Friday, February 2, 2024

116> কাশ্মীর( ভ্রমন আরও লিখতে হবে )

   116> ( ভ্রমন আরও লিখতে হবে )

1)কাশ্মীর, লে, লাদাখ,:::----

2) লাদাখ ও দা হানু উপত্যকা::---

3)


========================

কাশ্মীর, লে, লাদাখ,:::----কাশ্মীর, লে, লাদাখ,:::----

সেদিন আমরা তিনজন তৈরি হচ্ছিলাম লাদাখ যাবার জন্য।

চারজনে একসাথে দশ দিনের ছুটির জন্য এপ্লিকেশন ফর্ম ফিলাপ করছিলাম হঠাৎ পি পি সিং (পৃথি পাল সিং ) এসে হাজির এবং ও জখনি শুনলো যে আমরা লাদাখ যাবার প্লান করছি, তখনই পি পি সিং বললো ওর মামা বাড়ি লাদেখের ---

রাং ডুঙ গ্রামে।

আমরাও বেশ খুশি হলাম যে একজন জানাশুনা বন্ধু পেলাম।

পৃথি পাল সিং একজন রিটায়ার্ড সৈনিক,

ওর নিজের বাড়ি দেরাদুনে।

বতর্মানে বিসিসি এল এর এরিয়া3র আকাশ কিনারী নামক কোলিযারীর হোলপ্যাক অপারেটর।

পিপি সিংও আমাদের সাথে যাবার জন্য রাজি হল।



( লে  লাদাখের জন্য মহা মন্ত্র::---

তা হল রুমালে বেঁধে রাখা কর্পূর। শ্বাস কষ্ট শুরু হলেই একটু শুঁকে নিলেই বেশ স্বস্তি বোধ হচ্ছিল।)


আমরা শিয়ালদা জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেসে

জম্মু তাওয়াই পৌঁছে সেখান থেকে কাশ্মীর পৌঁছলাম।

সেদিন শুক্রুবার , ৮ জুলাই, 1981

আমরা কাশ্মীর পৌছেই এক 

হাউসবোটে উঠলাম। দিনের খাওয়া সেরে বেরিয়ে পড়লাম সিকারায় চড়ে ডাল লেক ঘুরতে। লেকের ধারে যেতেই শিকারা চালকরা এগিয়ে এলো তাদের সাথে দর কষা কোষী করে দুই ঘণ্টার জন্য আমরা 

শিকারায় করে ঘুরে বেড়ালাম।

 যেতে যেতে দেখলাম ডাল লেকের ধারে যেখানে জলের স্তর কম সেখানে আসে পাশের গ্রামের লোকেরা বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষ করে।

আবার এই লেকের মধ্যেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী কাশ্মীরি পোশাক ও শালের দোকান। আর একটু এগুতেই পৌঁছে গেলাম নেহরু পার্ক।  ঐ পার্ক ঘোরবার জন্যে সিকারাওলা সময় দিয়েছিল।

দেখলাম অন্যান্য নানান শিকারায়

করে কাশ্মীরি কেশর, ফুলের তোড়া বিক্রি হচ্ছে, এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী কাশ্মীরি পোশাক পরে ছবি তোলার হিড়িকও রয়েছে। 

শিকারা ভ্রমণ সেরে গিয়েছিলাম শ্রীনগরের লাল চৌক মার্কেট ঘুরতে। 

সেখান থেকে ফিরে গেলাম হাউসবোটে



০৯/জুলাই::---

পরেরদিন সকাল সকাল গেলাম শ্রীনগর থেকে ৩০কিমি দূরে অবস্হিত গাণ্ডেরবাল জেলার অন্তর্গত মনসাবল লেক ঘুরতে। এই লেককে ভারতের সবচেয়ে গভীরতম হ্রদ বলেও বিবেচনা করা হয়। এখানে এ

মনসাবল লেক ও লেকের সঙ্গেই ঝরখা বাগ ঘুরে দেখতে এন্ট্রি ফি লাগে।


এই মনসাবল থেকে১২ কিলো মিটার দূরে গেলাম ক্ষির ভবানী মন্দিরে। 

এরপর একে একে হজরতবল, পরিমহল,মুঘল গার্ডেন, শালিমার বাগ, চাসমে শাহী দেখে চললাম শঙ্করাচার্জর 

মন্দির দর্শনে। কিছুটা পথ করে করে গিয়ে   প্রায় ২৬০ খানা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে পৌঁছে গেলাম শঙ্করাচার্জর মন্দিরে। 


উপরে মন্দিরে পৌঁছে যখন চারপাশের সুন্দর দৃশ্য দেখলাম তখন অতগুলো সিঁড়ি ভাঙার সকল ক্লান্তি আপনিই দূর হয়ে গেল। এই মন্দির থেকে পুরো শ্রীনগর শহর দেখতে পাওয়া যায় যা এক কথায় অপূর্ব। 

(এখানে ফটো তোলা নিষেধ ) অতএব আমার ক্লিক থ্রি ব্যগেই বন্ধ রইলো।

এরপরে নীচে নেমে রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেয়ে সোজা চলে গেলাম আমাদের হাউসবোটে।

শ্রীনগরের সমস্ত সাইট সিন আমরা একটা

কার রিজার্ভ করেই  করেছিলাম।

সন্ধ্যায় পৌঁছে গেলাম লাল চৌক।

লাল চৌকের আসে পাশে  বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরির পর সোজা চলে গেলাম মোঘল দরবার। তারপরে এক হোটেলে  কাশ্মীরি বিরিয়ানি খেয়ে ফিরে আসলাম 

হাউসবোটে।


পরের দিন ১০/জুলাই::----

 












=======+++++++++■■■■■■■■■

শ্রীনগর বাস স্ট্যান্ড থেকে একটা অটো ভাড়া করে সোজা চলে গেলাম শ্রীনগর স্টেশনে, এই স্টেশনটি আবার, একদম সেই অমরনাথ যাত্রার পারমিশন অফিসের পাশেই অবস্হিত।


=============================


2) লাদাখ ও দা হানু উপত্যকা::---


লাদাখের লেহ জেলার দা-হানু উপত্যকায়   ব্রোকপা নামক  উপজাতি গনের বাস।অনেকের মতে বিশেষ করে এখানকার এই ব্রোকপা উপজাতি গণ নিজেদের প্রকৃত আর্য বংশোদ্ভুত জনজাতি হিসাবে মনেকরে। বিশেজ্ঞ গণের মতে এই ব্রোকপা উপজাতি শেষ এবং খাঁটি আর্য বংশোদ্ভুত জনজাতি। 

লাদাখ থেকে এই অঞ্চল বেশ কিছুটা নীচুতে অবস্থিত হওয়ার জন্য এখানে শীত অনেকটাই কম। লাদাখের আসেপাশের  সেই তীব্র জমে যাওয়া ঠাণ্ডা নেই এখানে। বলা ভাল এই অঞ্চল চিরবসন্তের। 

তাইতো চিরবসন্তের গ্রাম বললেই চলে।

এ-হেন চিরবসন্তের গ্রামে ওখান কার আদিবাসী সেই ব্রোকপাদের সাথে ওদের গ্রামের মধ্যে দুই- একটি দিন খুব আরামে বিশেষ রোমাঞ্চ কর পরিবেশে  কাটিয়ে আসা যায়। 

অসামান্য সুন্দর হয় এখনকার মানুষেরা।

রূপে গুণে অতুলুনিয় এখানকার মানুষেরা। ওদের ব্যবহার অস্থিতিয়তা ভুলবার নয়।এখানকার প্রকৃতি যেমন সুন্দর মন্মুগ্ধ কর মানুষেরাও ঠিক তেমনি

সুন্দর, সুন্দর ওদের প্রাণখোলা ব্যবহার।

পর্যটক দের ওরা ঈশ্বর রূপে সেবা যত্ন করে। ত্রুটি মুক্ত প্রাণ খোলা আথিতয়তা কোনদিন ভুলবার নয়।

ওদের সাজগোজ ও বেশভূষা খুবই সুন্দর।

পুরুষ ও নারী উভয়েই সাজতে ভালবাসে। মাথায় ফুল এবং ধাতব গয়না দিয়ে ব্রোকপা উপজাতির সাজ জগৎখ্যাত।


দা-হানু উপত্যকার গ্রামে একটু ঘুরলেই চোখে পড়বে আঙুর, আপেল, খুবানি, বার্লি আর আখরোটের বাগান। এই গ্রামে পাওয়া যায় কমলা রঙের এক ধরনের ফুল যা বহু বছর একই রকম থেকে যায়।

এই চিরবসন্তের গ্রামে মনোরম পরিবেশে, নানান ফুল ও ফলের বাগানে দু-দিন কাটালে মন- প্রাণ উভই ঝড়ঝরে তাজা হতে বাধ্য।

আমার মতে প্রকৃতই স্বর্গ বলে যদি কোন স্থান থেকে থাকে পৃথিবীতে তবে সেই জায়গাটি এই লেহ জেলার দা-হানু উপত্যকায়।

 


No comments:

Post a Comment