস্থিত।
তবে কেউ কেউ মনেকরেন যে এখানে পড়েছিল মা য়ের কোমর বা কাঁখাল ,
আর এই কাঁখল থেকেই স্থানীয় ভাবে দেবীর নাম রয়েছে কঙ্কালী।
লোকশ্রুতি আছে যে কঙ্কালীতলায় যে কুন্ড টি আছে সেই কুণ্ডের ঈশাণ কোণে দেবী সতীর কঙ্কাল নিমজ্জিত আছে।
এখানে দেবীর নাম দেবগর্ভা এবং ভৈরবের নাম রুরু।  স্থানীয়ভাবে দেবীর নাম কঙ্কালী, তবে পৌরাণিক দেবী বেদগর্ভা নামে পরিচিত। এখানে অন্যান্য কিছু মন্দিরও আছে ।  এখানে "মা" কঙ্কালী দেবীর কোনও বিগ্রহ নেই। মা কঙ্কালীর ছবিই এখানে পুজো করা হয়।

কঙ্কালীতলা মন্দিরের পাশের কুণ্ডটিতে  কিছু পাথর আছে। অনেকের বিশ্বস এই পাথর গুলি দেবীর দেহাংশ এবং প্রতি 12 বছর অন্তর এই পাথরগুলো তোলা হয় ও বিশেষ পূজা করা হয়।  পূজা শেষ হলে তা আগের জায়গায় রেখে দেয়া হয়। এই কুণ্ডের পাশেই আছে মহা শ্মশান, এই  শ্মশানে গুপ্ত তন্ত্র সাধনা হয়। এখানে কালিপূজা জাঁকজমক ভাবে করা হয়।

চৈত্র সংক্রান্তিতেই দেবীর মূল উৎসব। সেদিন এই কুণ্ডেই মায়ের পুজো করা হয়। সে সময় মন্দিরকে ঘিরে মেলা বসে। দেবীপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে এই কুণ্ডের ধারে একান্ন কুমারীর পুজো করা হয়।  সতীদেহের 51 টি খণ্ডকে সংকল্প করে একটি ঘট স্থাপন করা হয়। এরপর কঙ্কালিতলা কালী মন্দির সংলগ্ন পঞ্চবটী গাছের নীচে পুজো করা হয় 51জন কুমারীকে।
জনশ্রুতি রয়েছে, এই কুণ্ডের সঙ্গে তিনটি সুড়ঙ্গ পথে কাশীর মণিকর্ণিকা ঘাটের সঙ্গে যুক্ত কঙ্কালীতলার পবিত্র কুণ্ড।
আমরা সকলে মন্দিরে প্রণাম করলাম কেউ কেউ ভক্তি ভরে শুদ্ধ মনে 'মা' এর মন্দিরে পুজোও দিলেন।
এই পুজোদেবার সাক্ষাৎ ফলস্বরুপ আমরা প্রসাদ পেলাম।
এর পরেই আমরা আবার রওনা দিলাম
'মা' ফুল্লরামায়ের মন্দিরের দিকে।

★ফুল্লরা মন্দির::--

কঙ্কালীতলা থেকে ফুল্লরা মন্দির
সতেরো কিলোমিটার থেকে একটু বেশি।(Approx 17 km)
এখান থেকে আমাদের হোটেল মোটামুটি 26.3 km .

ঠিক সন্ধ্যায় একটু আগে আমরা
ফুল্লরা মন্দিরের কাছে একটি ছোট্ট চা-এর দোকানে পৌঁছে গেলাম। সেখানে আমরা সকলে চা-বিস্কুট খেয়ে ঠিক সন্ধ্যার সময় 'মা'-এর মন্দিরে পৌঁছে গিয়ে মন্দিরে ব্রহ্মশিলা দর্শন করলাম ও মন্দিরের আসে পাশে আরও কিছু মন্দির আছে সেগুলি দেখে পাশেই
ছোট্ট মন্দির দেবীর ভৈরব বিশ্বেশ্বর মহাদেবের মন্দির। ভৈরব মন্দির দর্শন করলাম।
তার পরে মন্দিরে সন্ধ্যাআরতী শুরু হাতেই আমরা সকলে অপূর্ব সেই সন্ধ্যা আরতি দেখলাম।
এই মন্দির চত্বরে পঞ্চমুন্ডির আসন আছে। 66 বিঘা জমি নিয়ে এই ফুল্লরা মহাপীঠ।
এখনকার পিনকোড: 731303

এই মন্দির শান্তিনিকেতন থেকেও 30km  দূরে।
লোকবিশ্বাস অনুসারে এখানে ফুল্লরায় সতীর নিচের ঠোঁটের অংশ পড়েছিল। এখানে গর্ভগৃহে দেবীর কোন মূর্তি নাই এক কূর্মাকৃতি ( কচ্ছপের আকৃতি বিশিষ্ট)   লাল সিঁদুরচর্চিত শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ।
এখানে মা, রক্তিম ব্রহ্মশিলাতে পূজিত হন। অর্থাৎ লাল সিঁদু্র মাখানো কূর্মাকৃতি  (কচ্ছপাকৃতি) একটি লোহিত বর্ণ শিলাখণ্ডকেই দেবীর প্রতিভূ রূপে পূজা করা হয়।
দেখলাম এই মন্দিরের পাশে একটি বিরাট পুকুর আছে। কিংবদন্তি অনুসারে, রামায়নে বর্ণিত রামের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই 108টি ( একশত আটটি)নীল পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন।

ফুল্লরা ভারতের 51 শক্তিপীঠের অন্যতম।
তন্ত্রচূড়ামণি অনুসারে  একান্ন পীঠের 49 তম সতীপীঠ লাভপুরের ফুল্লরা।
প্রতি বছর মাঘীপূর্ণিমায় ত্রয়োদশী তিথিতে মায়ের বিশেষ পুজোর্চনা হয়। এখানে প্রত্যেকদিন মায়ের ভোগে থাকে, মাছ, মাংস ডাল দুরকম সবজি টক, পাঁচ রকম ভাজা ও অন্যান্য সামগ্রী। লাভপুরের এই মন্দিরের চারিধার গাছপালায় ঘেরা। মন্দিরটি বেশ একটা ছায়াময় পরিবেশ। লোকালয় থেকে একটু দূরে দেবী ফুল্লরার মন্দির।এখানে
মাঘীপূর্ণিমায় ত্রয়োদশী তিথিথেকে  10(দশ) দিনের মেলা বসে।

এখানে দেবীর ভৈরব বিশ্বেশ্বর মহাদেব। মহাদেব বিশ্বেশ্বর  ফুল্লরা মন্দিরের কাছেই পীঠ চত্বরে আলাদা একটি ছোট মন্দিরে অবস্থান করছেন।
মন্দির চত্বর খুব একটা বড় নয় তবে গর্ভগৃহের সামনেই রয়েছে নাট মন্দির আর জগমোহনে রয়েছে হাড়ি কাঠ।‌
এখানে বয়েচলেছে উত্তর অভিমুখী কোপাই নদী।
প্রতিদিন মন্দির খোলে ভোর 5:30am আর বন্ধ হয় রাত 10pm । এই সময়ের মধ্যে পূজো দেয়া যায়।
মন্দিরের কাছেই মহা শ্মশান। তন্ত্র সাধনার উত্তম স্থান হিসেবে প্রসিদ্ধ এই ফুল্লরা মায়ের মন্দির। নানা সময়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে তন্ত্রসাধকরা এখানে আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রতি অমাবস্যাতেও অনেক ধুম-ধাম করে এখানে বিশেষ পূজার্চনা হয় "ফুল্লরা মা" এর। এই মন্দিরের বিষয়ে অনেকে
কিংবদন্তি বা লোক কথা আছে।
সেগুলি লিখতে গেলে লেখা অনেক বড় হয়ে যাবে সেই কারণেই  কিংবদন্তি বা লোককথা কিছুই লিখলাম না।

এর পরে আমরা রওনা দিলাম আমাদের হোটেলের দিকে।
হোটেলে পৌঁছে চুমু-চা বারে চা খেয়ে  রুমেগিয়ে একটু বিশ্রাম করে রাত্রের ডিনার করলাম "খাই খাই" ডাইনিং হলে।

পরের দিনের প্লান হোল সকালে টিফিন খেয়ে যাওয়া হবে শান্তিনিকেতন।
আর বিকেলে শোনাঝুড়ি খোয়াই হাটে।

★★20/03/2025--
20 মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে বেড টি খেয়ে রিসোর্টের পাশে শোনাঝুড়ি রোডে একটু ঘুরে বেড়ালাম গ্রামগুলি ঘুরে দেখলাম। গ্রামের প্রতিটি ঘরেই কুলগাছে প্রচুর কুল দেখে লোভ সামলাতে না পেরে কিছু কুল পারলাম। বাগচিদার স্ত্রীকে কুলগুলি দিতে উনি ভীষণ আনন্দিত মনে কুলগুলি নিয়ে সকলকে দেখালেন।
তারপরে একটু হাঁটাহাঁটি করে সকাল বেলার যে-যার মতন টিফিন খেয়ে   শান্তিনিকেতন ঘুরে দেখতে বেরিয়ে পড়লাম।
আমরা চারটি আটো ভাড়া করে চারজন করে একটি অটোতে  (4×4=16 জন) ঘুরে দেখলাম সম্পুর্ন শান্তিনিকেতন ।
এখানে প্রত্যেক আটো ওয়ালার কাছে বিস্তারিত গাইড ম্যাপ আছে।
সেই ম্যাপ নুসারে ওদের সাথে ভাড়া ঠিক করতে হয়।
আমরা অনেক দরাদরি করে শেষে ডাক্তার বাবুই ওদের বলে কয়ে চারটি অটো ঠিক করেলেন  ₹650/- টাকা করে প্রতি আটো । এক অটো তে চারজন করে চারটি অটো।
আটো ওয়ালারা বেশ অভিজ্ঞ গাইডের মতন করে প্রতিটি জায়গাতে খুব ভালো করে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন।
আমরাও খুব মনদিয়ে শুনতেচেস্টা করছিলাম ওনাদের কথা।
আমাদের আটো চলছে আর অটোয়ালা
বর্বনা করে চলেছেন ডাইনে বাঁয়ের সকল দৃশ্যমান স্থান গুলি।
প্রথমে সেই বিখ্যাত তিন পাহাড়ি বটবৃক্ষ।

গাইড কাম অটোয়ালা বলে চলেছেন::---

★বটগাছ এবং শান্তিনিকেতন:---

রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে বটগাছের সাথে একটি বিশেষ সম্পর্ক আছে, যা তাঁর বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর স্থাপন করেছিলেন এবং যা পরবর্তীতে শান্তিনিকেতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।
তিন পাহাড়ী বটগাছ, এটাই সহজ পাঠের প্রচ্ছদে দেখা যায়।
রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে বাড়ি তৈরি করার সময় একটি পুকুর খনন করেন, যা বর্তমানে তিনপাহাড়ের স্থানে অবস্থিত তালপুকুর নামে পরিচিত ছিল। পুকুরটি ভরাট করে সেখানে একটি বটগাছ স্থাপন করেন, যা পরবর্তীকালে "তিনপাহাড়" নামে পরিচিত হয়।
শান্তিনিকেতনের সাথে রবীন্দ্রনাথের বটগাছের সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিল যে, শান্তিনিকেতন এখন এই বট গাছটিকে ঘিরেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহর হিসাবে পরিচিত এবং রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিচিহ্ন বহন করে।
এরপরে দেখলাম ও নানান গল্প শুনলাম
গাইডের মুখে::--
★উত্তরায়ণ কমপ্লেক্স:-★নন্দনিক থিয়েটার:--★প্রকৃতি ভবন:--★শ্রীপল্লী:--
★প্রতিচি::-★পঞ্চবটী:-★তালধ্বজ::---
★সংস্কৃতির মঞ্চ: ---★উপাসনা ঘর বা প্রার্থনা হল ::--★রবীন্দ্র ভবন::-
★বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়:--★আশ্রম:-
★শান্তিনিকেতন জাদুঘর:---★বাইশে শ্রাবণ::----★শান্তিনিকেতন পৌষ মেলা::---★তারপরে আছে বসন্ত উৎসব::--

শান্তিনিকেটন ঘুরে দেখে এসে যে যার মতন খাই খাই তে দিনের খাবার খেলো।
আমরা পাঁচ জন বাগচী দা ও ওনার স্ত্রী, প্রদীপ দা ও ওনার স্ত্রী এবং আমি এইপাচঁজনে দুপুরের খাবার খেতে চলেগেলাম শোনাঝুড়ি খোয়াই হাটের কাছে ----রাম-শ্যাম-হোটেলে।
RAM SHYAM  VILLAGE RESORT
Sonajhuri Khoai Hut,
Santiniketan. Birbhum.
pH::--7076319664
          6297872977
আমরা সকালেই জেনেছিলাম গ্রাম বাসীদের কাছে থেকে যে সামনে এক গ্রামের মধ্যে  একটি বুদ্ধিস্ট টেম্পের আছে যার সামনে বিরাট এক বুদ্ধস্ট্যাচু আছে। আমরা দুপুরে সোনাঝুড়ি  হাটের কাছে লাঞ্চ করতে যাবার পথে  সেই বুদ্ধ টেম্পেলটি দেখে তারপরে  খেতে গেলাম
Ram Shyam----হোটেলে।
ভেজ থালি ও কোচিপাঠার মাংস কষা খেলাম, রান্না বেশ ভালোই করেছিল।
খাবার খেয়ে আমরা যে টোটো করে এসেছিলাম আবার সেই টোটো করেই আমাদের হোটেল মহর্ষিতে ফিরে আসলাম।
প্রায় আধা ঘন্টা বিশ্রাম করে সকলে মিলে বাসে করে গেলাম শোনাঝুড়ি খোয়াই হাটে।
হাটে পৌঁছবার একটু পড়েই শুরু হলো বৃষ্টি, সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার ছিল, এখন বৃষ্টির সাথে বেশ জোরে হওয়া
বইতে শুরু করল। ফলে সব বিক্রেতা দোকান পাট গুটিয়ে নিলো।
আমাদের আর ভালো করে হাট বাজার করা হলনা, বিশেষ করে এই শোনাঝুড়ি হাটের বিখ্যাত সেই বাউল গান আর শোনা হলনা।
এই হাটে প্রতিদিনই বিভিন্ন বাউল সম্প্রদায় আসেন । তাঁরা তাদের গান শুনিয়ে তারের রোজগার করেন।
আমাদের আর বাউল গান শোনা হলনা।
এই একটাই  অনুশোচনা রয়ে গেল।

সুরুরদিনে অনেক অনেক প্রোগ্রাম করে রেখেছিল। তথাপি অনেক কিছু দেখা হোল, মনভরে ঘুরেবেড়ালাম আনন্দে।
তথাপি কিছু বাদ রইলো পরের বারের জন্য।
আগামীকাল দুপুর 12টার মধ্যেই হোটেলের চেকআউট টাইম।
  21/03/2025
আজ আমাদের কলকাতা ফিরে যাবার দিন। সকালে বেডটি খেয়ে স্নান সেরে লাগেজ গুছিয়ে নিলাম। তারপরে সকালের টিফিন খেয়ে বেরিয়ে পড়ার জন্য তৈরি হয়ে নিলাম।
আমরা 10টা নাগাদ রওনা দিলাম।
পথে দুইবার থামতে হোল।
একবার শক্তিগড়ে ল্যংচা খেতে ও কিনতে।
আর পরে একবার হোটেলে দুপুরের লাঞ্চ করতে সকলের ইচ্ছাতে সিঙ্গুরের কাছে সেই লাবনী হোটেলে।
তবে যেহেতু লাবনী হোটেল উল্টো পথে অর্থাৎ বোলপুর যাবার পথে সেই কারণে আমাদের ড্রাইভার সিঙ্গুরে গোলচক্কর ঘুরে উল্টো পথে গিয়ে লাবনী হোটেলের সামনে গাড়ি দার করলো।
আমরা যে-যার মতন দুপুরের খাবার খেয়ে আবার রওনা দিলাম এবং ঠিক সময়েই ------ শ্যামবিহারে পৌঁছে গেলাম।
এভাবেই আমাদের শ্যাম বিহার ফেজ 2 সিনিয়র সিটিজেন ঐতিহাসিক শান্তিনিকেতন ভ্রমণের সমাপ্তি হল।
        <=======>

|| ভ্রমন এক নেশা ||
         <---আদ্যনাথ---->
ভ্রমন এমন এক সুন্দর নেশা,
যে নেশা দেখায় নুতন দিশা।
মনের অতৃপ্ত বাসনার মাঝে,
একটু তৃপ্তি খুঁজে পাওয়ার আশে।
ভ্রমণ পৃথিবীর একমাত্র জিনিস যার
মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় নতুন প্রাণশক্তি ।
ভ্রমণের স্মৃতি অবসর জীবন যাপনে,
বুক ভরে থাকে একান্ত গোপনে,
অবসর জীবনে ভ্রমন শক্তির উৎস,
নুতন ভাবনা আর প্রকৃতির স্পর্শ,
শান্ত মনে জাগায় নুতন শক্তি,
বৃদ্ধবয়সে উৎকৃষ্ট ঔষধি ও মনের শক্তি।

ভ্রমণ অনেক অচেনাকে চেনায়,
বয়সের ভারকে ভুলতে শেখায়,
সাথে সহনশীলতা ও সহিষ্ণুতা শেখায়,
পথে বন্ধুকে চিনতে শেখায়।
তাইতো জীবনে ভ্রমন এক শ্রেষ্ঠ অধ্যায়,
একবার স্বাদ বুঝলে মন বার বার বেরিয়ে পড়তে চায়।
ভ্রমন এক অদ্ভুত নেশা,
অনেক দেখেও মেটেনা আশা।
প্রকৃতির মাঝে নিজেকে উপভোগ করা,
অজানাকে কাছে থেকে জানা।
একটু প্রকৃতির সাথে মিশে থাকা,
কিছু সময় নিরালায় থাকা।
<-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
<<<<<<-------------->>>>>>
আমাদের বাস ছিল
     PORAMA TRAVELS
         (Force Traveller)
             WB 25L 6811
         Ph:--9674133067

No comments:

Post a Comment