Friday, February 2, 2024

117>নবদ্বীপের রাস উৎসব :::----(সংগ্রহ)

 


117>নবদ্বীপের রাস উৎসব :::----(সংগ্রহ)

  (রাস উৎসবের ইতিহাস)


শাক্তরাস হোল নবদ্বীপের প্রধান উৎসব।শরৎকালে শারদোৎসবের পরেই রাস

উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়, এবং কার্তিকীপূর্ণিমায় নবদ্বীপের এই  উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

বিজয়াদশমী বা কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা বা কালী পূজার দিন থেকে শুরু হয় এই রাস যাত্রার ক্রিয়াকান্ড ।

আর সমাপ্তি উৎসব হয় রাস পূর্নিমা বা কার্তিকীপূর্ণিমার পরেরদিন প্রতিপদে আড়ং ও বিসর্জনের মাধ্যমে।

( আড়ং ফারসি শব্দ।

গ্রামাঞ্চলের মেলাকে আড়ং বলা হয়। শব্দটি তেমন ভাবে প্রচলিত নয়। তবে নবদ্বীপের শাক্তরাস উৎসবে এটি পরিচিত নাম। কার্তিকী পূর্ণিমার দিন রাসকালী পূজা হয়, তার পরের দিন অর্থাৎ

প্রতিপদে শোভাযাত্রার মাধ্যমে দেবী মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রা  হয়। এই শোভাযাত্রা উপলক্ষে মেলা বসে। এই শোভাযাত্রা ও মেলা উভয়কে মিলিয়ে আড়ং বলা হয়। )


 শাক্তদেবীদের এক একটি বিশাল বিশাল মৃন্ময়ী মূর্তি নির্মাণ করে শক্তি আরাধনাই নবদ্বীপের রাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 

প্রতিটি মূর্তির কারুকার্য ও নির্মাণশৈলীর বিচিত্রতা ও শিল্পীগণের নিখুঁত শিল্পকলার

সাথে নানান রূপকল্পনা এবং ধর্মীয় পরিপাটির প্রকাশ সত্যই মন ছুঁয়ে যায়। 

একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যায় যে সম্মিলিত প্রভাবে প্রতিটি মূর্তি যেন অদ্বিতীয় হয়ে ওঠে। আর এভাবেই এই

উৎসব রূপে গুণে এক বিশাল আনন্দ ও ভক্তির উৎসব এই শাক্তরাস উৎসব।


নবদ্বীপ রাস যাত্রায় বিশেষ আকর্ষণ ডুমুরেশ্বরী মাতা।

এই রাস যাত্রা নানান নামে বিখ্যাত যেমন::----রাস, পট পূর্নিমা, শাক্তরাস, রাসযাত্রা, রাস-কালী।

প্রধানত শাক্ত হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাঙালি গণই এই পুজোর আয়োজন করে থাকেন।

এই রাস যাত্রার প্রধান পর্ব গুলি::--

পূজা, বলি দান, আড়ং, বিসর্জন।


রাস পূর্নিমা বা কার্তিকীপূর্ণিমার দিন বিশালাকার মূর্তি গড়ে প্রার্থনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেবী আরাধনা

শুরু, মূলত পাটা পুজোর মাধ্যমে।


রাস যাত্রা মূলত কৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকরণে বৈষ্ণবীয় ভাবধারায় অনুষ্ঠিত এক ধর্মীয় উৎসবের মহা মিলন ক্ষেত্র। তবে নবদ্বীপের রাস প্রধানত শাক্তরসা। 


নবদ্বীপের জনসমাজে আবহমানকাল থেকেই ধর্ম-সংস্কৃতিতে তান্ত্রিক বীরাচারের প্রাধান্য দেখা যায়। মদ-মাংস (পঞ্চমকারের প্রধানবস্তু) ইত্যাদি আড়ম্বর নিয়েই বীরাচারের আরাধনা।


নবদ্বীপের শাক্তরাসের কারনে বৈষ্ণবীয় রাসের সাত্ত্বিক ধারা অনেকটাই কোণঠাসা। 


এই সময় এই একই দিনে নবদ্বীপে

মন্দির অভ্যন্তরে রাধাকৃষ্ণের রাসচক্র লীলা  অনুষ্ঠিত হয়।

 তবে মনে হয় যে এই রাসলীলার আড়ম্বর যেন জাঁকজমকপূর্ণ শাক্তরাসের পাশে বেশ খানিকটা ম্রিয়মান। 

নানা তথ্য প্রমাণ দ্বারা জানাজায় যে নবদ্বীপে চৈতন্যদেব রাধাকৃষ্ণের রাস উৎসবের সূচনা করেছিলেন। সেই হিসাবে ষোড়শ শতাব্দীর প্রারম্ভেই রাসের সূচনা হয়েছিল। তবে চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস গ্রহণের পর নবদ্বীপের বৈষ্ণব আন্দোলন বেশ খানিকটা  স্তিমিত হয়ে পড়ে। 


সেই সময় গৌরাঙ্গ-পরিজনেরা বাধ্য হয়ে নবদ্বীপ ত্যাগ করে স্থানান্তরে গমন করেন। ফলে বৈষ্ণবীয় উৎসব অনুষ্ঠানের সেই ধারাবাহিকতা বিশেষ ভাবে ব্যাহত হয় ।  


দ্বিতীয় পর্যায়ে নবদ্বীপে যে রাস উৎসবের সূচনা হয় তা অভিনব এবং বাংলার ধর্মীয় ইতিহাসে তা অদ্বিতীয়।


রাস উৎসব শুরু হবার আগে নবদ্বীপে কয়েকটি কালীমূর্তি পূজার প্রচলন ছিল। 

তার মধ্যে বিশেষ উল্লেখ যোগ্য কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ প্রতিষ্ঠিত নবদ্বীপের আগমেশ্বরী মাতা।


নানান স্থানে ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় নিপীড়িত সাধারণ মানুষ তন্ত্রকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিল।

এছাড়া প্রাচীন কাল থেকেই বঙ্গদেশ তন্ত্রসাধনার ঐতিহাসিক পীঠস্থান ছিল। 

জনশ্রুতি আছে, মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রত্যক্ষ পোষকতায় এদেশে ব্যাপকভাবে কালীপূজার প্রসারণ ঘটে। 







পট পূর্ণিমা::---


উনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে রাজা গিরীশচন্দ্রের পোষকতায় প্রবর্তন হয় রাস উৎসবের। সেই সময়ে পুজো হতো পটে, নাম ছিল 'পট-পূর্ণিমা’। পরবর্তী সময়ে 

মৃন্ময়ী মূর্তি নির্মাণ করে পূজো অনুষ্ঠিত হতো। এই সময় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও ঈশ্বরচন্দ্রের আমলে প্রবর্তিত কালীমূর্তিগুলির পূজার কাল পরিবর্তিত হয়ে কার্তিকী পূর্ণিমায় হয়েছিল এবং রাস উৎসবকে প্রাচীনত্ব প্রদান করেছিল।




★★★★

 শাক্ত রাস:::---




নবদ্বীপের শাক্তরাস বিষয়ে প্রথম লিখে ছিলেন গিরিশচন্দ্র বসু। 

ইনি ১৮৫৩-১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে নবদ্বীপ-শান্তিপুর ও কৃষ্ণনগরের দারোগা ছিলেন। তার রচিত “সেকালের দারোগা কাহিনী” তে নবদ্বীপের রাস সম্পর্কে তিনি লিখেছেন::----


রাসপর্বে শান্তিপুরে যেমন রঙ্গতামাসা এবং বহুলোকের সমাগম হয়, নবদ্বীপেও এই পূর্ণিমায় পটপূজা উপলক্ষে সেইরূপ সমারোহ হইয়া থাকে। নবদ্বীপের পটপূজা অতি প্রসিদ্ধ ব্যাপার। নামে পটপূজা কিন্তু বাস্তবিক ইহা নানাবিধ প্রতিমার পূজা। দশভূজা, বিন্ধ্যবাসিনী, কালী, জগদ্ধাত্রী, অন্নপূর্ণা প্রভৃতি দেবদেবীর মুর্তি গঠিত হয়। নদীয়া, বুইচপাড়া ও তেঘরির প্রায় প্রত্যেক পল্লীতেই এক একখানি করিয়া প্রতিমা হয়। প্রতিমাগুলি অত্যন্ত হালকা এমন কি ৫/৬ জন মজুরে তাহা স্কন্ধে করিয়া নাচাইতে পারে।

পটপূজার বিসর্জনের দিন উপস্থিত হইল। যে সকল স্থানে বহু প্রতিমা হয়, তাহার সর্বত্রই বিসর্জনের দিবস কোনও এক নির্দিষ্ট স্থানে এবং দর্শকদিগের মনোরঞ্জনের নিমিত্ত সমুদয় প্রতিমা আনিয়া একত্রিত করা হয় এবং ইহাকে কৃষ্ণনগর অঞ্চলে প্রতিমার আড়ঙ্গ কহে। পটপূজার বেলা দ্বিতীয় প্রহরের সময় আরম্ভ হইয়া সন্ধ্যার অনেক পূর্ব্বেই শেষ হইয়া যায়।"


=====================


  












কিছু নবদ্বীপ রাস প্রতিমার ইতিহাস


রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের (১৭২৮-১৭৮২ খ্রী) পৃষ্ঠপোষকতায় নবদ্বীপের শাক্ত রাসের প্রভূত উন্নতি হয়েছিল, সেই সময় রাজ পোষকতায় নানা পূজার শুরু হয়।

যেমন::--

এলানিয়া কালী।

তেঘরিপাড়ায় বড়শ্যামা মাতা।

চারিচারাপাড়ায় ভদ্রাকালী।

ব্যাঁদড়াপাড়ার নৃত্যকালী।


কথিত আছে ঢাকা নিবাসী শক্তি উপাসক 

ভৃগুরাম ১৭২৮ খ্রিস্টাব্দে নবদ্বীপে এসে ভাগীরথীর তীরে মহাশ্মশানে পঞ্চমুণ্ডির আসন স্থাপন করে শক্তি আরাধনায় ব্রতী হন, এই কালীর নাম এলানিয়াকালী। 

এই এলানিয়াকালীই নবদ্বীপ রাস পূর্ণিমা শাক্ত মূর্তি হিসাবে ধরা হয়। এই প্রতিমা পঞ্চমুন্ডি আসনে বিরাজমান। এটি সর্বপ্রথম পূজা হিসাবে ধরা হয়ে থাকে।


বড় শ্যামা::---

চারিচারাপাড়ায় ভদ্রকালী:---

 


জগদ্ধাত্রী পূজা:::---


নদিয়ারাজ গিরীশচন্দ্র (১৮০২-৪২ খ্রি.) ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্রের প্রকৃত উত্তরসূরি। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় বাংলার মাটিতে তন্ত্রাচারের যে বীজ বপন করেছিলেন, গিরীশচন্দ্রের উপযুক্ত পরিচর্যা ও জলসিঞ্চনে তা হয়ে উঠেছিল মহীরূহ। গিরীশচন্দ্র ছিলেন নিষ্ঠাবান তন্ত্রসাধক ও পরধর্মসহিষ্ণু। বৈষ্ণব-ঐতিহ্য অনুসারে তীর আমলেই নবদ্বীপে গড়ে উঠেছিল বৈষ্ণবীয় মন্দির এবং সূচনা হয়েছিল উৎসব, অনুষ্ঠান ও চৈতন্যচর্চার। তার আমলেই প্রচুর অর্থব্যয়ে হটহটিকা বাসন্তীপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রকাণ্ড মূর্তি নির্মাণ করে। শান্তিপুর সন্নিহিত সূত্রাগড়ে জগদ্ধাত্রী পূজার প্রচলন র্তারই কীর্তি। নবদ্বীপের রথযাত্রা ও দোলযাত্রায় তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করতেন। ব্যাদড়বংশের আদি পুরুষ রাজারাম পূর্ববঙ্গ থেকে নবদ্বীপে এসেছিলেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আমলে। বর্তমানে (২০০৫ খ্রিঃ অনুযায়ী) এই বংশের নবম পুরুষ আসীন। হিসাব অনুযায়ী ২৫×৯ = ২২৫ বছর আগে অর্থাৎ (২০০৫-২২৫) = ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে তিনি নবদ্বীপে এসেছিলেন, এই তথ্যানুযায়ী ব্যাদাড়াপাড়ার শবশিবার প্রতিষ্ঠাকালও কৃষ্ণচন্দ্রের উত্তরকালে। কারণ রাজারাম নবদ্বীপে এসে প্রথমে ঘর গোছানোর কাজে মনোনিবেশ করেছিলেন; বাসস্থান নির্মাণ, অন্নের সংস্থান প্রভৃতি বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের পর তবেই তিনি শক্তিপূজা প্রবর্তনে উদ্যোগী হয়েছিলেন। ক্ষেত্র সমীক্ষা করে জানা যায় যে, ব্যাদাঁড়াবিংশের আদিপুরুষ রাজারাম কর্তৃক শব্বশিবার পূজা প্রতিষ্ঠা হয়েছিল গিরীশচন্দ্রের আমলে। মূর্তির অভিনব রূপ কল্পনায় সাংখ্যের ত্রিগুণাত্মিক প্রকৃতিতত্ত্ব এবং তন্ত্রের বিপরীতরতাতুরা তত্ত্বের মিশ্রণ ঘটেছে এখানে।

শবশিবা ছাড়াও তারই আমলে যেসব রাস প্রতিমা পুজোর সূচনা ঘটেছিল নবদ্বীপে, তার মধ্যে অন্যতম হলো—নন্দীপাড়ার মহিষাসুরমর্দিনী, পুরাণগঞ্জ ও বুড়োশিবতলার বিন্ধ্যবাসিনী, মহাপ্রভুপাড়ার গোঁসাইগঙ্গা, দণ্ডপাণিতলার মুক্তকেশী, আমপুলিয়াপাড়ার শবশিবা, রামসীতাপাড়ার কৃষ্ণমাতা ইত্যাদি। আমপুলিয়াপাড়ার শবশিবা ছিলেন মহামহােপাধ্যায় শিতিকণ্ঠ বাচস্পতির ইষ্টদেবী।

পুরাণগঞ্জ গঙ্গাগর্ভে নিমজ্জিত হওয়ার পর এখানকার বিন্ধ্যবাসিনী উঠে আসে শ্রীবাস অঙ্গনে।


পাটা পূজা



পাটা পূজা, কোজাগরী পূর্ণিমার দিন পাটা পূজা

নবদ্বীপের রাস উৎসবের সূচনা হয়ে যায় পাটা পুজোর মাধ্যমে। পাটা হলো শাল কাঠের তৈরী একটি কাঠামো, এর উপরেই মূল ঠাকুরের কাঠামো তৈরী করা হয়। দেবী পূজার মতো পাটা পূজাও মহা সমারোহে উদ্‌যাপন করা হয় বিজয়া দশমী, কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা এবং কালী পুজোর দিন এই পাটা পুজো হয়। ওই দিন মহা ধুমধাম সহকারে এই পাটা পূজা করা হয়। এরপরই ঠাকুর তৈরির কাজ শুরু করা হয়। সাধারণত সারা বাংলায় লক্ষ্মী পুজোর দিন বেশি আওয়াজ না করার রীতি আছে তবে নবদ্বীপে পাটা পুজোর সময় (লক্ষ্মী পুজোর দিন) বাজি, শব্দ বাজি ফাটানো হয়।


মৃৎশিল্প ও নবদ্বীপ রাস

রাস মেলা বা উৎসব যখন থেকে শুরু তখন থেকে  রাস উৎসব শুরু হয়ে ছিল 'পট' পূজার মাধ্যমে । 

জানাজায় মাটির প্রতিমা তৈরির জন্য

মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আমন্ত্রণে মৃৎশিল্পীরা নাটোর থেকে নবদ্বীপে আসেন। 

জানাজায়  কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীরা ইংরেজদের পৃষ্ঠপোষকতাতেই বেড়ে ওঠে ছিল।


পটপূজার পরে ক্রমে মৃন্ময়ী(মাটির) মূর্তিপূজোর প্রচলন হয়। তখন লোকমুখে রাস উৎসব ‘রাসকালী” পূজা নামে পরিচিত ছিল। 


তারপর থেকে একে একে বিশাল বিশাল মূর্তি নির্মাণে নবদ্বীপের শিল্পীদের অসাধারণ দক্ষতা কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে। অনেক জায়গাতেই বিশাল মূর্তি হয় কিন্তু নবদ্বীপের রাসের মূর্তি বিশালত্বের মধ্যেও প্রতিটি অঙ্গের আনুপাতিক মাপ বজায় রাখা হয়।


"নবদ্বীপের মূর্তির বিশালত্বের মধ্যেও প্রতিটি অংশের সুষমা অক্ষুণ্ণ রাখা, বিভিন্ন দেবতার শাস্ত্রীয় কল্পনাকে মাটির সাহায্যে বাস্তবে রূপায়িত করা বিশ্বের যে কোন দেশের পক্ষে যুগপৎ বিস্ময় ও গৌরবের বস্তু" - কার্টুনিষ্ট চণ্ডী লাহিড়ি


নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীদের নির্মাণশৈলীর প্রশংসায় দেশ-বিদেশে সমান প্রচারিত। নবদ্বীপের শিল্পীরা বিশালাকার মূর্তি নির্মাণে স্বকীয়তার স্বাক্ষর রেখেছেন। নবদ্বীপের মৃৎশিল্পীদের সম্পর্কে ড. সুধীর চক্রবর্তী লিখেছেন,


অতিবড় মূর্তির অবয়ব গঠনে মৃৎশিল্পীর দক্ষতা প্রশ্নাতীত। ভারসাম্য ও বিন্যাস একেবারে নিখুঁত জ্যামিতিক। কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীরা ছোটাে পুতুলে দক্ষ কিন্তু এতবড় মূর্তি গড়তে পারবে না। চন্দননগরের মৃৎশিল্পীরা বিশাল জগদ্ধাত্রী গড়তে পারেন। কিন্তু তার সুষমা কম।★★


সবটাই ঢেকে যায় শোলার সাজের আড়ম্বরে। নবদ্বীপের সবকটি মৃৎমুর্তি সুসম, সুগঠিত ও লাবণ্যময়। এ গঠনে ধরা আছে বহুদিনের রক্তগত জাতিবিদ্যার অহংকার।

নবদ্বীপের খ্যাতিমান মৃৎশিল্পীরা হলেন – সন্দু পাল, ফন্তে পাল, বেঁটে পাল, পাল, নানু পাল, বিজন পাল, জগদীশ বিশ্বাস, রমেন পাল (জুনিয়র), প্রদীপ৷ দাস, নাড়গোপাল দাস, অচিন পাল, ললিত পাল, কান্তি পাল, শিবু, পাল, কাশীনাথ পাল, হাজারী পাল, বলাই পাল, কালী পাল, ধর্ম পাল, প্রশান্ত পাল, গৌরাঙ্গ পাল, দেবাশিস পাল ,গৌতম সাহা প্রমুখ। পাথরের মূর্তি নির্মাণে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন রমেন পাল (১৯২৬-৯২ খ্রি.)।


প্রতিমা ও চালচিত্র


নবদ্বীপ রাসে শতাধিক বছরের প্রাচীন যে সকল শাক্ত দেবী পূজিত হয়, সেই সকল প্রতিমার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল চালচিত্রের প্রয়োগ। গৌরাঙ্গিনী মাতা, মহিষমর্দিনী, ভদ্রকালী, নৃত্যকালী, শবশিবা মাতা, দেবী গোষ্ঠমাতা, রণকালী মাতা প্রভৃতি প্রতিমাগুলিতে চালচিত্রের ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যায়। প্রতিমায় চালচিত্রের প্রয়োগ নবদ্বীপ রাসযাত্রার প্রাচীনত্বকে তুলে ধরে। বিখ্যাত লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ সুধীর চক্রবর্তী তার সুধীর চক্রবর্তী রচনাবলী, ১ খণ্ড পুস্তকে নবদ্বীপ চারিচারাবাজারের ভদ্রকালী মাতার চিত্রসহ চালচিত্রের বর্ণনা দিয়েছেন।


নবদ্বীপ শাক্তরাসের চিত্রসম্ভার


বড়শ্যামা মাতা।

মেজ শ্যামা ।

সেজ শ্যামা ।

ছোট শ্যামা ।

কাত্যায়নী মাতা ।

নবদুর্গা মাতা ।

তারামা ।

নবদ্বীপ রাসের কালী ।

বামা কালীমাতা ।

রণ কালী মাতা ।

কালী মাতা ।

চন্ডি মাতা ।

বিন্ধ্যবাসিনী ।

চারিচারা পাড়ার ভদ্রাকালী ।

শবশিবা মাতা ব্যাদরাপাড়া ।

নৃত্য কালী ব্যাদড়াপাড়া।

মহিষমর্দিনী ব্যাদড়াপাড়া ।

দেবী গোষ্ঠমাতা ।

মহীরাবণ বধ ।

ডুমুরেশ্বরী মাতা ।

নবদ্বীপের রাসের প্রতিমা ।

মুক্তকেশি চারিচারা বাজার ।

গৌরাঙ্গিনী ।

গৌরাঙ্গিনী যোগনাথ তলা ।

=============================









No comments:

Post a Comment