Wednesday, July 26, 2023

104>ভ্ৰমন ঝাড়গ্রাম-বেলপাহাড়ি::--

 104>ভ্ৰমন ঝাড়গ্রাম-বেলপাহাড়ি::--+(14/81)

মাত্র দু’রাত তিন দিনের টুর প্যাকেজ।

Jhargram
কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রাম
3 hr 48 min (176 km) via NH16
ঝাড়গ্রাম থেকে বেলপাহারি-- 38km

ঝাড়গ্রাম::--
● ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি,
●জামবনির পরিযায়ী পাখির গ্রাম কেন্দুয়া,
●চিল্কিগড়ের কনকদুর্গা মন্দির। 
●ঝাড়গ্রাম ভেষজ উদ্যান ও
●ঝাড়গ্রাম মিনি চিড়িয়াখানা।

বেলপাহাড়ি::---
●গাডরাসিনি পাহাড়।
●খাঁদারানি ঝিলে পরিযায়ী পাখির দল
●ঘাগরা জলপ্রপাত
●লালজল পাহাড়ের আদিম মানবের গুহা।
●তালবেড়িয়া লেক।
●ঘাগড়া জলপ্রপাত।

●ডুলুং নদী,
●তারাফেনি ব্যারেজ :
●খন্দারানি,
●বাঁদরভুলা,
●ঢাঙিকুসুম :

=======================
ক্যাম্প ফায়ারের সঙ্গে আদিবাসী লোকনৃত্য কিংবা নদীর চরে রণপা নাচ দেখারও দেখা যায়।

বেলপাহাড়ির গাডরাসিনি পাহাড়ে ট্রেকিং।
পথে সবুজ বনানীর ক্যানভাসে আঁকার মতন সুন্দর মনোরম জলাশয়।

ঝাড়গ্রাম পৌঁছে প্রথম দিনেই
দেখে নেওয়া যায়।
● ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি,
●জামবনির পরিযায়ী পাখির গ্রাম কেন্দুয়া,
●চিল্কিগড়ের কনকদুর্গা মন্দির। 
●ঝাড়গ্রাম ভেষজ উদ্যান ও
●ঝাড়গ্রাম মিনি চিড়িয়াখানা।

পরের দিন :::-------ঝাড়গ্রাম থেকে 38 km দূরে বেলপাহাড়ি
●বেলপাহাড়ি পৌঁছে
●গাডরাসিনি পাহাড়ে ট্রেকিং করে ওঠা । আর যাঁরা পাহাড়ে উঠতে পারবেন না, তাঁরা আশেপাশে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।

●খাঁদারানি ঝিলে পরিযায়ী পাখির দল দেখে মন ভরাতে পারেন। বিকেলের দিকে ●ঘাগরা জলপ্রপাত আর সবশেষে ●লালজল পাহাড়ের আদিম মানবের গুহা দেখে ঝাড়গ্রামে ফেরা।

★★সুন্দরি ঝাড়গ্রামের কিছু কথা::--
ঝাড়গ্রাম মানেই মুক্ত বনাঞ্চল, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্য আর তার সঙ্গে রাজবাড়ী আর পুরনো মন্দিরের শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গের বাইশ তম জেলা হিসেবে ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল আত্মপ্রকাশ করে ঝাড়গ্রাম। অতীতে একসময় এখানে যখন উপজাতিদের মধ্যে বিদ্রোহ দেখা দেয়, তখন সম্রাট আকবর সেই বিদ্রোহ দমন করার জন্য মান সিংহকে এখানে পাঠান। সালটা ছিল ১৫৯২। সর্বেশ্বর সিং ও তাঁর বড়দাকে দায়িত্ব দেওয়া হল এখানকার বিদ্রোহীদের দমন করার। সর্বেশ্বর সিংহ রাজপুতদের নিয়ে জঙ্গলে বিদ্রোহীদের দমন করেন। পরে এখানে একটি রাজ্য গঠিত হয়। তারও পরে রাজপুতরা বাংলাকে দুটি ভাগে ভাগ করে। ★একটির রাজধানী হয় ঝাড়গ্রাম ও ★অন্যটির রাজধানী হয় বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর। জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সবুজের বুক চিরে  চলে যাওয়া মেঠো রাস্তা। সঙ্গে মৃদুমন্দ বাতাস। প্রাণ ভরে প্রকৃতিকে উপভোগ করুন।

●প্রথমেই রাজবাড়ী :

প্রথমেই ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির কথা। ঝাড়গ্রাম শহরের মাঝে এটি অবস্হিত। রাজা সর্বেশ্বর সিংহ এখানে রাজত্ব চালাতেন। বর্তমানে এর একটি অংশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ব্যাবস্হাপনায় হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রাজবাড়ী ঘুরে দেখতে ভাল লাগবে। প্রথম পুরুষ সর্বেশ্বর ছিলেন রাজপুতানার ক্ষত্রিয়। মল্লদেব রাজবংশের পত্তন করেন তিনি। তবে এখনকার রাজবাড়িটি ১৯৩১ সালে ৭০ বিঘে জমির উপর মুসলিম গথিক শিল্পরীতিতে তৈরি করিয়েছিলেন ঝাড়গ্রামের সর্বশেষ রাজা নরসিংহ মল্লদেব।

◆এই প্রাসাদটিকে বহু বার বড় পর্দায় দেখা গেছে। ◆যেমন ‘বাঘবন্দি খেলা’য় এই বাড়ি হয়েছে ভবেশ বাড়ুজ্জের বাড়ি। আবার এই বাড়ি ◆‘সন্ন্যাসী রাজা’র সূর্যকিশোর নাগচৌধুরীর প্রাসাদ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
রাজবাড়ি চত্বরেই পর্যটকদের থাকার বন্দোবস্ত রয়েছে। রাজবাড়ির হেরিটেজ হোটেলটির নাম ★‘দ্য প্যালেস ট্যুরিস্ট রিসর্ট’।

দু’টি সুপার ডিলাক্স ও দু’টি ডিলাক্স-সহ মোট ১০টি ঘর রয়েছে সেখানে। আছে তিনটি ডরমেটরিও। এক সঙ্গে প্রায় ৫০ জন পর্যটক এখানে থাকতে পারেন। রাজপরিবার ও রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগম যৌথ ভাবে বর্তমানে এই রিসর্টটি চালায়। মল্ল রাজাদের খাস মহলে ৪০ বিঘার বিশাল উদ্যানে মহুয়া শাল আর কাজু বাগানে গড়ে উঠেছে আর এক ★প্রকৃতি নিবাস শালবনি রিট্রিট।

●কনকদুর্গা মন্দির :

ঝাড়গ্রামের কনক দুর্গা মন্দিরের ইতিহাস প্রায় ৪৩৫ বছরেরও প্রাচীন। ঝাড়গ্রামের কনক দুর্গা মন্দিরের অন্দরে লুকিয়ে রয়েছে নানা গল্পকথা। সাড়ে চারশো বছর আগের সামন্ত রাজাদের ইতিহাস। পুজো উপলক্ষে দর্শকদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে থাকে মন্দির চত্ত্বর। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দুরে কনক দুর্গামন্দির অবস্হিত। মন্দির প্রাঙ্গনের ভেতর বাচ্চাদের পার্ক রয়েছে। মন্দির চত্বরে প্রচুর বাঁদর রয়েছে। বাঁদরের বাদরামি থেকে সতর্ক থাকবেন।
●ডুলুং নদীর তীরে এই কনক দুর্গা মন্দির অবস্হিত। প্রচুর ভক্ত ও পর্যটক এখানে আসে। দেবী এখানে অশ্বারোহিনী চতুর্ভূজা। অষ্টধাতুর এই মূর্তি ঘিরেই জমে ওঠে দুর্গাপুজো। শহুরে কোলাহল থেকে বহু দূরে কনক দুর্গার অবস্থান।। প্রাচীন রীতিতে ব্যতিক্রমী আড়ম্বরহীন, ঝাঁচকচকবিহীন পুজো। ইতিহাস বলে, চিলকিগড়ের সামন্ত রাজা গোপীনাথ সিংহ তৈরি করেন এই মন্দির। স্বপ্নাদেশ পেয়ে স্ত্রীর হাতের কাঁকন দিয়ে মূর্তি তৈরি করান তিনি। স্থানীয়রা বলেন, আগে নাকি এখানে নরবলি হত। পরে দেবীর নির্দেশে তা বন্ধ হয়ে যায়। অষ্টমীর রাতে এখনও পাঁঠাবলি হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, নবমীর ভোগ রান্না করেন স্বয়ং মা’দুর্গা। মাও আমলে ২০০৭-০৮ সালে দু বার চুরি যায় মন্দিরের মূর্তি। আবার নতুন করে তৈরি হয় অষ্টধাতুর মূর্তি। তারপর মন্দিরে বসে সিসিটিভি। মন্দির লাগোয়া বিশাল ●ভেষজের জঙ্গল। পরিচর্যার অভাবে দামী দামী ওষুধের গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। গাছগুলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রক্ষী রাখা শুরু হয় পরবর্তীকালে। তৈরি হয় চেকপোস্ট।

★চিল্কিগড় রাজবাড়ী ::---

কনক দুর্গা মন্দির থেকে এর দুরত্ব ১৫ কিলোমিটার। দুলুং নদীর তীরে এই রাজবাড়ী অবস্হিত। ঐতিহাসিক ভাবে কনক দুর্গা মন্দির ও চিল্কিগড় রাজবাড়ী খুব গুরুত্বপূর্ণ। কালাচাঁদের নবরত্ন মন্দির এই স্থানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ভগবান শিবের একরত্ন মন্দিরটিও এখানকার অন্যতম আকর্ষণ।

★কেন্দুয়া :::---

কেন্দুয়া হল একটি ●পাখীরালয়। এটি চিল্কিগড় ও ঝাড়গ্রামের মাঝামাঝি একটি জায়গা। চিল্কিগড়ের পথেই কেন্দুয়া পড়ে। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে এর দুরত্ব ৯ কিলোমিটার। প্রচুর পাখি বাইরে থেকে এখানে আসে। কয়েক মাস এখানে থাকে, ডিম পাড়ে, বাচ্চা হয়। তারপর চলে যায়।

●চিড়িয়াখানা :::---

ঝাড়গ্রাম শহর থেকে এর দুরত্ব ৩ কিলোমিটার দূরে এই চিড়িয়াখানা। ঝাড়গ্রাম শহরের পূর্বপ্রান্তে এই চিড়িয়াখানা অবস্হিত। এটি ছোট কিন্তু খুব সুন্দর চিড়িয়াখানা। এখানে হরিণ, হাতি,কুমীর,কালো খরগোশ,ভালুক সহ অন্যান্য জন্তু জানোয়ার দেখা যায়। রয়েছে নানা ধরনের পাখি।

★ডুলুং নদী, ★বেলপাহারি, ★ঘাঘরা জলপ্রপাত ও ★তারাফেনি ব্যারেজ :

★Ghagra Falls
ভগ্নপ্রায় চিলকিগড়ের রাজবাড়ি ও কনকদুর্গা মন্দিরের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে ডুলুং নদী । ঝাড়গ্রাম থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে ডুলুং নদী। আপনি চাইলে এর পাশে থাকতেও পারেন একরাত, রাত্রি যাপনের সুব্যবস্থা করা হয়েছে এখানে। ডুলুংয়ের পশ্চিম তীরে অবস্থিত জাম্বোনি রাজবংশের প্রাসাদটিও দেখে নিতে পারেন। মন্দির, রাজবাড়ি জঙ্গল ঘুরে বেরিয়ে পড়ুন বেলপাহাড়ির পথে। শালে ঢাকা ছোটো ছোটো টিলার মধ্যে দিয়ে ৪৫ কিমি রাস্তা পেরিয়ে আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম বেলপাহাড়ি যেতে পারেন। রবিবার বেলপাহাড়ির হাটে গেলে দেখতে পাবেন স্থানীয় শিল্পীদের তৈরি পাথরের মূর্তি, বাসনপত্র, মাটি ও বাঁশের তৈরী সামগ্রী, বাবুই দড়ি, বেতের তৈরি জিনিসপত্র। কিনতে পারেন। বেলপাহাড়িতে ঘাঘরা জলপ্রপাত। দেখে নিন। ভালো লাগবে। বেলপাহাড়ি থেকে লাল মেঠো পথে ৯ কিমি দূরে আর এক স্বপ্নপুরী এই ঘাঘরা। তারাফেনির অনাবিল জলধারা নিস্তব্ধতা ভাঙছে মৌনী বনভুমির। অদুরে তারাফেনি ব্যারেজ। কংসাবতীর জল বন্দী করা হয়েছে ১০ লকের বাঁধে।

●খন্দারানি, ●বাঁদরভুলা, ●ঢাঙিকুসুম :

খন্দারানি রুপে গুনে এক অসামান্য হ্রদ। শহরের উপকণ্ঠে বাঁদরভুলায় সম্প্রতি তৈরি হয়েছে আদিবাসী সংগ্রহশালা। জঙ্গলমহলের প্রাচীন জাতি-উপজাতি সম্প্রদায়ের নিত্য ব্যবহার্য জিনিস-সহ কুটিরশিল্পের বহু নিদর্শন দেখতে পাবেন এখানে। ছোট্ট গ্রাম ঢাঙিকুসুম – ১৩০ ঘর আদিবাসীর বাস। তাঁরা পাথর-শিল্পী। পাথর দিয়ে তৈরি করেন থালা-বাটি-গেলাস সহ নানা সাংসারিক ব্যবহার্য জিনিস, তৈরি করেন মূর্তিও। পর্যটকরা আসছেন, এই গ্রামের শিল্পীদেরও পরিচিতি বাড়ছে একটু একটু করে।

কী ভাবে যাবেন::---
হাওড়া থেকে ট্রেনে ঝাড়গ্রাম ঘণ্টা আড়াই-তিনের পথ। সেখান থেকে ঝাড়খণ্ড সীমানায় ঢাঙিকুসুম ৫২ কিমি বেলপাহাড়ি হয়ে যাওয়া যায়।
ঝাড়গ্রাম থেকে গাড়ি করে আশপাশ ঘুরুন। না হলে বাসে পাবেন।
৩৮ কিমি দূরে বেলপাহাড়ি

কোথায় থাকবেন
বনবিভাগ এবং রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগমের কটেজ-কমপ্লেক্স রয়েছে। অনলাইনেই বুক করতে পারবেন। এছাড়া, ●রাজবাড়ির রিসর্ট,
●অরণ্য সুন্দরী হোটেল-সহ একাধিক গেস্ট হাউস রয়েছে শহরে। একটু নিরিবিলিতে থাকতে চাইলে শহরের বাইরের
●গড় শালবনিতে রয়েছে কৌশল্যা হেরিটেজ।
● ‘ঝাড়গ্রাম টুরিজ্‌ম’এর ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন ‘প্যাকেজ ট্যুর’এর ব্যবস্থা।

Categories: Travel
Tags: Adda Zone, belpahari, jhargram pacage tour, weekend tour from kolkata
addazone
Back to top
Exit mobile version

No comments:

Post a Comment