128>|| SV2এর প্রবীণ16 জন রাঙামাটির দেশে || For SV2 Souvenir–-2025
<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
আমরা শ্যামবিহার ফেজ2 এর সিনিয়র সিটিজেন 16জন ঘুরে আসলাম রাঙামাটির দেশ, বোলপুর -শান্তিনিকেতনে তিনদিন দুইরাত্রি::-
19/03/2025 থেকে 21/03/2025
রাঙামাটি ও শান্তিনিকেতনের পবিত্র স্পর্শে এক অনাবিল আনন্দ ও প্রশান্তিতে মনপ্রাণ ভরে গেছে।
আমাদের সান্ধ্যআড্ডায় একদিন ডাক্তার সিরাজ সাহেব জানালেন যে উনি আমাদের সকলকে নিয়ে শান্তিনিকেতন বেড়াতে যাবার প্লান করছেন। শান্তিনিকেতন ভ্রমনের ভালো সময় নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত। সেই কারনে দোলের পরে 19মার্চ থেকে তিনদিনের ভ্রমনের জন্য উনি নিজে একটি 17/18 সিটের বাসের ব্যবস্থা করেছেন এবং শান্তিনিকেতনে একটি রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টে আটটি ডবলবেডের এসি রুম বুক করেছেন। এখন আমরা রাজি হলেই উনি বাস ও হোটেলে বুকিং কনফার্ম করবেন। ডাক্তার সাহেব আরও জানালেন বাসে করে যাতায়াত ও আশেপাশের ঘুরে দেখতে বাসের ভাড়া উনি নিজেই ব্যবস্থ্য করবেন। আমদের শুধু নিজের নিজের হোটেল ভাড়া ও নিজের নিজের খাওয়া- দাওয়ার ব্যবস্থা নিজেদের করতে হবে। হোটেল বুক উনিই করে দেবেন।
আমরা ষোল জন ওনার এই প্রোগ্রামে রাজি হলাম।
আমরা 16 জন:----
●শ্রী ডাঃ সৈয়দ আহসান সিরাজ--শ্রীমতি ফৌজিয়া সিরাজ। ●শ্রী বাবুল রহমান -- শ্রীমতি সুফিকা রহমান। ●শ্রী অজিত কানুনগৌ--শ্রী মতি স্মিতা কানুনগৌ।
●শ্রী দিলীপ দাস--শ্রী মতি কুমকুম দাস। ●শ্রী সুব্রত চক্রবর্তী--শ্রীমতি ইন্দ্রানী চক্রবর্তি। ●শ্রী প্রদীপ কুমার দত্ত--শ্রীমতি শর্মিষ্ঠা দত্ত। ●শ্রী উৎপল কুমার বাগচী-- শ্রীমতি মিতা বাগচী। ●শ্রী অশোক লোহিয়া। এবং আমি ●শ্রী আদ্যনাথ রায় চৌধুরী।
19 মার্চ সকাল 7:20 মিনিটে আমাদের বাস রওনা দিল শান্তিনিকেতনের উদ্দেশ্যে। পথে সিঙ্গুরের কাছে হোটেল লাবনীতে আমরা যে- যার মতন কিছু জলখাবার খেয়ে, আবার রওনা দিয়ে দুপুর ঠিক 1টা 10 নাগাদ শান্তিনিকেতনে আমাদের নির্দিষ্ট রিসোর্টে পৌঁছে গিয়েছিলাম।
শান্তিনিকেতনে আমাদের হোটেল তথা রিসোর্টের নাম ঠিকানা::---
【MAHARSHI NIWAS, Amar Kutir Road, Ballavpur. Shantiniketan.
Pin coad:--731236
Email:---niwasmaharshi @ gmail. com. Mobile::--9775633633】
Dining Hall== Khai Khai
Tea Bar-------= চুমু--চা।
------------------------------------
ডাঃ এস,এ,সিরাজের ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে, এই যাতায়াত ও ঘুরে দেখার জন্য বাসের ব্যবস্থা ডাক্তার সাহেব নিজেই করেছেন। সেই কারণে ডাক্তার সিরাজ কে
ধন্যবাদ জানিয়ে বা বাহবা দিয়ে ওনাকে ছোট করতে চাই না।
তবে ওনাকে আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করছি।
---ভ্রমন মানেই---
প্রকৃতির মাঝে খোলাহাওয়ায়,
নিজেকে খুঁজে পাওয়া নিরালায়।
তাইতো ভ্রমন একান্ত ভালোলাগা,
কিছুসময় প্রকৃতির সাথে মিশেথাকা।
ভ্রমণে প্রকৃতি নিঃস্বার্থ শিক্ষাদেয়,
প্রকৃতির সৃষ্টি রহস্য উপলব্ধি করাযায়।
প্রকৃতির মাঝে ভ্রমণে যা শেখা যায়,
কোন পুস্তকই তার সমকক্ষ নয়।
=======
আমরা ঠিক সময়ে রিসোর্টে পৌঁছে
প্রত্যেকে নিজের নিজের রুমে গিয়ে একটু ফ্রেস হয়ে মহর্ষি রিসোর্টে র "খাই খাই"
ডাইনিং হলে এসে দুপুরের মধ্যাহ্ন ভোজন সারলাম।
আমাদের আজকের পোগ্রাম কঙ্কালীতলা ও "মা" ফুল্লার মন্দির।
দুপুরের খাবার পরে একটু বিশ্রাম করেই আমাদের বাস নিয়ে বেরিয়ে পরলাম। কঙ্কালিতলা ও ফুল্লার মন্দিরের উদ্যেশ্যে ।
★কঙ্কালীতলা::---
আমাদের হোটেল থেকে কঙ্কালীতলা মোটামুটি 9.3 কি মি এর একটু বেশি।
কাঙ্কালীতলা বোলপুর এর লাভপুর রোডে অবস্থিত। এটি 51 শক্তিপীঠের অন্যতম।
কোপাই নদীর তীরে এখানে "মা" এর কঙ্কাল পড়েছিল কেউ বলেন "মা" য়ের কোমর বা কাঁখাল পড়েছিল
আর এই কাঁখল থেকেই স্থানীয় ভাবে দেবীর নাম রয়েছে কঙ্কালী।
এখানে দেবীর নাম "দেবগর্ভা" এবং "ভৈরবের নাম রুরু'।স্থানীয়ভাবে দেবীর নাম কঙ্কালী।
এখানে "মা" কঙ্কালী দেবীর কোনও বিগ্রহ নেই। মা কঙ্কালীর ছবিই এখানে পুজো করা হয়। মন্দিরের পাশের কুণ্ডটিতে কিছু পাথর আছে। অনেকের বিশ্বস এই পাথর গুলি দেবীর দেহাংশ এবং প্রতি 12 বছর অন্তর এই পাথরগুলো তুলে বিশেষ পূজা করে আরার আগের জায়গায় রেখে দেওয়া হয়। এই কুণ্ডের পাশেই আছে মহা শ্মশান, এই শ্মশানে গুপ্ততন্ত্র সাধনা হয়। এখানে কালিপূজা জাঁকজমক ভাবে করা হয়।
চৈত্র সংক্রান্তিতেই দেবীর মূল উৎসব।
সে সময় মন্দিরকে ঘিরে মেলা বসে। দেবীপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে 51জন কুমারীকে পূজা করা হয়।
জনশ্রুতি রয়েছে, এখানকার কুণ্ডের সঙ্গে তিনটি সুড়ঙ্গ পথে কাশীর মণিকর্ণিকা ঘাটের সঙ্গে যুক্ত ।
আমরা সকলে মন্দিরে প্রণাম করলাম কেউ কেউ ভক্তি ভরে শুদ্ধ মনে 'মা' এর মন্দিরে পুজোও দিলেন।
এই পুজোদেবার সাক্ষাৎ ফলস্বরুপ আমরা প্রসাদ পেলাম। এর পরেই আমরা আবার রওনা দিলাম 'মা' ফুল্লরামায়ের মন্দিরের দিকে।
★ফুল্লরা মন্দির::--
কঙ্কালীতলা থেকে ফুল্লরা মন্দির সতেরো (17)কিলোমিটার থেকে একটু বেশি।
এখনকার পিনকোড: 731303
ঠিক সন্ধ্যায় একটু আগে আমরা ফুল্লরা মন্দিরের কাছে একটি ছোট্ট চা-এর দোকানে পৌঁছলাম। সেখানে আমরা সকলে চা-বিস্কুট খেয়ে ঠিক সন্ধ্যার সময় মন্দিরে 'মা'-এর ব্রহ্মশিলা দর্শন করলাম ও মন্দিরের আসে পাশে আরও কিছু মন্দির আছে সেগুলি দেখে পাশেই ছোট্ট মন্দির দেবীর ভৈরব বিশ্বেশ্বর মহাদেবের মন্দির ও মন্দিরের সামনেই বেশ বড় একটি পুকুর দেখলাম।
লোক শ্রুতি আছে যে রামায়নে বর্ণিত রামচন্দ্রের দুর্গাপূজার সময় হনুমান এই পুকুর থেকেই 108টি ( একশত আটটি) নীল পদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন।
আমরা মন্দিরে সন্ধ্যা আরতী দেখলাম।
এই মন্দির চত্বরে পঞ্চমুন্ডির আসন আছে।
লোকবিশ্বাস অনুসারে এখানে ফুল্লরায় সতীর ঠোঁটের অংশ পড়েছিল। এখানে গর্ভগৃহে দেবীর কোন মূর্তি নাই এক কূর্মাকৃতি ( কচ্ছপের আকৃতি বিশিষ্ট) লাল সিঁদুরচর্চিত শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। এখানে মা, রক্তিম ব্রহ্মশিলাতে পূজিত হন। ফুল্লরা " মা" 51 শক্তিপীঠের অন্যতম। তন্ত্রচূড়ামণি অনুসারে একান্ন পীঠের 49 তম সতীপীঠ লাভপুরের ফুল্লরা। প্রতি বছর মাঘীপূর্ণিমায় ত্রয়োদশী তিথিতে মায়ের বিশেষ পুজোর্চনা হয়। এখানে প্রত্যেকদিন মায়ের ভোগে হয়।
লাভপুরের এই মন্দিরের চারিধার গাছপালায় ঘেরা। মন্দিরটি বেশ একটা ছায়াময় পরিবেশে। এখানে মাঘীপূর্ণিমায় ত্রয়োদশী তিথিথেকে 10(দশ) দিনের মেলা বসে। মন্দির চত্বর খুব একটা বড় নয় তবে গর্ভগৃহের সামনেই রয়েছে নাট মন্দির আর জগমোহনে রয়েছে হাড়ি কাঠ। এখানে বয়েচলেছে উত্তর অভিমুখী কোপাই নদী। প্রতিদিন মন্দির খোলা থাকে ভোর 5:30am থেকে রাত্রি 10pm.
মন্দিরের কাছেই মহা শ্মশান। তন্ত্র সাধনার উত্তম স্থান হিসেবে প্রসিদ্ধ এই ফুল্লরা মায়ের মন্দির। প্রতি অমাবস্যাতে অনেক ধুম-ধাম করে এখানে বিশেষপূজার্চনা হয় "ফুল্লরা মা"র। এই মন্দিরের অনেকে কিংবদন্তি বা লোক কথা আছে। সেগুলি লিখতে গেলে লেখা অনেক বড় হয়ে যাবে সেই কারণেই কিংবদন্তি বা লোককথা কিছুই লিখলাম না।
এর পরে আমরা রওনা দিলাম আমাদের হোটেলের দিকে। এখান থেকে আমাদের হোটেল মোটামুটি 26.3 km .হোটেলে পৌঁছে মহর্ষির চুমু-চা বারে চা খেয়ে, রুমেগিয়ে একটু বিশ্রাম করে রাত্রের ডিনার করলাম "খাই খাই" ডাইনিং হলে।
পরের দিনের প্লান সকালে টিফিন খেয়ে যাওয়া হবে শান্তিনিকেতন।
আর বিকেলে শোনাঝুড়ি খোয়াই হাটে।
20/03/2025:আজ 20 মার্চ বৃহস্পতিবার
শান্তিনিকেতন ভ্রমনের আজ আমাদের দ্বিতীয় দিন::--
কলকাতা থেকে মাত্র 170km বীরভূম জেলার বোলপুরের একটি ছোট শহর শান্তিনিকেতন। সকালে বেড টি খেয়ে রিসোর্টের পাশে শোনাঝুড়ি রোডে একটু ঘুরে বেড়ালাম গ্রামগুলি ঘুরে দেখলাম। গ্রামের প্রতিটি ঘরেই কুলগাছে প্রচুর কুল দেখে লোভ সামলাতে না পেরে কিছু কুল পারলাম। বাগচিদার স্ত্রীকে কুলগুলি দিতে উনি ভীষণ আনন্দিত মনে কুলগুলি নিয়ে সকলকে দেখালেন। তারপরে একটু হাঁটাহাঁটি করে সকাল বেলার যে-যার মতন টিফিন খেয়ে বাস নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম শান্তিনিকেতন ঘুরে দেখতে ।
আমরা শান্তিনিকেতনের নির্দিষ্ট জায়গাতে পৌঁছে চারটি আটো ভাড়া করে চারজন করে একটি অটোতে (4×4=16 জন) ঘুরে দেখলাম সম্পুর্ন শান্তিনিকেতন ।
এখানে প্রত্যেক আটো ওয়ালার কাছে বিস্তারিত গাইড ম্যাপ আছে। সেই ম্যাপ অনুসারে ওদের সাথে ভাড়া ঠিক করতে হয়। আমাদের ডাক্তার বাবুই ওদেরসাথে বলে কয়ে চারটি অটো ঠিক করেলেন ₹650/- টাকা করে প্রতি আটো ।
আটো ওয়ালারা বেশ অভিজ্ঞ গাইডের মতন করে প্রতিটি জায়গাতে খুব ভালো করে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন।
আমাদের আটো চলছে আর অটোয়ালা
বর্বনা করে চলেছেন ডাইনে বাঁয়ের সকল দৃশ্যমান স্থান গুলি। প্রথমে সেই বিখ্যাত তিন পাহাড়ি বটবৃক্ষ। গাইড কাম অটোয়ালা বলে চলেছেন::---
★বটগাছ এবং শান্তিনিকেতন:---
রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে এই বটগাছের সাথে একটি বিশেষ সম্পর্ক আছে, যা তাঁর বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর স্থাপন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে শান্তিনিকেতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।
"তিন পাহাড়ী বটগাছ, এটাই সহজ পাঠের প্রচ্ছদে দেখা যায়।"
রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে বাড়ি তৈরি করার সময় একটি পুকুর খনন করেন, যা বর্তমানে তিনপাহাড়ের স্থানে অবস্থিত তালপুকুর নামে পরিচিত ছিল। পুকুরটি ভরাট করে সেখানে এই বটগাছটি স্থাপন করেছিলেন।
এই বট গাছটিকে ঘিরেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহর হিসাবে পরিচিত এবং রবীন্দ্রনাথের বহু স্মৃতিচিহ্ন বহন করে। এ-হেন সুন্দর মনোরম শহরটি, যেটি বিশেষ করে এই রাজ্যের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের সাহিত্য ও শিল্প কলা ভাবনাও চেতনার শিকড়ের হৃদস্পন্দন ও জ্ঞান, বিজ্ঞান,শিক্ষা,সাহিত্য, দর্শন,অঙ্কন,ভাস্কর্য আরও নানান শিল্পকলা শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র এইশান্তিনিকেতন।
আমি যতবার শান্তিনিকেতনে গিয়েছি ততবারই এই শহর অর্থাৎ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত এই শহরকে বুঝতে চেষ্টা করেছি , আসলে এই শহরটি বাঙালির মন, প্রাণ ও চিন্তার প্রাণ কেন্দ্র। শুধু তাইনয় আজ সমগ্র বিশ্বের আকর্ষণ কেন্দ্র।
এই ছোট শহরটি নোবেল বিজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বারাই বিখ্যাত হয়েছে
শান্তিনিকেতন এক বিশাল
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিশাল কর্মযজ্ঞ, এ-হেন বিশালকে ব্যাখ্যা করা অর্থাৎ শান্তিনিকেতন নিয়ে কিছু লেখার মতন ক্ষমতা বা জ্ঞান কোনটাই আমার নাই। তথাপি যেটুকু লিখলাম,
ভুলভ্রান্তি হতেই পারে, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থী।
বীরভূমের নদীগুলি কত ইতিহাসের স্বাক্ষী বয়ে নিয়ে চলেছে সেই আদি কাল থেকে। সে সকল আজ ইতিহাস।
সময়ের তালে সময়ের গতিতে ইতিহাসও এগিয়ে চলে। আর সেই এগিয়ে চলার ইতিহাসের স্বাক্ষী নিয়েই আজ দাঁড়িয়ে আছে বীরভূমের বোলপুর শহরের নিকটের গ্রাম গুলি যেমন রাইপুর-সুপুর পঞ্চায়েত এলাকা। এখানে ইলামবাজার যাবার পথের বাঁ দিকের গ্রাম রাইপুর।
এই রায়পুরের বাবুদের কাছ থেকে দুটি ছাতিম গাছ কে কেন্দ্র করে কয়েক বিঘা জমি কিনে নিয়ে ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই জমিতেই গড়ে উঠেছে শান্তিনিকেতন। এখন যেখানে এতো প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা কেন্দ্র। এক সময়ে এখানে ছিল জনশূন্য নির্জন প্রান্তর ভুবনডাঙা গ্রাম। এক সময়ে এখানে কিছু ডাকাতের বাসস্থান ছিল। সেই ডাকাতেরা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাবে ডাকাতি ছেরে কৃষিকাজ করতে শুরু করেছিল এবং সেই ডাকাতের সর্দার পরবর্তী সময়ে শান্তিনিকেতনের একনিষ্ঠ পরিচারক রূপে কাজ করতেন।
আমি যতবার শান্তিনিকেতনে গিয়েছি প্রতিবারই এই গল্প বা ইতিহাস শুনেছি আজও আবার শুনলাম গাইড তথা ওই আটোওয়ালার মুখে।পরম শ্রদ্ধেয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিশুকাল থেকে এখানে এই বোলপুরের প্রকৃতির মাঝেই খুঁজে পেয়েছিলেন তাঁর জীবনের অন্তর স্বত্বা, সেই স্নেহ ধন্য স্বত্বার প্রেরণায় তিনি এখানে বসেই বহু কবিতা, উপন্যাস ও গানের সৃস্টি করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই স্থানটিকে নিজের বাসস্থান করে নিয়েছিলেন এবং তাঁর বেশিরভাগ সাহিত্য ও গ্রন্থ এখান বসেই রচনা করেছিলেন। শান্তিনিকেতনের ক্যাম্পাসটি বাংলার ইতিহাস ও সাহিত্যের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের নানান ভাস্কর্য, চিত্রকলা দ্বারা সু-সজ্জিত। শান্তিনিকেতন, যা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিখ্যাত। এখানে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে ★রবীন্দ্রভবন, ★উপাসনা ঘর, ★উত্তরায়ণ কমপ্লেক্স, ★নন্দনিক::--
★পঞ্চবটী:-★তালধ্বজ::---
★সংস্কৃতির মঞ্চ:- --★আশ্রম
★বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়:--
★শান্তিনিকেতন জাদুঘর:---
এছাড়াও দেখলাম নানান অনুষ্ঠানের জায়গা যেমন
★বাইশে শ্রাবণের জায়গা ও বিবরণ,
★শান্তিনিকেতন পৌষ মেলার বিবরণ ★তারপরে আছে বসন্ত উৎসবের স্থান ও বিবরণ ::--
এছাড়াও আছে বল্লভপুর বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য এবং আরও অনেক কিছু, যেগুলি প্রত্যক্ষ না দেখলে, বলে বা লিখে বুঝিয়েদেওয়া আমার দ্বারা সম্ভব নয়।
তবুও যা দেখেছি শুনেছি সেইটুকুই লিখেছি। সকলে মোটামুটি ভাবে
শান্তিনিকেটন ঘুরে দেখে এসে যে যার মতন খাই খাই তে দিনের খাবার খেল।
আমরা পাঁচ জন বাগচী দা ও ওনার স্ত্রী, প্রদীপ দা ও ওনার স্ত্রী এবং আমি এইপাচঁজনে দুপুরের খাবার খেতে চলেগেলাম শোনাঝুড়ি খোয়াই হাটের কাছে ----রাম-শ্যাম-হোটেলে।
RAM SHYAM VILLAGE RESORT
Sonajhuri Khoai Hut, Santiniketan. Birbhum.
pH::--7076319664 // 6297872977
আমরা সকালেই গ্রামের মেয়েদের কাছ থেকে জেনেছিলাম যে সামনে এক গ্রামের মধ্যে একটি বুদ্ধিস্ট টেম্পের আছে যার সামনে বিরাট এক বুদ্ধস্ট্যাচু আছে। আমরা দুপুরে সোনাঝুড়ি হাটের কাছে লাঞ্চ করতে যাবার পথে সেই বুদ্ধ টেম্পেলটি দেখে তারপরে লঞ্চে গেলাম
Ram Shyam----হোটেলে।
ভেজ থালি ও কোচিপাঠার মাংস কষা খেলাম, রান্না বেশ ভালোই করেছিল।
খাবার খেয়ে আমরা টোটো করেই আমাদের হোটেলে ফিরলাম।
প্রায় আধা ঘন্টা বিশ্রাম করে সকলে মিলে বাসে করে গেলাম শোনাঝুড়ি খোয়াই হাটে। কিন্তু হাটে পৌঁছবার একটু পড়েই শুরু হলো বৃষ্টি, সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার ছিল, দুইদিন আমরা ঘুরে বেড়িয়েছি বেশসুন্দর মেঘলাআবহাওয়ায়,
আজ হঠাৎ বৃষ্টির সাথে বেশ জোরে হওয়া
বইতে শুরু করল। ফলে শোনাঝুড়ি হাটের
সব বিক্রেতারা তাদের দোকান পাট গুটিয়ে নিলো। আমাদের আর ভালো করে হাট বাজার করা হলনা, বিশেষ করে এই শোনাঝুড়ি হাটের বিখ্যাত সেই বাউল গান আর শোনা হলনা। এই হাটে প্রতিদিনই বিভিন্ন বাউল সম্প্রদায় আসেন । তাঁরা তাদের গান শুনিয়ে তারের রোজগার করেন।
আমাদের আর বাউল গান শোনা হলনা।
এই একটাই অনুশোচনা রয়ে গেল।
মনভরে ঘুরেবেড়ালাম আনন্দে,
কিছু বাদ রইলো পরের বারের জন্য।
আগামীকাল দুপুর 12টার মধ্যেই হোটেলের চেকআউট টাইম।
21/03/2025::---
আজ আমাদের কলকাতা ফিরে যাবার দিন। সকালে বেডটি খেয়ে স্নান সেরে লাগেজ গুছিয়ে নিলাম। তারপরে সকালের জলখাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়ার জন্য তৈরি হয়ে নিলাম এবং আমরা বেলা 10টা নাগাদ রওনা দিলাম।
পথে দুইবার থামতে হোল।একবার শক্তিগড়ে ল্যংচা খেতে ও কিনতে।
আর পরে একবার হোটেলে দুপুরের লাঞ্চ করতে সকলের ইচ্ছাতে সিঙ্গুরের কাছে সেই লাবনী হোটেলে। তবে যেহেতু লাবনী হোটেল উল্টো পথে সেই কারণে গোলচক্কর ঘুরে উল্টো পথে গিয়ে লাবনী হোটেলের সামনে গাড়ি দার করলো।
আমরা যে-যার মতন দুপুরের খাবার খেয়ে আবার রওনা দিলাম এবং ঠিক সময়েই ------ শ্যামবিহারে পৌঁছে গেলাম। এভাবেই আমাদের শ্যামবিহার ফেজ2 এর সিনিয়র সিটিজেনদের ঐতিহাসিক শান্তিনিকেতন ভ্রমণের সমাপ্তি হল।
অনেক দেখেলাম,শুনলাম, দিনগুলি উপভোগ করলাম,বিশাল কর্মকাণ্ডকে
অন্তর দিয়ে অনুভব করলাম, কত শত মানুষের কল্যাণের তরে গড়েওঠা এ-হেন বিশাল ভাবনার অতীব গুরুত্বপূর্ণ শ্ৰেষ্ঠ কর্মযজ্ঞের আসন ও পীঠস্থান তথা প্রতিষ্ঠান কে চাক্ষুস করে নিজেদের ধন্য করেছি।
আমি অনেক বার শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন ঘুরে দেখেছি , তথাপি
এই টুকুই বুঝেছি যে শান্তিনিকেতনকে বুঝতে ও একনিষ্ঠ ভাবে অনুভব করতে পারলে আমাদের বাংলাকে অনেকাংশেই বোধহয় জানা ও চেনার সহজ হয়ে যায়। এমনটাই আমার অনুভব।-- রাঙামাটির দেশে রাস্থার দুইপাশে পলাশ ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বাঁধন ছাড়া মনের আনন্দে তিনদিনঘুরে বেড়িয়েছি।
শোনাঝুড়ি খোয়াই হাটে দেখেছি কত যুবতী মেয়েরা পলাশ ফুলের মাল পরে আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও কেনাকাটা করছে।
<-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->============================
লেখাটি ----(5) পৃষ্ঠা
Word counts---1,984
Characters-------12,908
Character
Excluding space----10,976
======================
No comments:
Post a Comment