Saturday, July 29, 2023

106>|| ভিতরকণিকা=ওড়িশার চাঁদিপুর ও পারাদ্বীপের মাঝে

 


ভিতরকণিকা=ওড়িশার চাঁদিপুর ও পারাদ্বীপের মাঝে


কথায় আছে ভারত (India) দর্শন করলে আর কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। ভারত নিজেই আস্ত একখানা মহাদেশ। উত্তরে হিমালয় থেকে শুরু করে দক্ষিণে সমুদ্র। পশ্চিমে থর থেকে শুরু করে পূর্বে নদীর রাজ্য। এককথায় পবিত্র এই ভারতভূমিকে উপ-মহাদেশ বলা চলে। সবুজ বনানী থেকে মরু রাজ্য, হিমালয়ের তুষারে আবৃত পাহাড় থেকে সমুদ্র সমস্ত কিছুই রয়েছে এই ভারত ভূমিতে।

কিন্তু আপনার যদি আমাজন (Amazon Rainforest) যাওয়ার ইচ্ছে হয় তাহলে? সেখানের বৃষ্টিস্নাত স্যাঁতস্যাতে পরিবেশ আপনাকে যদি আকর্ষণ করে তাহলেও কিন্ত উপায় রয়েছে দেশের অন্দরে। এদিকে যাব বললেই তো হয়না, সেজন্য পকেট ভারী থাকতে হয়। কিন্তু বিশ্বে এমন কিছুই নেই যা ভারতভূমিতে নেই। তো একটা অ্যামাজন থাকবে না, এটা হতে পারেনা। বাড়ির কাছেই আস্ত অ্যামাজন রয়েছে। অনেকেই হয়তো জানেন না


এই মিনি অ্যামাজন অবস্থিত পাশের রাজ্য উড়িষ্যায়। সেখানে রয়েছে অ্যামাজনের ভারতীয় সংস্করণ। যারা জঙ্গল সাফারি পছন্দ করেন তারা অনায়াসে ঘুরে আসতে পারেন এই অসাধারণ জায়গাটি থেকে।


এদিকে উড়িষ্যার কথা বললে আমাদের মাথায় আসে সমুদ্র সৈকত, পবিত্র শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দির, কোনারকের মন্দির ইত্যাদি। কিন্তু আজ আমরা যে জায়গার কথা বলছি সেটাও পর্যটনস্থল হিসেবে মানুষের কাছে ভীষণ প্রিয় জায়গায় পরিণত হয়েছে। এই স্থানের নাম ভিতরকণিকা।


ওড়িশার চাঁদিপুর ও পারাদ্বীপের মাঝে ভিতরকণিকা। 

ব্রাহ্মণী এবং বৈতরণী নদীর মধ্যিখানের বদ্বীপ দ্বারা গড়ে উঠেছে বিশাল ম্যানগ্রোভ অরণ্যটি। সুবিশাল ৬৫০ বর্গকিমি জুড়ে বিস্তৃত এই অরণ্য। উল্লেখ্য যে, সেখানে কুমির সংরক্ষণ শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। তার আগে ১৯৫২ সাল অবধি জায়গাটি জমিদারি দখলের মধ্যে ছিল। ১৯৭৫ সালেই সেটিকে ভিতরকণিকা ম্যানগ্রোভকে অভয়ারণ্য বলে ঘোষণা করা হয়।


সুন্দর ছিমছাম বনানী আপনাকে ফটো তোলার জন্য আদর্শ স্থান গড়ে দেবে। সাদা কুমির এবং নানান ধরণের পাখির কলরবে কান পাতা দায়। ফটো তোলার একদম আদর্শ স্থান এই জায়গা। কিন্তু কিভাবে যাবেন? চলুন সেকথাও জানাচ্ছি।


কিভাবে যাওয়া যায় : এজন্য প্রথমে আপনাকে যেতে হবে উড়িষ্যার ভদ্রকে। সেখান থেকে চাঁদবালি। চাঁদবালি থেকে অভয়ারণ্যটি একদমই সামনে। সেখানে থাকতেও পারেন আপনি। কিন্তু মাথায় রাখবেন সেখানে কিন্ত বেশ ভালই মশার উপদ্রব।

================


ভিতরকণিকা জায়গাটি ভারতের মিনি অ্যামাজন নামে পরিচিত।

ওড়িশার ভিতরকণিকা জাতীয় উদ্যান।


বন্যপ্রাণী প্রেমী এবং পর্যটকদের ভালো লাগার স্থান বঙ্গোপসাগরের উপকূলে ওড়িশার কেন্দ্রপাড়া জেলায় অবস্থিত এই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যটি।



পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের পরে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য হিসাবে পরিচিত ভিতরকণিকা। ওড়িশার চাঁদিপুর ও পারাদ্বীপের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ভিতরকণিকা। ব্রাহ্মণী এবং বৈতরণী নদীর মধ্যিখানের বদ্বীপ দ্বারা গঠিত এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যটি। ৬৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ম্যানগ্রোভটি।


অনেকেই হয়তো জানেন না, কিন্তু এই জাতীয় উদ্যানটি বিশ্বের বৃহত্তম সাদা কুমিরদের বাসস্থান।

 এখানে নোনা জলের কুমিরদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এবং প্রতি বছর এই শীতের মরসুমেই এই কুমিরের প্রজনন প্রক্রিয়া চলে এবং জন্ম নেয় আরও হাজার হাজার কুমির। ভারতের ৭০ শতাংশ নোনা জলের কুমির এই জাতীয় উদ্যানেই পাওয়া যায়।


বর্তমানে উদ্যানটি পর্যটকদের জন্য খোলা রয়েছে, তবে মেনে চলতে হবে কোভিড ভিধি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা থেকে শুরু করে সব সময় মাস্ক পড়ে থাকতে হবে এখানে। 


বন বিভাগের সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী, একটি স্থানীয় গাইড উদ্যানের ভিতরে বাধ্যতামূলকভাবে দর্শনার্থীদের সঙ্গে যাবে। এর জন্য বন বিভাগ আশেপাশের গ্রাম থেকে প্রায় ৪০ জন তরুণকে স্থানীয় গাইড হিসাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বন বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মী এখানে মোতায়েন করা হয়েছে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য।

========================


No comments:

Post a Comment